সিলেটে র্যাব সদস্য হত্যা
কিশোর বয়সে অপরাধে পা বাড়ায় বাপ্পী
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬ | ০৮:১৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
সিলেট সুরমা নগরীর কিন ব্রিজ এলাকায় র্যাব সদস্যকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার আসাদউল বাপ্পী কিশোর বয়সে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। কিশোর ও তরুণদের নিয়ে নিজ এলাকাসহ কিন ব্রিজ এলাকায় ছিল তাদের অবস্থান। অতীতে ছিনতাইসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পর সম্প্রতি জড়িয়ে পড়েন মাদক কারবারে। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে দ্রুত বিচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা হয়েছে চারটি। জেলও খেটেছেন একবার।
গত শুক্রবার র্যাব সদস্য ইমন আচার্য্যকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার বাপ্পীর সম্পর্কে এমন তথ্য পাওয়া গেছে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে। এদিকে খুনের অভিযোগে আসাদউল বাপ্পীকে একমাত্র আসামি করে শনিবার মহানগরীর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন নিহত ইমন আচার্য্যের ভাই সুজিত আচার্য্য। সেই মামলায় তাকে আদালতের মাধ্যমে বিকেলে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা সুলতানার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবনবন্দি দেন বাপ্পী। আদালতে তিনি দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই কবির উদ্দিন।
অভিযুক্ত বাপ্পী নগরীর কোতোয়ালি থানার কাজিরবাজার মোগলটুলা এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে। নিহত র্যাব-৯ সদস্য কনস্টেবল ইমন আচার্য্য চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানার পশ্চিম দলই গ্রামের রণধীর আচার্য্যের ছেলে। তিনি ২০২৪ সালে র্যাবে যোগ দেন। গত বছর থেকে তিনি র্যাব-৯-এ কর্তব্যরত ছিলেন।
শুক্রবার দুপুরে নগরীর কিন ব্রিজ এলাকায় থানা পুলিশ মাদকসেবী ও কারবারিদের আটকের চেষ্টা করলে তারা দৌড়ে পালায়। থানার পাশে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে র্যাব সদস্য ইমন আচার্য্য পালানোর সময় আসাদউল বাপ্পীকে ধরার চেষ্টা করেন। বাপ্পী তার হাতে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে ইমন আচার্য্যের বুকের বাঁ পাশে আঘাত করে। দেড় ঘণ্টা পর তিনি হাসপাতালে মারা যান। ময়না তদন্ত শেষে শনিবার তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন র্যাব-৯-এর মিডিয়া অফিসার (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির জানান, দ্রুত বিচার, নারী নির্যাতনসহ বাপ্পীর বিরুদ্ধে চারটি মামলা রয়েছে। মাদকের কোনো মামলা নেই। সে কাজিরবাজার ও কিন ব্রিজ এলাকার বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। তাকে হত্যা মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
- বিষয় :
- হত্যা
