ঈদে শ্বশুরবাড়ি থেকে খাসি না দেওয়ায় গৃহবধূকে নির্যাতন
কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬ | ০৮:১৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
লক্ষ্মীপুরে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে শ্বশুরবাড়ি থেকে খাসি উপহার না দেওয়ায় এক গৃহবধূকে নির্যাতন ও আগুনে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও তাঁর পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার ইউনিয়নের বালুরচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী গৃহবধূর নাম সুমী আক্তার। সে কমলনগর উপজেলার চরফলকন ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার আবুল কালাম আজাদ চিডুর মেয়ে। গুরুতর আহত সুমীকে শুরুতে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ভুক্তভোগীর স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে সুমীর স্বামী আবদুর রহিমসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন সুমীর পরিবারের কাছ থেকে একটি খাসি দাবি করে আসছিল। সুমির দরিদ্র পরিবারের পক্ষে সেই দাবি মেটানো সম্ভব না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁর ওপর নির্যাতন চালায়। গতকাল মঙ্গলবার সকালে নির্যাতনের এক পর্যায়ে তারা সুমীর মুখমণ্ডল ও শরীরের বিভিন্ন অংশ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
সুমীর মা আমেনা বেগম বলেন, ‘সামান্য একটা খাসির লাইগা আমার কলিজার টুকরাডারে এভাবে পুড়াইয়া দিল?’ তিনি জানান, বিয়ের পর থেকেই সুমীর শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁর ওপর জুলুম করত। প্রতিবছর ঈদ এলেই তাঁর মেয়ের ওপর নির্যাতন করে তারা। এবার তাঁকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারতে চেয়েছিল। তিনি মেয়ের ওপর অত্যাচারের বিচার দাবি করেন।
স্বজনরা আরও জানান, সীমার বাবা আজাদ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে কর্মহীন জীবনযাপন করছেন। তারা ৫ ভাইবোন। বড় ভাই আরিফ হোসেন ও তারেক হোসেন নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। ছোট ভাই ইমন হোসেন কৃষিকাজ করেন। ছোট বোন স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগী সীমা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘বিয়ের পর থেইকা তারা বিভিন্ন সময় টাহা চাইতো। দুই লাখ টাকা যৌতুকও চাইছে। আমরা গরিব মানুষ, এত টাকা দেওনের সামর্থ্য নাই। সোমবার দুপুরে শ্বশুর কোরবানির জন্য একটা ছাগল কিনে দিতে কইছে। আমি কইছি, বাবার অবস্থা ভালো না। এই কথা কইতেই সন্ধ্যায় আমারে মারধর করছে। একপর্যায়ে আগুনও লাগে মুখে। আমি চিৎকার দিলে আশপাশের মানুষ আইয়া আমারে বাঁচাইছে।’
সীমার বড় ভাই আরিফ হোসেন বলেন, ‘আমরা খুব কষ্টে সংসার চালাই। বোনের সুখের জন্য ধারদেনা করে বিয়ে দিছি। এরপরও ওর শ্বশুর বাড়ির থেকে বারবার টাকা চাইতো। এখন আমার বোনরে মাইরা শেষ কইরা ফেলতে চাইছে। আমরা গরিব বইলা কি মানুষের জীবন এতো সস্তা?’
ঘটনার পর থেকে আব্দুর রহিম ও তাঁর পরিবারের লোকজন ঘরে তালা ঝুলিয়ে আত্মগোপনে চলে গেছে। এলাকায় গিয়ে তাদের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ওসি লিটন দেওয়ান জানান, ঘটনাটি তারা শোনেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- নির্যাতন
