ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ঈদ ঘনিয়ে এলেও পশুর হাটে ক্রেতা কম, দর্শনার্থী বেশি

ঈদ ঘনিয়ে এলেও পশুর হাটে ক্রেতা কম, দর্শনার্থী বেশি
×

মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুর বিসিক গরুর হাটে বেঁধে রাখা হয়েছে কোরবানির পশু। কিন্তু এখনও জমে ওঠেনি বেচাকেনা সমকাল

 কাজী সাব্বির আহমেদ দীপু, মুন্সীগঞ্জ

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬ | ০৮:১২

| প্রিন্ট সংস্করণ

আর চার দিন পরই পবিত্র ঈদুল আজহা। ইতোমধ্যে মুন্সীগঞ্জের ৪১টি হাটে কোরবানির পশু জড়ো হতে শুরু করেছে। এসব হাটে ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থী বেশি। যেসব ক্রেতা হাটে যাচ্ছেন, তাদের মধ্যে অনেকেই পশু দেখছেন আর মূল্য যাচাই করছেন।

গতকাল শনিবার মুন্সীগঞ্জ সদর ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন পশুর হাটে ঘুরে দেখা গেছে, কোরবানির অনেক পশু এসেছে। তবে তেমন ক্রেতা নেই। শরীয়তপুর থেকে ১১টি গরু নিয়ে এসেছেন আকমল ব্যাপারী। তিনি বলেন, এখনও ক্রেতা নামেনি হাটে। যারা আসছেন, তারা গরু দেখে যাচ্ছেন, দাম জিজ্ঞেস করছেন। কেউ কেউ ছবি তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এখনও একটি গরুও বিক্রি করতে পারেননি তিনি। 
আকমল ব্যাপারী জানান, মুন্সীগঞ্জের মানুষ সাধারণত ঈদের দুই-তিন দিন আগে গরু কিনে থাকেন। কারণ গরু রাখার জায়গা কম, পরিচর্যারও ঝামেলা আছে। তাই ঈদের দুই-তিন দিন আগে কিনতে আসেন তারা। তিনি আশা করছেন, শেষ সময় পর্যন্ত সব গরুই বিক্রি হবে।

সিরাজগঞ্জ থেকে আসা গরুর ব্যাপারী আফছার মিয়া জানান, প্রতিবছর মুক্তারপুর বিসিক হাটে গরু নিয়ে আসেন তারা। এবারও খামারের ১৪টি গরু নিয়ে এসেছেন। এবার দাম কিছুটা বাড়তি। তিনি বলেন, শনিবার দুপুরে মাঝারি আকারের দুটি গরুর মূল্য সাড়ে তিন লাখ টাকা চাইলে বিপরীতে ক্রেতা দাম অনেক কম বলছেন। দামে মিল না হওয়ায় ওই গরু বিক্রি করা হয়নি।
মুক্তারপুর বিসিক হাটে কথা হয় প্রবাসী গোলাম মাসুদের সঙ্গে। তাঁর ভাষ্য, দুই দিন আগে গরুর হাটে গেলেও পশুর সংখ্যা কম লক্ষ্য করা গেছে। বেচাকেনাও জমে ওঠেনি। গতকাল শনিবার দুপুরে হাটে গিয়ে দেখা গেছে, স্থানীয় খামারিদের পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা থেকে কোরবানির পশু আনা হয়েছে। দুটি মাঝারি আকারের গরু কেনার জন্য মূল্য জানতে চাইলে ব্যাপারী সাড়ে তিন লাখ টাকা দাম হাঁকান। একটি এক লাখ ও অপরটির এক লাখ ৩০ হাজার টাকা বলা হলেও বিক্রি করেননি ব্যাপারী।

তাঁর মতো কাজীকসবা গ্রামের ক্রেতা হানিফ মাঝি শাহিন জানালেন, হাটে গরু উঠলেও ব্যাপারীরা দাম হাঁকাচ্ছেন বেশি। তাই এখনও গরু কেনা হয়নি তাঁর। তাঁর মতো অন্য ক্রেতাদেরও একই অবস্থা।
সিরাজগঞ্জ থেকে আসা গরুর ব্যাপারী ইকবাল হোসেন বলেন, প্রতিবছর মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুর বিসিক হাটে গরু নিয়ে আসেন তারা। এবার ২৬টি গরু নিয়ে এসেছেন। এখনও একটি গরুও বিক্রি করতে পারেননি। আশা করছেন, বুধবার থেকে বেচাকেনা জমতে শুরু করবে।

মুক্তারপুর বিসিক গরুর হাটের ইজারাদার প্রতিনিধি মো. গিয়াস উদ্দিনের ভাষ্য, কোরবানির পশু বেচাকেনার জন্য তিন দিন আগেই হাট শতভাগ প্রস্তুত। হাটে নিরাপত্তার জন্য পুলিশের সঙ্গে শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। গত দুই দিনে পশুতে হাট ভরে গেছে। দু-এক দিনের মধ্যে বেচাকেনা জমে উঠবে।

মুন্সীরহাট গরুর হাটের ইজারাদার মোহাম্মদ মাসুদ রানা বলেন, এই হাটে চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে এবং চাঁদপুরের মতলব থেকে নৌপথে গরু নিয়ে আসছেন ব্যাপারীরা। মঙ্গলবার থেকে ঈদের দিন পর্যন্ত হাটে পুরোদমে কোরবানির পশু বেচাকেনা হবে। হাটের নিরাপত্তায় সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। 
মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, এবার জেলায় ৬৭ হাজার ৭১১টি কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে। বিপরীতে চাহিদা ধরা হয়েছে ৬০ হাজার ৭৯৫টি। চাহিদার তুলনায় ছয় হাজার ৯১৬টি পশু উদ্বৃত্ত। যার মধ্যে গরু ৪৪ হাজার ৩৯টি, মহিষ ২২৩টি, ছাগল ১৯ হাজার ৮৭৯টি এবং ভেড়া তিন হাজার ৫৭০টি। 
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এম এ জলিল জানান, জেলার ৪১টি হাটে প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে সেবা দেওয়ার জন্য ৪১টি মেডিকেল টিম দায়িত্ব পালন করছে।
পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম বলেন, গরুর হাটকেন্দ্রিক বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জাল নোট, মলম পার্টি, গরু টানাটানিসহ সব অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। এ ছাড়া সড়ক ও নৌপথে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×