ঈদের আগে পীরগঞ্জে কামারদের কর্মব্যস্ততা, নেই দম ফেলার সময়
ছবি: সমকাল
পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬ | ১৭:৫৮
কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে কামারশালাগুলোর ব্যস্ততা। আগুনের লেলিহান শিখা, ধোঁয়া আর হাতুড়ির টুংটাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন কামারপাড়া ও বাজার এলাকা। ঈদকে সামনে রেখে দিন-রাত কাজ করছেন কামাররা।
সোমবার সকালে পৌর এলাকার কলেজ বাজার ঘুরে দেখা যায়, কামার বাবুলের কামারশালায় চলছে কর্মব্যস্ততা। জ্বলন্ত চুল্লিতে লোহা গরম করে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে তৈরি করা হচ্ছে নতুন দা-বটি। পাশাপাশি পুরোনো সরঞ্জামে শান দিতেও ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। কামারশালার চারপাশে আগুনের উত্তাপ, লোহার ঝনঝন শব্দ আর শ্রমিকদের ঘাম মিলিয়ে যেন তৈরি হয়েছে এক জীবন্ত শিল্পচিত্র।
কামার উজ্জ্বল বলেন, ‘ঈদুল আজহার সময় আমাদের কাজ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হয়। আমাদের এখানে এখন চারজন কারিগর কাজ করছেন। কেউ নতুন সরঞ্জাম তৈরি করছেন, আবার কেউ পুরোনো জিনিসে শান দিচ্ছেন।’
তিনি আরও জানান, ‘এই মৌসুমে প্রতিদিন হাজার টাকা আয় হলেও লাভ তুলনামূলক কম। তবুও ঈদের আগে মানুষের প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে স্বল্প লাভেই কাজ করছেন তারা।
স্থানীয়রা জানান, কোরবানির ঈদকে ঘিরে কামার দোকানগুলোতে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। আশপাশের গ্রামসহ দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ আসছেন দা, বটি ও ছুরি শান দিতে কিংবা নতুন সরঞ্জাম কিনতে।
ক্রেতা আবুল হোসেন বলেন, ‘ঈদের আগে সব সরঞ্জাম ঠিক করে রাখি। সারা বছর ব্যস্ত থাকায় সময় হয় না, তাই এখন একসঙ্গে সব কাজ করিয়ে নিচ্ছি।’
সংশ্লিষ্টদের মতে, ঐতিহ্যবাহী কামারশিল্প শুধু প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি গ্রামীণ অর্থনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়লেও ঈদুল আযহার মৌসুমে দেশীয় কামারশিল্পের চাহিদা এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে টিকে আছে।
