আর্থিক সংকটে ৪ চা বাগান, কর্মবিরতিতে শ্রমিকরা
বকেয়া মজুরির দাবিতে কর্মবিরতি করছে শ্রমিকরা।
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬ | ১৮:১৭
বকেয়া মজুরি, রেশন ও উৎসব বোনাসসহ সাত দফা দাবিতে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের চারটি চা বাগানে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন শ্রমিকরা। সোমবার সকাল থেকে শ্রমিকরা কাজে যোগ না দেওয়ায় বাগানগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
কর্মবিরতির আওতায় রয়েছে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া চা বাগান, চুনারুঘাট উপজেলার দেউন্দি ও লালচান চা বাগান এবং মৌলভীবাজারের মৃতিঙ্গা চা বাগান। এসব বাগানে প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক কাজ করেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, গত সপ্তাহে তাদের নিয়মিত সাপ্তাহিক মজুরি পরিশোধ করা হয়নি। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে রেশন, উৎসব বোনাসসহ বিভিন্ন সুবিধা থেকেও তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে শ্রমিক পরিবারগুলো মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।
দেউন্দি চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি আপন সাঁওতাল বলেন, ‘২০২২ সাল থেকে মালিকপক্ষ শুধু আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে গেছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’
এদিকে বাগান কর্তৃপক্ষ আর্থিক সংকটের কথা উল্লেখ করে বলছে, দীর্ঘদিনের লোকসানের কারণে তারা বেতন-ভাতা পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০১৮ সালের পর থেকে দেউন্দি কোম্পানির আওতাধীন চারটি বাগান ব্যাংক ঋণ পায়নি। এছাড়া উৎপাদন খরচ বাড়লেও চায়ের বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় সংকট আরও গভীর হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নোয়াপাড়া চা বাগানে টাকার অভাবে গ্যাস ও বিদ্যুতের বিল বকেয়া থাকায় একসময় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে প্রায় তিন বছর কারখানার কার্যক্রম বন্ধ ছিল। অন্যদিকে লালচান চা বাগানের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নোয়াপাড়া চা বাগানের ইউপি সদস্য বাবুল রেলী বলেন, ‘চারটি বাগানেই দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা চলছে। শ্রমিকরা সময়মতো তাদের ন্যায্য পাওনা পাচ্ছেন না। এ কারণে তারা কর্মবিরতিতে গেছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন উদ্যোগ নিয়েছে। মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ বিন কাসেম শ্রমিক ও বাগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। মঙ্গলবারের বৈঠকে সংকটের অন্তর্বর্তী সমাধান হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।’
নোয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজার সোহাগ মাহমুদ বলেন, ‘টানা লোকসানের কারণে চারটি বাগান কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। আমরা শ্রমিকদের আংশিক বেতন দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলাম, কিন্তু তারা তা গ্রহণ করেননি। প্রশাসনের সহযোগিতায় আলোচনা চলছে। আশা করছি দ্রুত সমাধান হবে।’
