ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

নাসিরুদ্দীনকে ডিম নিক্ষেপ, অস্ত্র নিয়ে মব সৃষ্টির অভিযোগ বিএনপির

নাসিরুদ্দীনকে ডিম নিক্ষেপ, অস্ত্র নিয়ে মব সৃষ্টির অভিযোগ বিএনপির
×

নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী

 ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬ | ০৮:০৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

ঝিনাইদহে গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজে এক যুবককে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ধরতে দেখা যায়। স্থানীয়রা জানান, ওই যুবকের নাম আশিক। তিনি নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর অনুসারী। 

নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর অভিযোগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ছাত্রদলের নেতা সাহেদ আহম্মেদের নেতৃত্বে হকিস্টিকসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর হামলা করা হয়। ছাত্রদল বলছে, নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর পক্ষে এক যুবক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মব সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন।  
ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হামলার সময় নীল টি-শার্ট পরা এক যুবক আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ধরছেন। এ সময় আরেক যুবক আগ্নেয়াস্ত্রটি তাঁর পকেটে ঢুকিয়ে দেন। দুজনই নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর সমর্থক বলে জানিয়েছে এনসিপি। ইবি ছাত্রদল বলেছে, মব সৃষ্টির জন্য ওই যুবক আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছেন। ঘটনা আড়াল করার জন্য আরেকজন অস্ত্রটি দ্রুত লুকিয়ে ফেলেন। তবে এনসিপি দাবি করেছে, সেটি আগ্নেয়াস্ত্র নয়, লাঠি ছিল। পরে সেটি ওই যুবকের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। 

এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টি-শার্ট পরা যুবকের নাম আশিক এবং সাদা পাঞ্জাবি পরা যুবকের নাম সিয়াম উদ্দিন। এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা জানান, সিয়াম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলার আগের কমিটিতে ছিলেন। 
এদিকে গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে এনসিপির নেতাকর্মীরা থানা থেকে বের হওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন তাদের বাধা দেয়। তারা কয়েকটি মিছিল নিয়ে থানা চত্বরে এসে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। তখন এনসিপি নেতাকর্মীরা সদর থানার ভেতরে অবস্থান করছিলেন। এরপর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাসসহ অন্য নেতাকর্মীরা থানা চত্বরে উপস্থিত হয়ে বিক্ষুব্ধদের সরিয়ে দেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। 

এরপর পুলিশ পাহারায় নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ অন্য নেতাকর্মীদের থানা থেকে নিরাপদে সরিয়ে দেওয়া হয়।
এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় ইবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ, নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর সাথে কথা বলতে যান। এক পর্যায়ে ছাত্রদল নেতা সাহেদ আহম্মেদের পেছন দিক থেকে কিছু যুবক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করে। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে এনসিপির কয়েকজন স্থানীয় কর্মী আহত হয়। এ ঘটনার পর এনসিপির নেতৃবৃন্দ বিক্ষোভ করে।
পরে বিকাল সাড়ে চারটার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে ছাত্রদলের একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলে কারও কাও হাতে লাঠি–সোঁটা ছিল। মিছিলটি ঝিনাইদহ শহরের পায়রা চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন। তিনি বলেন, ‘পাঁচ আগস্টের পর থেকে নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে যাচ্ছে। কিছুদিন আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বিরূপ কথাবার্তা বলেছেন। এরপরও আমরা ধৈর্য ধরে ছিলাম। কিন্তু আপনারা দেখেছেন, জুমার নামাজের পর পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করেছেন নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী।’ তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্রদল সবসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। এই ঘটনার বিরুদ্ধেও আমরা রাজপথে আছি।’
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘এক ঘণ্টার মধ্যে নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আটক করা না হলে কিংবা তাকে ঝিনাইদহ থেকে বের না করা হলে আমরা ছাড় দেব না। প্রয়োজনে থানা ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।’

অভিযোগের বিষয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী ঝিনাইদহ সফরে এলে আমি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য না দেয়ার বিষয়ে আলাপ করতে যাই। এ সময় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা ডিম ছুড়ে মারে। মারামারি বা ডিম নিক্ষেপের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। বরং তাদের এক কর্মী আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মব সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন।’ 
নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘জুম্মার নামাজ শেষ করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদের বাহিনী হামলা চালায়। মজিদ চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের জনক। সাহেদের নেতৃত্বে হকিস্টিকসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার ওপর হামলা করা হয়।’ তিনি অভিযোগ করেন, হামলার সময় তাদের অনেক সহকর্মীর ফোন ও মানিব্যাগ ছিনতাই করা হয়।
জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ বলেন, ‘আমি মহেশপুরে অবস্থান করছি। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।’ 
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদউজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় এনসিপির তরফ থেকে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে শতাধিক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে। 

আরও পড়ুন

×