ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

তিন ধাপে গাজীপুর ছাড়বেন প্রায় ৩০ লাখ শ্রমিক

তিন ধাপে গাজীপুর ছাড়বেন প্রায় ৩০ লাখ শ্রমিক
×

ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬ | ১২:২০

ঈদুল আজহা উপলক্ষে গাজীপুরের শিল্পকারখানার শ্রমিকদের তিন ধাপে ছুটি দেওয়া হচ্ছে। গত ঈদুল ফিতরে এই প্রক্রিয়ায় সুফল পাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে আজ সোমবার জেলার ৪২ শতাংশ কারখানায় ছুটি শুরু হবে। এ দিন দুপুরের পর থেকেই দুটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক ধরে শ্রমিকরা বাড়ির পথ ধরবেন। 

গতকাল রোববার পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহনের চাপ থাকলেও যানজট চোখে মেলেনি। শ্রমিকদেরও দলবেঁধে বাড়ি ফেরার জন্য সড়কে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়নি। তবে আজ সোমবার এ দুই মহাসড়কে মানুষের ঢল নামবে– এমন আশঙ্কা করেই প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা ও মহানগর পুলিশ।

দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকায় প্রবেশের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার বা ‘গেটওয়ে’ হিসেবে গাজীপুরের পরিচিতি। ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে এই জেলা দিয়ে ২২টি জেলার মানুষ যাতায়াত করেন। প্রায় সাড়ে ৩ হাজার শিল্পকারখানা রয়েছে গাজীপুরে। এসব কারখানায় কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা ২৮-৩০ লাখ।  

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ঈদের আগে সব শিল্পকারখানা, অফিস-আদালতে ছুটি ঘোষণার পরই দুটি মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই যানজট দেখা দেয়। তবে এবার যানজট তেমন হবে না বলে আশা করছে পুলিশ। গাজীপুর জেলা পুলিশ বলছে, কালিয়াকৈরের চন্দ্রা মোড়, মাওনা চৌরাস্তা, ভবানীপুর, বাঘের বাজার, গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি, জৈনাবাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বেশ কিছুদিন আগে থেকেই পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

গাজীপুরের কয়েকজন শ্রমিক বলছেন, গত ঈদুল ফিতরের সময় ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়ার ফলে তাদের ঈদযাত্রা বেশ স্বস্তিদায়ক ছিল। রাস্তায় প্রচুর যানবাহন থাকলেও যানজটের কবলে পড়তে হয়নি। গাজীপুর শিল্প পুলিশ সূত্র বলছে, তিন ধাপের প্রথম ধাপে আজ সোমবার ৪২ শতাংশ কারখানায় ছুটি শুরু হবে। আগামীকাল মঙ্গলবার ৪৫ শতাংশ কারখানায় ও বুধবার ৮ শতাংশ কারখানায় ছুটি শুরু হবে।

ঈদের সড়কে ঘরমুখী লাখ লাখ শ্রমিকের ভোগান্তি কমাতে শিল্প মালিক ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন। তিনি সমকালকে বলেন, গত ঈদুল ফিতরে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় মহাসড়কে ঘরমুখী মানুষের ঈদযাত্রা ছিল বেশ স্বস্তিদায়ক। গতকাল রোববার রাত ৮টা পর্যন্ত ৯৮ শতাংশ শিল্পকারখানায় বেতন দেওয়া হয়েছে। ৯৫ শতাংশ কারখানায় বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে। তবে ইউনিক ডিজাইনারস লিমিটেড, ট্রাউজার ল্যান্ড ও কেয়া কসমেটিকসহ আরও ২-৩টি কারখানায় কিছু সমস্যা রয়েছে। সেগুলোও তারা সমাধানের চেষ্টা করছেন।

কোনাবাড়ী-নাওজোর হাইওয়ে থানার ওসি সওগাতুল আলমের দেওয়া তথ্যমতে, প্রতিদিন ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে অন্তত দুই লাখ মানুষ যাতায়াত করে। ঈদের সময় সেই সংখ্যা বেড়ে ১৫-২০ লাখে গিয়ে দাঁড়ায়। তারা যাত্রী দুর্ভোগ কমাতে কাজ করছেন। 

গাজীপুর জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আসন্ন ঈদও আমরা স্বস্তিদায়ক করার চেষ্টা করছি। যদি বৃষ্টি না থাকে, তাহলে গত ঈদের মতোই হবে।’ 

গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন বলেন, গত ঈদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আসন্ন ঈদও স্বস্তিদায়ক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এবার ট্রাফিক ব্যবস্থা আরও গতিশীল করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

আরও পড়ুন

×