ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ধরাছোঁয়ার বাইরে ‘মার্ডার ফিরোজ’

ধরাছোঁয়ার বাইরে ‘মার্ডার ফিরোজ’
×

রংপুরের বদরগঞ্জে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে রংপুর-পার্বতীপুর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে এলাকাবাসী -সমকাল

রংপুর অফিস

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬ | ০৮:৪৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

পৃথক হত্যা, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্বসহ একাধিক মামলার আসামি হিসেবে পরিচিত ‘মার্ডার ফিরোজ’ ওরফে ফিরোজ শাহর বিরুদ্ধে আবারও প্রকাশ্যে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। রংপুরের বদরগঞ্জে দিবালোকে এক রিকশাভ্যান চালককে কুপিয়ে হত্যার ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবিতে তারা আন্দোলনে নেমেছেন।

গত ৫ মে বিকেলে বদরগঞ্জ পৌরসভার আম্বিয়ার মোড় এলাকায় স্থানীয় পাঠানপাড়া গ্রামের রিকশা ভ্যান চালক আরিফুল ইসলামকে (২৮) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মার্ডার ফিরোজ ও তার সহযোগীরাই প্রকাশ্যে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। 
ঘটনার রাতেই নিহতের বাবা রেজাউল ইসলাম বদরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় ফিরোজ শাহকে। তবে ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী গত মঙ্গলবার বিকেলে বদরগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে রংপুর-পার্বতীপুর সড়ক প্রায় ৪৫ মিনিট অবরোধ করেন। এ সময় তারা সাত দিনের মধ্যে মার্ডার ফিরোজকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। এর আগে একই দাবিতে বদরগঞ্জ পৌর শহরে দুই দফা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশও করেছেন স্থানীয়রা।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে বদরগঞ্জের শংকরপুর গ্রামের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রেজাউল ইসলাম রানাকে হত্যার অভিযোগে ফিরোজ শাহর বিরুদ্ধে মামলা হয়। ওই মামলায় চার্জশিট দেওয়ার পর থেকেই এলাকায় তাঁর নামের সঙ্গে যুক্ত হয় ‘মার্ডার ফিরোজ’ উপাধি। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ফিরোজ এলাকায় একটি সশস্ত্র গ্রুপ গড়ে তোলেন, যা স্থানীয়ভাবে ‘মার্ডার ফিরোজ গ্রুপ’ নামে পরিচিত ছিল। ওই গ্রুপের মাধ্যমে তিনি চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, দাঙ্গাহাঙ্গামা ও লুটপাট চালাতেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এলাকায় প্রচলিত রয়েছে, তিনি  সাবেক এমপি আবুল কালাম আহসানুল হক ওরফে ডিউক চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তিনি নিজেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা পরিচয় দিতেন। বর্তমানে স্থানীয় বিএনপির এক জনপ্রতিনিধির ঘনিষ্ঠ হয়ে পরিচয় বদলে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা দাবি করতে শুরু করেন। 
গত বছরের ৫ এপ্রিল বদরগঞ্জ পৌর শহরে একটি টিনের দোকানঘর নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে অংশ নেন ফিরোজ। ওই ঘটনায় বিএনপি কর্মী লাভলু মিয়া ও সফিকুল ইসলাম নিহত হন। এ ঘটনায়ও ফিরোজের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রয়েছে, যা বর্তমানে ডিবি পুলিশ তদন্ত করছে।

গত ৫ মে ওই মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে বদরগঞ্জের পাঠানপাড়া গ্রামের মমিনুল ইসলামের সঙ্গে ফিরোজের বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। পরে উভয়পক্ষ এলাকায় ফিরে লোকজন নিয়ে একে অপরকে খুঁজতে থাকেন। এরই মধ্যে মমিনুলের প্রতিবেশী আরিফুল ইসলামকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিহত আরিফুলের স্বজনরা দাবি করেন, আরিফুল কোনো পক্ষের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তিনি পেশায় সাধারণ রিকশাভ্যান চালক ছিলেন।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তী বলেন, ‘কোনো অপরাধীর স্থান বিএনপিতে নেই। মার্ডার ফিরোজকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য আমরা পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছি।’
থানার ওসি হাসান জাহিদ সরকার বলেন, ‘ফিরোজ শাহর বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। দুটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও আছে। তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে আরিফুল ইসলামকে হত্যা করা হয়েছে। আসামিদের ধরতে আমরা তৎপর আছি।’

আরও পড়ুন

×