ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন পল্লি বাউল জবান আলী

হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন পল্লি বাউল জবান আলী
×

জবান আলী

 সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬ | ০৭:৪১

| প্রিন্ট সংস্করণ

কৈশোরকাল থেকে গানে মজে আছেন জবান আলী। এখন তাঁর বয়স ৯১ বছর। এ পর্যন্ত লিখেছেন সাত শতাধিক গান। গানে গানে নিজের পরিচয় দেন ‘পল্লি বাউল’ হিসেবে। তবে বেশভূষা বাউলের মতো নয়; সাধারণ চলাফেরা। তাঁর লেখা গান গেয়েছেন অনেক জনপ্রিয় শিল্পী। বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ এই গুণী। তিনি কণ্ঠনালিতে ক্যান্সার, লিভার জটিলতা, শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগে জর্জরিত। তাঁর দিন কাটছে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের শয্যায়। টাকার অভাবে মিলছে না উন্নত চিকিৎসা। এ জন্য সরকার, সমাজের বিত্তবানসহ সবার কাছে সহায়তার অনুরোধ করেছেন।
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের হাছননগর এলাকায় জবান আলীর বাড়ি। জরাজীর্ণ দুই কক্ষের টিনের ঘরে কোনো রকমে দিন কাটান। তাঁর বাবা আবদুল মতলিব ফকির, দাদা আবদুল গণি ফকিরও গানের মানুষ ছিলেন। বাবার সঙ্গে গাইতেন জবান আলী। তিনি সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছেন। পারিবারিক টানাপোড়েনে আর পড়াশোনা এগোয়নি। তখন থেকেই গান লেখা শুরু। পাড়া-মহল্লার জলসায় গাইতেন তিনি। তাঁর ছেলেমেয়ে আছেন নিজ নিজ অবস্থানে।

সুনামগঞ্জে সংস্কৃতিকর্মীদের প্রিয় ‘জবান আলী ভাই’। শহরের মানুষ তাঁকে চেনে ‘বাউল’ হিসেবে। তাঁর গানে রয়েছে প্রেম, বিরহ, সৃষ্টিকর্তার প্রতি গভীর টান, ভক্তি। জবান আলী এক গানে লিখেছেন, ‘আগে জানো দয়াল নবীর শান/ ভাই মোমিনান/ আগে জানো দয়াল নবীর শান...।’ তাঁর সবচেয়ে জনপ্রিয় গান ‘প্রেমের মানুষ ঘুমাইলে চাইয়া থাকে/ ভালো-মন্দের ধার ধারে না/ যা বলার বলুক লোকে...।’ প্রিয় মানুষের বিরহে কাতর জবান আলী লিখেছেন, ‘কত সুখে আছিরে বন্ধু একবার দেখে যাও/ পাষাণে বান্ধিয়া হিয়া ফিরিয়া না চাও/ আমায় করে দেশান্তরী কিবা শান্তি পাওরে বন্ধু...।’ তিনি গানে সমাজের নানা অসংগতি তুলে ধরেছেন।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে ভোকাল কর্ডে (স্বরযন্ত্র) জটিলতায় কথা বলার শক্তি হারান জবান আলী। যে কণ্ঠে এক সময় পালাগান, বাউল গানের আসর মাতাতেন, সেই কণ্ঠে এখন তেমন কথাই বলতে পারেন না। বিনা চিকিৎসায় শরীরে আরও নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় এতদিন বাড়িতেই ছিলেন এই গুণী। সম্প্রতি তাঁকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে জবান আলীর পাশে রয়েছেন তাঁর জামাতা ওবায়দুল মুন্সি। তিনি সমকালকে বলেন, ‘আমার শ্বশুরের ভালো চিকিৎসা দরকার। কিন্তু টাকার অভাবে সদর হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। ডাক্তার বলেছেন, বয়সের কারণে তাঁর পুরোপুরি সুস্থ হওয়া সম্ভব না। তবে সঠিক চিকিৎসা করাতে পারলে শেষ বয়সে একটু শান্তিতে থাকতে পারবেন।’
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের চিকিৎসক বিষ্ণুপ্রসাদ চন্দ্র বলেন, ‘আমরা জবান আলীর অন্যান্য রোগের চিকিৎসা দিয়েছি। কিন্তু ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য ক্যান্সার হাসপাতাল বা অন্য কোথাও নিতে হবে।’
জবান আলীকে আর্থিক সহায়তা পাঠানো যাবে ০১৬২৭-৩৪১৯২১ এই মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে (বিকাশ)। নম্বরটি তাঁর জামাতা ওবায়দুল মুন্সির।

আরও পড়ুন

×