ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ফসলহানিতে ম্লান ঈদের আনন্দ

ফসলহানিতে ম্লান ঈদের আনন্দ
×

 আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ)

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬ | ০৭:৫৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানেই আনন্দ। কিন্তু এ বছর ঈদের সেই আনন্দ নেই তাহিরপুর উপজেলার হাওরসংলগ্ন গ্রামগুলোতে। এমনকি ঈদ উদযাপনে নেই কোনো প্রস্তুতি। বরং অকাল বর্ষণ আর ঢলে ফসলহানির কারণে বিবর্ণ হয়ে গেছে এখানকার জনজীবন। দুঃখ আর বুকভরা হতাশা নিয়ে এ বছর ঈদ পালন করবেন হাওরপারের মানুষ।

উপজেলার বিভিন্ন হাওরপারের গ্রামগুলো ঘুরে দেখা যায়, কৃষকের ঘরে এবারের ঈদ যেন বাড়তি কষ্ট নিয়ে এসেছে। হাওরের ফসল রক্ষাবাঁধ না ভেঙে শুধু বৃষ্টির পানিতেই সর্বনাশ হয়েছে কৃষকের। ধান তলিয়ে যাওয়ায় এবার কৃষক পরিবারগুলোতে ঈদের আমেজ নেই। সন্তানদের সান্ত্বনা দেওয়ার মতো কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছেন না তারা।

শুধু তাই নয়, নাওয়া খাওয়া ভুলে পানি থেকে তুলে আনা ধান শুকাতে না পারার যন্ত্রণাও রয়েছে। কষ্ট করে যা শুকানো হয়েছে তাও আবার কালচে রঙের ধান; যা কোনো ক্রেতা বা পাইকারের কাছে বিক্রি করা যাচ্ছে না।

কৃষকরা জানান, এ বছর ধান রোপণের খরচের চাইতে ধান কাটা এবং ওঠাতে গিয়ে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ খরচ করতে হয়েছে তাদের। ঘরে খাবার নেই। এবারের ঈদটা তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক। ছোট ছেলেমেয়েরা নতুন জামা কিনে দেওয়ার জন্য কান্নাকাটি করলেও তাদের কিছুই দেওয়া সম্ভব না।

উপজেলার শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের হুকুমপুর গ্রামের কৃষক আবুল কালাম আজাদ জানান, এ বছর ফসলহানির কারণে তাদের গ্রামসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে কোরবানি দেওয়া হবে না। যে পরিমাণ ধান পানি থেকে ওঠানো হয়েছে শুকানোর পর তা একেবারে কালো রং ধারণ করেছে। কোনো ক্রেতা পাননি এই ধানের।
তাহিরপুর উপজেলার শনির হাওরপারের ভাটি তাহিরপুর গ্রামের কৃষক লগুছ মিয়া বলেন, তাঁর নিজের কোনো জমি নেই। বর্গাচাষে তিনি অন্যের জমি চাষাবাদ করেন। এ বছর তিনি ৮ কিয়ার (৩০ শতকে এক কিয়ার) জমি চাষাবাদ করেছিলেন। ধান কাটা শেষ হয়েছে গত ১৫ দিন আগেই। এখন পর্যন্ত তিনি জমির মালিকের বর্গার টাকাই পরিশোধ করতে পারেননি। ঈদের কেনাকাটার প্রশ্নই ওঠে না।
তাহিরপুর বাজারের তৈরি পোশাকের ব্যবসায়ী তানভির মিয়া বলেন, ঈদ উপলক্ষে বেচাকেনা খুবই কম। তাহিরপুর বাজারের ব্যবসা-বাণিজ্য গেরস্তের ওপরই নির্ভর করে। যে বছর হাওরে ফসল ভালো হয় সে বছর বাজারে কেনাকাটা ভালো হয়।

উপজেলার রসুলপুর গ্রামের গরু পাইকার (গরু বিক্রেতা) আব্দুল আজিজ জানান, ঈদের মাত্র বাকি চার দিন। এ পর্যন্ত কাউকে একটি গরু তিনি কিনে নিতে দেখেননি। বিগত বছরগুলোতে ঈদের ১৫ দিন আগেই ৩০ থেকে ৪০টি গরু বিক্রি করেছেন।
শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের নোয়ানগর গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদির বলেন, সরকার ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা প্রদানের জন্য তালিকা প্রস্তুত করিয়েছিল। সহায়তার অর্থ ঈদের আগে পেতেন তাহলে তারা একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুহিবুল ইসলাম বলেন, তাহিরপুরে ৯ হাজার ১৬৭ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে। তাদের কাছে নামের তালিকা রয়েছে ১৮ হাজার ৩১৭ জনের। নাম বাছাই করা একটি বড় কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শনিবার এ-সংক্রান্ত বিষয়ে উপজেলাতে ইউপি চেয়ারম্যানদের নিয়ে একটি সভা করা হবে।  ঈদের আগে সহায়তার টাকা পরিশোধ করা কঠিন।

আরও পড়ুন

×