ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

তিন দিনেও ফেরেনি বিদ্যুৎ, অন্ধকারে ১০ গ্রাম

তিন দিনেও ফেরেনি বিদ্যুৎ, অন্ধকারে ১০ গ্রাম
×

 সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬ | ০৯:২৩ | আপডেট: ২২ মে ২০২৬ | ১১:১৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

ঝড়ের তাণ্ডবে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ভেঙে পড়েছে বিদ্যুৎব্যবস্থা। ঝড়ের কারণে খুঁটি উপড়ে যাওয়া, তার ছিঁড়ে পড়া ও ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পৌরসভাসহ ছয়টি ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামে টানা তিন দিনেও বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক হয়নি। অন্ধকারে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন গ্রাহকরা। ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

গত রোববার দিবাগত রাতে উপজেলার তারাপুর, দহবন্দ, শান্তিরাম, সোনারায়, বামনডাঙ্গা, বেলকা ইউনিয়ন ও সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে যায়। এর তাণ্ডবে গাছ উপড়ে পড়ে এবং ডাল ভেঙে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যায়। এতে অন্তত ২০টি গ্রাম ও মহল্লার বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
সুন্দরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্র জানায়, ঝড়ে উপজেলার ২২টি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে। নষ্ট হয়েছে ১০টি ট্রান্সফরমার। এছাড়া প্রায় ২০০ স্থানে গাছ পড়ে তার ছিঁড়ে যায়। গ্রাহকদের প্রায় ২০০টি মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অর্ধশতাধিক খুঁটি হেলে পড়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০ জন কর্মী দিনরাত কাজ করলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ১১টি ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে মেরামত কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

বেলকা ইউনিয়নের বাসিন্দা হায়দার আলী বলেন, ‘তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। মোবাইল, ল্যাপটপ, ফ্রিজ, ফ্যান, রাইস কুকার–সবকিছু বন্ধ হয়ে আছে। শিশুদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে। ঈদের আগে এমন পরিস্থিতিতে পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি।’

দক্ষিণ ধুমাইটারি গ্রামের অটোবাইক চালক ফরমান আলী বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় অটোর ব্যাটারি চার্জ দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে তিন দিন ধরে গাড়ি চালাতে পারছি না। আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ঈদের আগে এমন অবস্থা খুবই বিপদে ফেলেছে।

কম্পিউটারবিষয়ক ব্যবসায়ী সালাম মিয়া বলেন, ‘বিদ্যুতের ওপরই আমাদের ব্যবসা নির্ভরশীল। তিন দিন ধরে দোকান প্রায় বন্ধ। বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও নেই। দ্রুত লাইন চালু না হলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।’ 

সুন্দরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মো. আব্দুল বারী বলেন, ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় দ্রুত সব এলাকায় সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ১৮ মে থেকে ৫০ জন জনবল দিনরাত কাজ করছেন। গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে আগে সংযোগ চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যেই সব গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঈদ সামনে রেখে ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কার্যক্রম যখন জমে ওঠার কথা, তখন বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে পুরো জনজীবন অচল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চরাঞ্চল ও গ্রামীণ এলাকায় রাত নামলেই নেমে আসছে ব্যাপক ভোগান্তি। অনেকেই মোবাইল চার্জ দিতে দূরের বাজারে ছুটছেন। কেউ কেউ আবার বিকল্প হিসেবে জেনারেটর ব্যবহার করলেও তাতে খরচ বাড়ছে কয়েকগুণ।

আরও পড়ুন

×