৫৩ অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের হাতাহাতি
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬ | ০৯:০২
| প্রিন্ট সংস্করণ
নেত্রকোনার পূর্বধলায় অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা ডাক নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে হট্টগোল ও হাতাহাতি হয়েছে। এ ঘটনায় পশুর হাটের উন্মুক্ত ইজারা স্থগিত করেছে উপজেলা প্রশাসন। গতকাল বুধবার দুপুরে পূর্বধলা উপজেলা পরিষদের হলরুমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তাসনীম জাহানের উপস্থিতিতে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় জামায়াতের কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাসুম মোস্তফা। তবে কোনো মারামারির ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু তাহের তালুকদার।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ৫৩টি অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা দেওয়া নিয়ে পূর্বধলা উপজেলা পরিষদের হলরুমে বুধবার দুপুরে আলোচনা চলছিল। ইজারার উন্মুক্ত ডাক শুরুর আগে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। উপজেলা প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পশুর হাটের ডাক স্থগিত করে। পরে পরিষদের সামনে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পশুর হাটের ডাকে অংশ নিতে আসা কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ইজারা প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরপরই পশুর হাটের নিয়ন্ত্রণ ও সমঝোতা নিয়ে উপস্থিত স্থানীয় জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তাৎক্ষণিক ইজারা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তাসনীম জাহান। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু তাহের তালুকদার বলেন, ডাকে সবগুলো পশুর হাট নিতে চান জামায়াতের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে বিএনপির লোকজনের সঙ্গে হট্টগোল ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। তাদের লোকজন হামলা বা মারধর করেনি। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা হয়েছে।
নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাসুম মোস্তফা দাবি করেন, তিনি ঢাকায় আছেন। তিনি শুনেছেন অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা নিয়ে স্থানীয় বিএনপির লোকজন তাদের লোকজনের ওপর হামলা করেছে। এতে জামায়াতের কয়েকজন আহত হয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তাসনীম জাহানের ভাষ্য, সরকারি নিয়ম মেনে অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ৫৩টি অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা ডাক আহ্বান করা হয়েছিল। কিন্তু তারা যখন ডাকের শর্ত সকলের সামনে পড়ে শোনাচ্ছিলেন, তখন হঠাৎ করে কিছু লোক চলে আসে এবং হলরুমের ভেতর হট্টোগোল শুরু করে। পরে পরিস্থিতি খারাপ দেখে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে হাটের ডাক বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে আহত হওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই।
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ইজারা শুরু হওয়ার সময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তবে ভেতরে কোনো হট্টগোল হয়নি। তিনি শুনেছেন বাইরে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টাধাওয়া হয়েছে। তবে আহত হওয়ার কোনো খবর পাননি। এ নিয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি।
নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, পূর্বধলায় কোরবানির পশুর হাটের ইজারা নিয়ে আলোচনার সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইজারা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- পশুর হাট
