গরু চুরি ঠেকাতে ‘বাঁশকল’ পাহারা
উল্লাপাড়া পৌরসভার কালীবাড়ি এলাকায় প্রশাসনের সহায়তায় আঞ্চলিক সড়কে বাঁশকল বসিয়ে গরু চুরি ঠেকানোর চেষ্টা। ছবি: সমকাল
উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬ | ১১:০৩
একটি লম্বা ও শক্ত বাঁশ। মাথায় বাঁধা ফাঁপা ড্রাম কিংবা টিনের কৌটা। গভীর রাতে সন্দেহজনক শব্দ, অপরিচিত মানুষের চলাচল টের পেলেই দড়িতে টান দিচ্ছেন পাহারাদাররা। সঙ্গে সঙ্গে বিকট শব্দে কেঁপে উঠছে চারপাশ। মুহূর্তেই সতর্ক হয়ে লাঠিসোটা হাতে ছুটে আসছেন গ্রামবাসী।
গ্রামবাংলার পুরোনো সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা ‘বাঁশকল’ এবার ফিরেছে উল্লাপাড়ায়। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে গরু চুরি ঠেকাতে বিভিন্ন মহাসড়ক ও সড়কে চালু করা হয়েছে এই বিশেষ পাহারার ব্যবস্থা।
উপজেলার অন্তত ২৬টি স্থানে দুদিন ধরে বাঁশকল বসানো হয়েছে। স্থানীয় গ্রামবাসী, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য এবং ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ মিলে রাতভর পাহারা দিচ্ছেন। সড়কে আড়াআড়িভাবে ফেলে রাখা হচ্ছে লম্বা বাঁশ। সন্দেহজনক যানবাহন কিংবা অপরিচিত লোকজন দেখলেই থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মডেল থানা পুলিশের কয়েকটি টহল দল প্রতিটি স্পটে পাহারাদারদের সহযোগিতা করছেন।
বাঙ্গালা ইউপি সদস্য বাবলু হোসেন ও সলপ ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম জানান, উল্লাপাড়া পৌরসভা, কয়ড়া, বাঙ্গালা, মোহনপুর ও পূর্ণিমাগাঁতী ইউনিয়নে অন্তত ১৬টি ষাঁড় গরু চুরি হয়েছে। ঈদ সামনে রেখে সংঘবদ্ধ গরুচোর চক্র আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
এক সপ্তাহ আগে পূর্ণিমাগাঁতী ইউনিয়নের পূর্ব রামকৃষ্ণপুর গ্রামের খামারি ময়নুল ইসলামের খামার থেকে এক রাতেই চুরি হয় ৬টি গরু। যার বাজারমূল্য ১০ লাখ টাকার বেশি বলে দাবি তাঁর। এই ঘটনার কয়েকদিন আগে উল্লাপাড়া পৌরসভার শ্রীকোলা গ্রামে শাহানুর রহমান নামে আরেক খামারির চারটি বড় ষাঁড় গরু চুরি হয়। গরুর দাম প্রায় সাত লাখ টাকা।’
গ্রামবাসী বলছেন, বাঁশকল পদ্ধতি এখন বেশি কার্যকর হয়ে উঠেছে। কারণ, বিকট শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গেই পুরো গ্রাম সতর্ক হয়ে যায়। এতে চোরেরা সহজে পালানোর সুযোগ পায় না। বাঁশকল বাজলেই সবাই বের হয়ে আসে। পাহারাদারও নিরাপদ বোধ করেন। পুলিশের সহযোগিতা ও গ্রামবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগে এই ব্যবস্থা এখন গরু চুরি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মডেল থানার ওসি মো. মোক্তারুজ্জামান বলেন, ‘গরু চুরি রোধে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কের ২৬টি স্পটে বাঁশকল বসানো হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করা হয়েছে। পুলিশ ও গ্রাম পুলিশ সদস্যরা সহযোগিতা করছেন।’ তিনি বলেন, ‘সন্দেহজনক যানবাহন ও মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এতে চুরি অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি।’
- বিষয় :
- সিরাজগঞ্জ
