পটুয়াখালীতে হানিট্র্যাপ
মামলা করে হত্যার হুমকি পাচ্ছেন বাদী-সাক্ষীরা
ব্ল্যাকমেইলে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে রোববার দুপুরে আয়োজিত মানববন্ধন। ছবি: সমকাল
পটুয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬ | ২১:২৩
হানিট্র্যাপের মাধ্যমে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলে জড়িত একটি চক্রের বিরুদ্ধে পটুয়াখালীতে মানববন্ধন হয়েছে। রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে এই কর্মসূচি পালন করেন বাউফল উপজেলার ‘আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের সচেতন নাগরিকে’রা। তাদের অনেকের শরীরে এ সময় কাফনের কাপড় জড়ানো ছিলো।
এ সময় বক্তারা বলেন, জামিনে ছাড়া পেয়ে চক্রটির এক সদস্য মামলার বাদীকে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে তারা ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সংঘবদ্ধ চক্রটির সদস্যরা সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে আপত্তিকর ভিডিও ও ছবি ধারণ করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। গত ১০ মে বাউফলের ওষুধ ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলামের কাছ থেকে ১৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় তারা। এ ছাড়া একই কৌশলে চক্রটি মোহাম্মদ রফিক মীরের ৩ লাখ টাকা, মিজান মীরের ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, সাদ্দাম হোসেনের ৫ লাখ টাকা, ইমরান হাওলাদারের কাছ থেকে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকাসহ নানা ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।
এসব প্রমাণ পেয়ে ১৩ মে রাতে পুলিশ বাউফলের আদাবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. আজাহার খান, যুবলীগ নেতা রাসেল তালুকদার ও কবির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু ১৪ মে তারা আদালত থেকে জামিনে ছাড়া পান। এ ঘটনার পরপরই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তসলিম তালুকদার ও সদস্য সচিব আপেল মাহমুদের সই করা চিঠিতে আজাহার খানকে দলীয় পদপদবী থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর আজাহার খানের কাছ থেকে হত্যার হুমকি পেয়েছেন ভুক্তভোগী ওষুধ ব্যবসায়ী মো. শহিদুল ইসলাম। তিনি গতকালের কর্মসূচিতে বলেন, ‘এই চক্রের ফাঁদে পড়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমি চাই এই চক্রের সঙ্গে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়। যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এ ধরণের প্রতারণা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাহস না পায়।’
কাফনের কাপড় পরে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া অপর ভুক্তভোগী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, আজাহার খান গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জামিনে ছাড়া পান। তিনি কারামুক্ত হয়েই অস্ত্র দেখিয়ে মামলার বাদী ও সাক্ষীদের হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। তাঁর ভয়ে সবাই তটস্থ। আজাহার খানকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে আজাহার খানসহ কারও সঙ্গেই যোগাযোগ করা যায়নি। তাদের ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, কিছুদিন ধরে তারা লাপাত্তা।
রোববার সন্ধ্যায় পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, ‘তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ আজাহার খানসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। তাদের জামিনের এখতিয়ার আদালতের। এখানে পুলিশের করণীয় কিছু নেই। আমরা চাই এসব অপরাধী জেলে থাকুক। কিন্তু আদালত জামিন দিলে পুলিশের কিছু বলার নেই।’
হানিট্র্যাপকে বর্তমান সময়ে উদ্বেগের বিষয় উল্লেখ করে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পটুয়াখালী সদর থানায় মামলা আছে। তারা যদি মামলার বাদী ও সাক্ষীদের হুমকিধমকি বা ভয়ভীতি দেখান, সেক্ষেত্রে অভিযোগ পেলে পুলিশ জামিন বাতিলের জন্য আদালতে আবেদন করবে।
