ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ধান সংগ্রহ উদ্বোধনেই ‘ভুয়া কৃষক’ কাণ্ড

ধান সংগ্রহ উদ্বোধনেই ‘ভুয়া কৃষক’ কাণ্ড
×

ছবি: ফাইল

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬ | ১১:০৬

গাইবান্ধায় চলতি বোরো মৌসুমে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করতেই সামনে এসেছে ‘ভুয়া কৃষক’ অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তালিকাভুক্ত এক কৃষকের মোবাইল নম্বরে ফোন করে ভিন্ন ব্যক্তির সাড়া পাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলা প্রশাসক মো. মাসুদুর রহমান মোল্লা। পরে তিনি সংশ্লিষ্টদের তালিকা সংশোধনের নির্দেশ দেন।

গতকাল রোববার সকালে শহরের খানকাশরিফ এলাকার খাদ্য গুদামে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. মাসুদুর রহমান মোল্লা সদর উপজেলার বাছাইকৃত কৃষকদের তালিকা থেকে রামচন্দ্রপুর গ্রামের ক্ষুদ্র কিষানি ফরিদা পারভিনের মোবাইল নম্বরে ফোন দেন। কিন্তু ফোনের অপর প্রান্ত থেকে জানানো হয়, নম্বরটি ফরিদা পারভিনের নয়। এমনকি ওই নামে কোনো কৃষককে চেনেন না বলেও জানান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। এতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত কর্মকর্তাদের মধ্যে অস্বস্তি দেখা দেয়। তারা এ ঘটনার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

গাইবান্ধা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় তিন হাজার ১৮৭ কৃষকের কাছ থেকে মোট ৯ হাজার ৫৬৩ টন ধান কেনা হবে। প্রতি কেজি ধানের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৬ টাকা। একজন কৃষক সর্বোচ্চ তিন টন পর্যন্ত ধান বিক্রি করতে পারবেন।

উপজেলাভিত্তিক বরাদ্দ অনুযায়ী সদর উপজেলায় ১ হাজার ৬৬৪ টন, সাঘাটায় ১ হাজার ৫১, সাদুল্লাপুরে ১ হাজার ১৪৬, সুন্দরগঞ্জে ১ হাজার ৯৬৫, গোবিন্দগঞ্জে ২ হাজার ৩৭৬, পলাশবাড়ীতে ৯২১ এবং ফুলছড়িতে ৫৪০ টন ধান সংগ্রহ করা হবে।

কৃষকদের অভিযোগ, প্রকৃত চাষিদের বাদ দিয়ে প্রভাবশালী মহল ও অসাধু চক্র ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে। অনেক মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। আবার কিছু নম্বরের মালিক নিজেদের কৃষক হিসেবেও পরিচয় দিচ্ছেন না। এতে সরকারি ধান সংগ্রহ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তারা এ অনিয়মের তদন্ত করে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত বছরগুলোতেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও মধ্যস্বত্বভোগী প্রশাসনের লোকজনের সঙ্গে যোগসাজস করে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে কৃষক তালিকা তৈরি করতেন। পরে তারা কৃষকের নামে ধান সরবরাহ করে সরকারি টাকা তুলে নিতেন।

তালিকায় নাম না থাকা সদর উপজেলার কয়েকজন কৃষক জানান, মাঠে যারা কষ্ট করে ধান উৎপাদন করেছেন, তাদের অনেকে তালিকায় জায়গা পাননি। অথচ যাচাই-বাছাই ছাড়াই সুবিধাভোগীদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এতে প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

জেলা প্রশাসক মো. মাসুদুর রহমান মোল্লা সমকাল প্রতিবেদককে বলেন, ‘কৃষক তালিকায় ভুয়া কৃষক পাওয়া গেছে। এটা ঠিক হয়নি। প্রকৃত কৃষকের জন্যই সরকারের এত উদ্যোগ। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে তালিকা সংশোধন করে ধান সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মিজানুর রহমান বলেন, ‘তালিকায় যেসব ভুলভ্রান্তি রয়েছে, সেগুলো যাচাই করে সংশোধন করা হবে। এরপর প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকেই ধান সংগ্রহ করা হবে।’

আরও পড়ুন

×