ধর্ষণের শিকার কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা সালিশে উল্টো বাবাকে জরিমানা
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬ | ০৮:১০
| প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় ৬৫ বছরের এক ব্যক্তির ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৫ বছরের কিশোরী। সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ওই কিশোরীকে জোর করে হাসপাতালে নিয়ে গর্ভপাত করানো হয়।
ঘটনা ধামাচাপা দিতে যুবদল ভাটিয়ারী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হকের উপস্থিতিতে সালিশ বসে। সালিশে ভুক্তভোগীর পরিবারকে এলাকাছাড়া করার হুমকি দিয়ে তার বাবাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযুক্ত মাহাবুবুল আলম ঘটনার পর থেকে পলাতক।
এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা চারজনকে আসামি করে গত সোমবার সীতাকুণ্ড মডেল থানায় মামলা করেছেন। নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে করা মামলার আসামিরা হলেন– মাহাবুবুল আলম (প্রধান আসামি), ফয়জুল হক, রিপন ও চান মিয়া ওরফে চান্দু মিয়া। গত মঙ্গলবার মামলার তিন নম্বর আসামি রিপনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
অভিযোগ রয়েছে, গতকাল বুধবার ভুক্তভোগীর বাবাকে এক প্রকার জিম্মি করে উকিলের কাছে নিয়ে যায় অভিযুক্ত মাহাবুবুলের লোকজন, যাতে তিনি মামলা প্রত্যাহার করেন। মামলা তুলে না নিলে এলাকাছাড়া করার হুমকি দিয়েছে তারা।
ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে গতকাল বুধবার ভুক্তভোগীর বাড়ি যান সমকাল প্রতিবেদক। সেখানে কথা হয় তার মায়ের সঙ্গে। ভুক্তভোগীর মা বলেন, অভাব-অনটনের সংসার। তাদের কোনো ভিটেমাটি নেই। তার ১৫ বছরের মেয়ে বাড়ির পাশে মাঠে গরু চরাত। সেখানেই ৬৫ বছর বয়সী মাহাবুবুল আলম গত বছরের নভেম্বর মাসের দিকে তাকে ফুসলিয়ে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে।
প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর গত ৮ মে স্থানীয় কিছু যুবক (ধর্ষকের অনুসারী) ভুক্তভোগীকে জোর করে চট্টগ্রামের বেসরকারি একটি হাসপাতালে নিয়ে গর্ভের সন্তান নষ্ট করে। এ সময় ধর্ষকের পক্ষ নিয়ে কিছু যুবক ভুক্তভোগীর বাবার দোকান ও বসতঘর ভাঙচুরের চেষ্টা করে।
গত মাসে যুবদলের কার্যালয়ে এ বিষয়ে সালিশ বসে। সালিশে প্রধান আসামি মাহাবুবুল আলমকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া ভুক্তভোগীর বাবাকেও সমপরিমাণ টাকা জরিমানা করা হয়। ১০ তারিখের মধ্যে টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও প্রধান আসামি জরিমানার টাকা পরিশোধ করেনি।
অভিযোগ সম্পর্কে যুবদল ভাটিয়ারী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হক (মামলার ২ নম্বর আসামি) বলেন, ‘আমাকে কেন আসামি করা হয়েছে, জানি না।’ তাঁর দাবি, সালিশ বৈঠক দলীয় কার্যালয়ে হয়নি। ভুক্তভোগীর বাড়ির সামনে রাস্তায় হয়েছে। তবে সালিশে তিনিও ছিলেন বলে নিশ্চিত করেন।
জানতে চাইলে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। রিপন নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে সামাজিক বৈঠকে ধর্ষণের ঘটনার বিচার করার কোনো সুযোগ নেই। এ বিচার যারা করেছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
- বিষয় :
- ধর্ষণ মামলা
