পাহাড়ে যৌথ বাহিনীর অভিযানে গোলাগুলি, ইউপিডিএফের তিন সদস্য আটক
একে-২২ রাইফেলসহ অস্ত্র-সরঞ্জাম জব্দ
রামগড় (খাগড়াছড়ি) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬ | ২১:৫৩
খাগড়াছড়ির রামগড়ে যৌথ বাহিনীর অভিযানে পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফের প্রভাবশালী সদস্যসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। শনিবার সেনাবাহিনীর সিন্দুকছড়ি জোনের অধীন জালিয়াপাড়া আর্মি ক্যাম্পের পাতাছড়া ইউনিয়নের বুদংছড়া এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থল তল্লাশি করে একটি একে-২২ রাইফেল, একটি ম্যাগাজিন, পাঁচ রাউন্ড তাজা গুলি, চারটি মোবাইল ফোন ও একটি ওয়াকিটকি জব্দ করা হয়েছে।
অভিযানের সময় ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর গুলিবিনিময় হয়। এতে এক ইউপিডিএফ সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে অত্যাধুনিক একে-২২ রাইফেলসহ বেশ কিছু সামরিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, বুদংছড়া এলাকায় ইউপিডিএফের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী চাঁদা আদায় ও নাশকতার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে– এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। সেনাসদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে অস্ত্রধারীরা অতর্কিতে গুলি ছুড়তে শুরু করে। সেনাসদস্যরাও তাৎক্ষণিক পাল্টা গুলি চালালে রণক্ষেত্র তৈরি হয়।
এক পর্যায়ে সুইথোয়াই মারমা নামে এক ইউপিডিএফ সদস্য ডান কাঁধে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা ইউপিডিএফের অন্যতম রনেল চাকমা ওরফে মন্টু চাকমা এবং রাজু মারমা ওরফে সাচিংসহ তিনজনকে হাতেনাতে আটক করেন। তাদের মধ্যে রনেল চাকমা গুইমারা উপজেলার সিন্দুকছড়ি এলাকার এবং রাজু মারমা রামগড়ের যৌথ খামার এলাকার বাসিন্দা। অন্যদিকে, গুলিবিদ্ধ সুইথোয়াই মারমার বাড়ি রামগড়ের খেদাছড়া এলাকায়। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
রামগড় থানার ওসি মোহাম্মদ নাজির আলম জানান, আটকদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করা হবে। পাহাড়ে শান্তি বজায় রাখতে যৌথ বাহিনীর এই চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
