ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সুনামগঞ্জ হাসপাতাল

ময়নাতদন্তে পুলিশের কাছে ঘুষ দাবি ডোমের

ময়নাতদন্তে পুলিশের কাছে ঘুষ দাবি ডোমের
×

ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬ | ১০:৫৫

সুনামগঞ্জের ছাতক থেকে উদ্ধার হওয়া এক বেওয়ারিশ নারীর লাশ ময়নাতদন্ত ও দাফনের আগে ধৌত করার জন্য ডোমের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছ থেকেই ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক মাধ্যমে কয়েকটি পোস্ট দেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ। বিষয়টি জানাজানি হলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাধারণ মানুষেরাও।

সুনামগঞ্জ সদর থানার এসআই আনোয়ার জানান, গত শনিবার ছাতক থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ হাসপাতালে আনা হয়। লাশ হাসপাতালের হিমাগারে রাখার সময় প্রথমে টাকা দাবি করা হয়। পরে তিনি ৭০০ টাকা দেন। আজ  ময়নাতদন্তের সময় বলা হয় কাটাছেঁড়া করতে তিন হাজার টাকা লাগবে। আমি বললাম এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। পরে অনেক অনুরোধের পর এক হাজার ৫০০ টাকা নেয়।

এসআই আনোয়ারের অভিযোগ করে জানান, পরে বেওয়ারিশ লাশটি গোসল ও দাফনের ব্যবস্থা করতে গেলে আরও টাকা দাবি করা হয়। তিনি বলেন, একজন মহিলা লাশ গোসল করাতে দুই হাজার টাকা চান। পরে বলা হয়, তাদের লোক দিয়ে দাফন করতে হলে সাত হাজার টাকা লাগবে।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ বলেন, বিষয়টি খুব কষ্ট দিয়েছে। আমরা পুলিশ সদস্যরা আইনি প্রয়োজনে লাশ হাসপাতালে নিয়ে আসি। ডাক্তাররা ভালো ব্যবহার করেন। কিন্তু ডোমদের কাছ থেকে টাকা ছাড়া সহযোগিতা পাওয়া কঠিন। বেশি কিছু বললে তারা অনেক সময় কাজ ফেলে চলে যায়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন ওসি রতন শেখ। সেখানে তিনি বেওয়ারিশ নারীর লাশ দাফনে সহযোগিতা চান। পোস্ট দেওয়ার কিছু সময়ের মধ্যেই কয়েকজন তরুণ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

ওসি রতন শেখ বলেন, এমন অমানবিক ঘটনার পর সহায়তার জন্য সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিলে একজন ছেলে ফোন করে জানায় সে তাঁর মাকে নিয়ে আসবে। পরে ওই নারী পর্দার আড়ালে থেকে লাশ গোসল করাতে রাজি হন। আরও কয়েকজন কবর খোঁড়া ও দাফনের দায়িত্ব নেন। এমনকি অ্যাম্বুলেন্স চালকেরাও বিনা খরচে লাশ কবরস্থানে নেওয়ার কথা বলেন। একজন বেওয়ারিশ মানুষ হলেও তাঁর প্রতি মানবিক দায়িত্ব আছে। সবাই যেভাবে এগিয়ে এসেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তবে হাসপাতালকেন্দ্রিক এই ভোগান্তির স্থায়ী সমাধান হওয়া দরকার।

সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও পরিচালক মাহবুবুর রহমান বলেন, এ রকম অভিযোগ অমানবিক। এটা মেনে নেয়া যায় না। বেওয়ারিশ লাশের জন্য আমাদের আলাদা নির্দেশনা থাকে। হাসপাতাল থেকেও ডোমকে বেতন দেওয়া হয়। এরপরও সে এমন কাজ করতে পারে না। তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×