কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল
অনিয়মের অভিযোগে বদলি, চার মাসের মাথায় আগের পদে বহাল
সংগৃহীত
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬ | ২০:৪৪
কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের প্রধান সহকারী মো. ইউনুস আলীকে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে বদলির চার মাসের মাথায় আবার আগের পদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিয়ে কুড়িগ্রামের জনমনে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী সরকারের সময়ে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের পৃষ্ঠপোষকতায় হাসপাতালকে ঘিরে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন প্রধান সহকারী মো. ইউনুস আলী।
দু’দফা তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক গত ২৫ জানুয়ারি ইউনুস আলীকে উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি অসাধু সিন্ডিকেটকে ম্যানেজ করে গত ১৮ মে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে আগের পদেই ফিরে আসেন ইউনুস আলী। অভিযোগ উঠেছে, বদলির পরও ইউনুস আলীর প্রভাব এতটুকু কমেনি বরং নতুন করে ফিরে এসে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, দুর্নীতির অভিযোগেই ইউনুস আলীকে বদলি করা হয়েছিল। অর্থের প্রভাব খাটিয়ে আবারও তিনি হাসপাতালে ফিরে এসেছেন। যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন স্টাফকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এতে আতঙ্কের মধ্যে আছেন তারা।
স্থানীয়দের দাবি, এ ঘটনা প্রমাণ করে স্বাস্থ্য বিভাগের ভেতরে এখনও দুর্নীতিবাজদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রাজ্য জ্যোতি বলেন, অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে জর্জরিত একজন কর্মকর্তার এত দ্রুত একই কর্মস্থলে পুনর্বহাল হওয়া শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতাই নয়, বরং এটি দুর্নীতিবাজ চক্রের শক্ত অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ। রোগী, সাধারণ মানুষ ও কুড়িগ্রাম হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝেও এ নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ভাষাসংগ্রামী সামিউল হক নান্টু বলেন, ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা বলা হলেও বাস্তবে প্রভাবশালী কর্মচারীদের ক্ষেত্রে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বরং অভিযোগ ওঠার পর সাময়িক বদলি আর পরে পুনর্বহালের সংস্কৃতি দুর্নীতিকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছে।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইউনুস আলীর ব্যক্তিগত নম্বরে একাধিকবার কল ও খুদেবার্তা পাঠানো হলেও সাড়া দেননি তিনি।
কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নুর নেওয়াজ আহমেদ বলেন, ‘কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী দুর্নীতিবাজ তা স্থানীয় সাংবাদিকরা ভালো জানেন। সুতরাং আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যা আদেশ করেন আমি তা পালন করতে বাধ্য। যে কারণে ওই কর্মচারীর পুনরায় যোগদানপত্র গ্রহণ করেছি।’
- বিষয় :
- কুড়িগ্রাম
