হকাররা ফিরেছেন সড়কে, ঈদ ঘিরে তীব্র যানজটের শঙ্কা
হকাররা আবার উঠে এসেছেন মহাসড়কে। ভূলতা-গাউছিয়ায় ফিরেছে যানজটের যন্ত্রণা। সম্প্রতি তোলা সমকাল
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬ | ০৮:২১
| প্রিন্ট সংস্করণ
আগের অবস্থায় ফিরে গেছে রূপগঞ্জ উপজেলার ভূলতা-গাউছিয়া এলাকার যানজট পরিস্থিতি। মাসখানেক আগে উচ্ছেদ হওয়া হকাররা আবার ফুটপাত ও সড়ক দখল করে পসরা নিয়ে বসেছেন। এই এলাকার দেড় কিলোমিটারের মধ্যে পড়েছে দুটি কোরবানির পশুর হাট। ফলে ঈদ ঘিরে এখানে ভয়াবহ যানজটের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
প্রশাসনের একাধিক উচ্ছেদ অভিযানের পরও ভূলতা-গাউছিয়া এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বড় একটি অংশ পুনরায় দখলে নিয়েছেন হকাররা। এতে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। মাসখানেক আগে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানের পর ফুটপাতের হকারদের ভূলতা-গাউছিয়া মার্কেটের পশ্চিম পাশে একটি খোলা স্থানে স্থানান্তর করা হয়। তবে হকারদের অভিযোগ, সেখানে ক্রেতাদের যাতায়াত কম থাকায় তাদের ব্যবসা আশানুরূপ হয়নি। ফলে সুযোগ বুঝে অনেক হকার আবারও তাদের পুরোনো অবস্থান ভূলতা ফ্লাইওভারের নিচের সড়কে ও ফুটপাতে ফিরে এসেছেন। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে তারা আবার পুরোদমে বসতে শুরু করেছেন।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভূলতা-গাউছিয়া এলাকা থেকে আধা কিলোমিটার দক্ষিণে প্রায় ৫০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী গোলাকান্দাইল গরুর হাট বসে। এ ছাড়া এক কিলোমিটার উত্তরে ট্যাংরারটেক এলাকায় কোরবানির ঈদ উপলক্ষে আগামী শুক্রবার শুরু হবে অস্থায়ী পশুর হাট। ভূলতা-গাউছিয়া পেরিয়ে এসব হাটে গরুবোঝাই ট্রাক, পিকআপ ও বিভিন্ন যানবাহন ছাড়াও ক্রেতাদের যাতায়াতে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হবে।
সরেজমিন দেখা যায়, ভূলতা স্কুল অ্যান্ড কলেজ এলাকা থেকে গাউছিয়া মার্কেট, গোলাকান্দাইল গোলচত্বর, হাজী শপিং কমপ্লেক্স ও রাবেত আল হাসান মার্কেট পর্যন্ত মহাসড়কের বিশাল অংশ দখল করে ব্যবসা চালাচ্ছেন হকাররা। মহাসড়কের দুই পাশ ও ফ্লাইওভারের নিচে কোথাও কাপড়, কোথাও জুতা, কোথাও সবজি-মাছের বাজার, সব মিলিয়ে ব্যস্ত সড়কটি যেন অস্থায়ী হাটবাজারে পরিণত হয়েছে। অনেক স্থানে রাস্তার একাধিক লেন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। যেখানে একসঙ্গে তিন থেকে চারটি বাস চলাচল করার সুযোগ থাকার কথা, সেখানে এখন একটি বাস চলাচল করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে চালকদের। যানজটের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহন মহাসড়কে আটকে থাকতে দেখা যায়। ঈদ সামনে রেখে যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করায় স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, প্রশাসন অভিযান চালায়, কয়েকদিন রাস্তা ফাঁকা থাকে, তারপর আবার আগের মতো দখল হয়ে যায়। সাধারণ মানুষ যেন ভোগান্তির শেষ দেখছে না। ভূলতা এলাকায় ঢুকলেই এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়। গাউছিয়া এলাকার ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবির বলেন, মহাসড়ক দখল করে দোকান বসানোর কারণে বৈধ ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন। ক্রেতারা যানজটের ভয়ে এলাকায় আসতে চান না। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের চলমান সড়ক সম্প্রসারণ কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সওজের প্রকল্প কর্মকর্তা প্রকৌশলী মাহবুব রহমান বলেন, ঈদ সামনে রেখে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আমরা কাজের গতি আরও বাড়িয়েছি। যেখানে প্রয়োজন সেখানে রাতেও কাজ চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি সড়কের পাশে নির্মাণসামগ্রী দ্রুত সরিয়ে ফেলা, ঝুঁকিপূর্ণ অংশে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যান চলাচলের জন্য বিকল্প লেন সচল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করছি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয়ে ঈদযাত্রা অনেকটাই স্বস্তিদায়ক হবে।
নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম বলেন, পুলিশ যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে, কিন্তু স্থায়ী সমাধানের জন্য মহাসড়ক পুরোপুরি দখলমুক্ত রাখা জরুরি। রূপগঞ্জ ইউএনও সাইফুল ইসলাম বলেন, উপজেলা প্রশাসন একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে। ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প স্থানও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা আবারও মহাসড়কে ফিরে আসছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- হকার
