লাঠিখেলা শেষে এবার জামাইবরণ মেলার পালা
বগুড়ার শেরপুরে ঐতিহ্যবাহী কেল্লাপোশী বা জামাইবরণ মেলা ঘিরে সপ্তাহখানেক ধরে গ্রামে গ্রামে চলে লাঠিখেলা সমকাল
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬ | ০৮:২৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
৪৭০ বছরের রীতি অনুযায়ী আজ জ্যৈষ্ঠের দ্বিতীয় রোববার শুরু হচ্ছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কেল্লাপোশী মেলা। স্থানীয়দের ভাষায়, যাকে ‘জামাইবরণ’ মেলাও বলা হয়ে থাকে।
তিথি অনুযায়ী প্রতিবছর জ্যৈষ্ঠের দ্বিতীয় রোববার থেকে উপজেলা সদরের অদূরে কেল্লাপোশী নামক স্থানে এই মেলার আয়োজন করা হয়। এই মেলা ঘিরে এবারও গ্রামে গ্রামে দেখা গেছে রকমারি আয়োজন। আনন্দ-উল্লাস আর উৎসবে মেতে ওঠার অপেক্ষায় লাখো মানুষ। তারা এক সপ্তাহ আগে থেকেই নানা ধরনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। মেলা উপলক্ষে গ্রামবাসী দূরদূরান্তের আত্মীয়স্বজনকে বাড়িতে দাওয়াত দিয়েছেন।
নিমন্ত্রণে নতুন-পুরোনো জামাই-বউ রয়েছেন তালিকার শীর্ষে। শ্বশুরবাড়ি আসা জামাইরা থাকেন ভিন্ন মেজাজে। কারণ, মেলায় কেনাকাটা করতে তাদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় মোটা অঙ্কের সেলামি। সেই সেলামি আর নিজের টাকা দিয়ে জামাইরা মেলা থেকে খাসি কিনে শ্বশুরবাড়িতে আনেন। বড় বড় মাটির পাতিল ভর্তি করে মিষ্টান্ন, সবচেয়ে বড় মাছ, মহিষের মাংস, রকমারি খেলনাও কেনেন তারা।
শ্যালক-শ্যালিকাদের নিয়ে মেলা ঘুরে ঘুরে দেখার পর্ব তো রয়েছেই। তাদের সার্কাস, নাগরদোলা, হোন্ডা খেলা, জাদু খেলা, পতুলনাচ দেখিয়ে দিনব্যাপী আনন্দ শেষে ছোটদের জন্য কাঠের ও ঝিনুকের তৈরি খেলনাসামগ্রী নিয়ে সন্ধ্যায় বাড়িতে ফেরেন। আর মেলা থেকে রকমারি মসলা, তুলা, কাঠের সামগ্রী, বড় বড় ঝুড়ি, চুন সারাবছরের জন্য কিনে রাখেন গ্রামের মানুষ।
তিন দিনব্যাপী ওই মেলায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে কেনাকাটার ধুম। দূরদূরান্ত থেকে আসা বিক্রেতারা এখানে দোকান সাজিয়ে জাঁকিয়ে বসেন। এই মেলার প্রধান আকর্ষণ হলো বিভিন্ন ধরনের কাঠের আসবাব, মিষ্টি-ফলমূল, নানা জাতের বড় বড় মাছ, কুটির শিল্পসামগ্রী, মহিষ ও খাসির মাংস, রকমারি মসলা। শেষ পর্যন্ত মেলা ছয়-সাত দিনেও গড়ায়। এই মেলায় কোটি টাকার কেনাবেচা হয়।
মেলা শুরুর সপ্তাহখানেক আগ থেকে গ্রামে গ্রামে চলে মাদার খেলা (লাঠিখেলা)। একটি বড় বাঁশকে লাল কাপড়ে মুড়িয়ে ও নানা রঙে সাজিয়ে এবং সেটির বিভিন্ন স্থানে চুল লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল বেরিয়ে পড়ে। ঢাকঢোল, গান-বাজনার নানা সরঞ্জাম আর লাঠি নিয়ে তারা গ্রামগঞ্জ ঘুরে খেলা দেখান। মেলা শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত চলে ওই মাদার খেলা।
শেরপুর থানার ওসি মঈনুদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, ঐতিহ্যবাহী এই মেলা করতে কমিটির পক্ষ থেকে তিন দিনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। মেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এরই মধ্যে তারা কাজ শুরু করেছেন।
- বিষয় :
- উৎসব মণ্ডল
