ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিশনন্দী ফেরিঘাটে ফিরেছে চাঁদাবাজি

বিশনন্দী ফেরিঘাটে ফিরেছে চাঁদাবাজি
×

আড়াইহাজারের বিশনন্দী ফেরিঘাটে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে চাঁদা তুলছেন এক ব্যক্তি। সম্প্রতি তোলা -সমকাল

আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬ | ০৭:২৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার বিশনন্দী ফেরিঘাটে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে ফের চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের একটি চক্র প্রকাশ্যে চাঁদা তুললেও প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চালক ও মালিকপক্ষ। 

স্থানীয়রা জানান, বিশনন্দী ফেরিঘাটে চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা গত বছরের জুলাইয়ে চাঁদাবাজি বন্ধে ধর্মঘট পালন করেন। এতে ভূলতা-বিশনন্দী আঞ্চলিক মহাসড়কের আড়াইহাজার-গোপালদী-রামচন্দ্রদী রুটে যান চলাচলে অচলাবস্থায় দেখা দেয়। ওই সময় চালকরা অভিযোগ করেন, ফেরিঘাটে নির্ধারিত টোল পরিশোধের পরও দিনে তাদের কাছ থেকে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়। এ ঘাটে দিনে চারটি ফেরি পারাপার করে।

ওই সময় বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বর্তমান সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে প্রশাসন আড়াইহাজার উপজেলার সব সড়ক-মহাসড়কে টোল কিংবা অন্য যে কোনো নামেই হোক সব ধরনের চাঁদাবাজির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এরপর সড়ক-মহাসড়কের চাঁবাবাজি বন্ধ হয়ে যায়। 
তবে গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ফেরিঘাটে ফের চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন চালকরা। তারা বলছেন, ফেরিঘাট দিয়ে চলাচলকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশাপ্রতি ৩০ থেকে ১০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। 
বিশনন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গাজী মাসুদের নেতৃত্বে এ চাঁদাবাজি চলছে বলে জানা গেছে। এ জন্য ৪-৫ জন লোক ঘাটে নিয়োজিত রয়েছেন। তারা হচ্ছেন আনোয়ার হোসেন, সাইফুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম, শাকিল মিয়া ও আল আমিন। 
চাঁদা আদায়কারী সাইফুল ইসলাম দাবি করেন, নেতার নির্দেশে টোল নেওয়া হচ্ছে। গতকাল বুধবার রাতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে গাজী মাসুদ চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই টোল আদায় করছেন তারা।

জানা গেছে, ফেরিঘাট স্ট্যান্ড থেকে আড়াইহাজার-গোপালদী ও অন্যান্য রুটে চলাচলকারী অটোরিকশা থেকে ৩০ টাকা আর রাজধানীগামী অটোরিকশা থেকে ১০০ টাকা চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, চাঁদা চালু বা বন্ধ থাকলেও অটোর ভাড়ায় হেরফের হয় না। তবে চাঁদা নেওয়া হলে এ রুটে অটো যাতায়াত কিছুটা কমে যায়।
সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক নজরুল ইসলাম, ফারুক মিয়া, শহীদুল্লাহসহ বেশ কয়েকজন জানান, এ স্ট্যান্ডে তিন শতাধিক সিএনজিচালিত অটোরিকশা রয়েছে। প্রতিদিন তাদের কাছ থেকে প্রতি সিরিয়ালের নামে ৩০ টাকা করে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ঢাকা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন গন্তব্য থেকে আসা অটোরিকশার প্রতিটির কাছ থেকে ১০০ টাকা করে নেওয়া হয়। কেউ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চাঁদাবাজ চক্রের হাতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। 
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুর রহমান জানান, ইজারার জন্য কয়েকজন লোক এসেছিল। কিন্তু তাদের টাকা উঠানোর জন্য ইজারা বা কোন ধরনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এরপরও যদি কেউ যানবাহন থেকে অবৈধভাবে টাকা আদায় করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন

×