ছোট গরুর চাহিদা বেশি, সক্রিয় দালাল চক্র
ছবি: ফাইল
সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬ | ১১:০২
ঈদের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। তাই সাদুল্লাপুর উপজেলার পশুর হাটগুলোতে এখন কোরবানির আমেজ। দূরদূরান্ত থেকে পাইকাররা আসছেন গ্রামের হাটে। কেউ কিনছেন গরু-ছাগল, কেউ দরদাম করছেন। স্থানীয় ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতিতে হাটগুলো এখন সরগরম ও কোলাহলমুখর। তবে পশুর হাটে বেড়েছে দালালের দৌরাত্ম্য। তাদের সাংকেতিক ভাষা ও কৌশলী তৎপরতায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই।
সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা গেছে, এবার ছোট গরুর চাহিদা বেশি। তুলনামূলক বড় গরুর বিক্রি কম। ঢাকার গাবতলী থেকে আসা পাইকার একলাশ হোসেন সরকার বলেন, ‘রাজধানীর হাটগুলোতেও এবার বড় গরুর চাহিদা কম। এক লাখ ২০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকার মধ্যে গরু বেশি খুঁজছেন ক্রেতারা। তাই গ্রামের হাটে ছোট গরুর সন্ধানে এসেছি।’ ভাতগ্রাম বাজারের মোজাম্মেল হক বলেন, গ্রামের মানুষ সাধারণত ছোট গরুই বেশি কেনেন। কয়েকজন মিলে ভাগে কোরবানি দেন। কিন্তু ঢাকার পাইকাররা ছোট গরু কিনতে আসায় স্থানীয় স্বল্প আয়ের মানুষ সমস্যায় পড়বেন।
ইসলামপুর গ্রামের খামারি শাকিল মিয়া এবার কোরবানির জন্য তিনটি গরু প্রস্তুত করেছেন। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, ‘চড়া দামে গোখাদ্য কিনে গরু লালন করেছি। এখন যে দাম বলা হচ্ছে, তাতে লোকসান হবে। বড় গরুর ক্রেতাও কম।’
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা প্রায় ১৭ হাজার। বিপরীতে প্রস্তুত করা হয়েছে ১৭ হাজার ৯৩৪টি পশু।
উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. আব্দুল্লাহেল কাফি বলেন, ‘খামারিরা অনেক পরিশ্রম করে পশু প্রস্তুত করেন। কিন্তু উপযুক্ত দাম না পেলে তারা লোকসানে পড়বেন। এর নেতিবাচক প্রভাব আগামী বছর পড়তে পারে।’
পশুর হাটে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় দালালদের সাংকেতিক শব্দ। এসব শব্দ ব্যবহার করে ক্রয়-বিক্রয়ের দরদাম ঠিক করা হয়, যা সাধারণ মানুষ বুঝতে পারেন না। ক্রেতা আতিকুর রহমান বলেন, ‘দালালদের ভাষা কোন দেশের বা কোন সংস্কৃতির, সেটা কেউ জানে না। তারা নিজেদের মধ্যে এমনভাবে কথা বলে যে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে যায়।’
দালালদের ব্যবহৃত কিছু শব্দ হলো ‘শেড়’ মানে ১০০, ‘ডোঙ্গা শো’ ৩০০, ‘চামটি শো’ ৪০০, ‘দিক শো’ ১ হাজার, ‘ডোঙ্গা হাজার’ দুই হাজার এবং ‘আদি হাজার’ মানে ৫০ হাজার টাকা।
সাদুল্লাপুর হাটের দালাল আজিজার হোসেন বলেন, ‘এসব শব্দ না জানলে দালালি করা যায় না। পশু কেনাবেচার সময় সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে না। তখন কমিশনের টাকা সহজেই নেওয়া যায়।’
সাদুল্লাপুর সরকারি কেএম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান ফারুক বলেন, ‘এসব কোনো স্বীকৃত ভাষা নয়। কিছু মানুষ নিজেদের সুবিধার জন্য সাংকেতিক শব্দ তৈরি করেছে। এতে সাধারণ মানুষের উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি।’
স্থানীয় বকশীগঞ্জ হাটের আদায়কারী সোহরাব মিয়া বলেন, ‘বর্তমানে প্রায় সব কেনাবেচায় মধ্যস্বত্বভোগী আছে। পশুর হাটও তার বাইরে নয়। দালালরা সাংকেতিক ভাষা ব্যবহার করে নিজেদের সুবিধা আদায় করে।’
সাদুল্লাপুর থানার ওসি হাবিবুল ইসলাম বলেন, ‘পশুর হাটে পুলিশি টহল রয়েছে। দালালদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
হাটবাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘টোল আদায়ের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় কিংবা পশু কেনাবেচায় কোনো অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।’
- বিষয় :
- গাইবান্ধা
