ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পল্লবীতে শিশু হত্যায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

পল্লবীতে শিশু হত্যায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী
×

ময়মনসিংহের ত্রিশালে তিন দিনব্যাপী জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬ | ১৯:২৩ | আপডেট: ২৪ মে ২০২৬ | ০৯:৪৫

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এ ধরনের শিশু ও নারী নির্যাতন বর্তমান সরকার কোনোভাবেই মেনে নেবে না। অপরাধীদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে; যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ কোনো নারী বা শিশুর ওপর হাত তোলার সাহস না পায়।

শনিবার বিকেলে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার নজরুল একাডেমি মাঠে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

মিরপুরে শিশু হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘মিরপুরে শিশুকে হত্যার মধ্য দিয়ে সমাজে মানুষের মূল্যবোধের চূড়ান্ত অবক্ষয়ের প্রমাণ মিলেছে। বিগত দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসক শুধুমাত্র দেশের মানুষের স্বার্থ, অধিকার কিংবা অর্থই লুট করেনি, তারা বিচার বিভাগসহ দেশের সমস্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়ে গেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি নিরাপদ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে আমাদের অবশ্যই আইনের শাসন কঠোরভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একই সঙ্গে আমাদের জাতীয় জীবনে ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণ ঘটাতে হবে।

তিনি বলেন, ২০০৬ সালের পর থেকে নজরুলের অমর স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালে জাতীয়ভাবে নজরুল জন্মজয়ন্তী পালিত হয়নি। প্রায় দুই দশক পর আজ আবারও এই পবিত্র মাটিতে জাতীয় পর্যায়ে এই জন্মজয়ন্তী পালন করতে পেরে আমাদের সরকার অত্যন্ত গর্বিত।

কবির শৈশবের আশ্রয়দাতা মরহুম দারোগা রফিজুল্লাহর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে তিনি বলেন, তিনিই কবি নজরুলকে ত্রিশালের মাটিতে এনে জায়গা করে দিয়েছিলেন। আমরা যদি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সঠিক সম্মান দিতে না পারি, তবে সেটি আমাদের জন্য চরম লজ্জার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৬ সালে ঢাকায় জাতীয় কবির মৃত্যুর পর তার লাশবাহী খাটিয়া যারা কাঁধে করে বহন করেছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ১৯৭৯ সালের ২৫মে কবির জন্মবার্ষিকীতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক র‍্যালিতে সশরীরে অংশ নিয়েছিলেন শহীদ জিয়া। ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবির নামে ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব ঐতিহাসিক উদাহরণের মাধ্যমেই প্রমাণ হয়, কাউকে সম্মান জানালে নিজের সম্মান কখনো কমে না, বরং তা আরও মহিমান্বিত ও সুউচ্চ হয়।

জাতীয় কবির জীবন ও কর্মকে বিশ্ব দরবারে ছড়িয়ে দেওয়ার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম কাজী নজরুল ইসলাম। পর্যুদস্ত ও পরাভূত জাতির ভাগ্যাকাশে জাতীয় কবি ছিলেন এক আলোকবর্তিকার মতো। বর্তমান সংকটে তার সাহিত্য ও আদর্শ আমাদের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক। এজন্য সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও পর্যটন বিভাগের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, ত্রিশালকে ‘নজরুল স্মৃতিকেন্দ্র’ হিসেবে ঘোষণা করা যায় কিনা, সে ব্যাপারে যেন দ্রুত সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়।

বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠান শেষে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

আরও পড়ুন

×