ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

৫ বছর ধরে লোকসান

বন্ধ হয়ে গেল ম্যাঙ্গো ও ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন

বন্ধ হয়ে গেল ম্যাঙ্গো ও ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন
×

ছবি : সমকাল

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬ | ২৩:৫৬

গত ৫ বছর ধরে আমের মৌসুমে ‘ম্যাঙ্গো স্পেশাল’ ট্রেন চালানো হতো চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে। সেই সঙ্গে ঈদুল আজহার আগে পশু পরিবহনের জন্য চালানো হতো ‘ক্যাটল স্পেশাল’ ট্রেন। ট্রেন দুটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ছেড়ে ঢাকার কমলাপুরে যেত আম ও পশু নিয়ে।

তবে লোকসানের কারণে এবার দুটি ট্রেনের একটিও চলছে না। পশ্চিমাঞ্চল রেল কর্তৃপক্ষ বলছে, অব্যাহতভাবে লোকসানের কারণে ম্যাঙ্গো ও ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন আর চালাবেন না তারা। তাদের অভিযোগ, ট্রেনে আম ও পশু পরিবহন অনেক সাশ্রয়ী হলেও চাষি ও খামারিরা সেই সুযোগ নেননি। ফলে একটানা পাঁচ বছর লোকসান করেছে রেল।

তবে কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এ বছর আম পরিবহনের জন্য বনলতা ট্রেনের সঙ্গে একটি ওয়াগন দেওয়া হবে। অন্যদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পশু উদ্বৃত্ত জেলা হলেও পশু পরিবহনের জন্য থাকছে না কোনো সুযোগ।

পশ্চিমাঞ্চল রেলের বাণিজ্যিক দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে প্রথমবারের মতো ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন চালু হয়। ওই বছরেই ক্যাটল স্পেশাল ট্রেনও চালু হয়।

চাষি ও খামারিরা ট্রেন দুটি বন্ধে রেল কর্তৃপক্ষকেই দুষছেন। তাদের মতে, বাগান বা বাড়ি থেকে স্টেশন পর্যন্ত, আবার স্টেশন থেকে নির্দিষ্ট গন্তব্যে আম বা পশু নেওয়ার ক্ষেত্রে পোহাতে হয় বাড়তি ঝক্কি-ঝামেলা। ট্রেনের ভাড়া কম হলেও পরের ধাপগুলোতে হতো বাড়তি খরচ। সে কারণে ট্রেনের চেয়ে সড়কেই বেশি আস্থা রেখেছেন আমচাষি, বাগান ব্যবসায়ী ও পশু ব্যবসায়ীরা।

রেল সূত্র জানায়, ট্রেনে আম পরিবহনে খরচ হতো চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে কমলাপুর পর্যন্ত এক টাকা ৪৭ পয়সা কেজি। একইভাবে কম খরচে কোরবানির পশু পরিবহন করা হতো।

রেলওয়ের বাণিজ্যিক দপ্তরের তথ্যমতে, ২০২০ সালে ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনে আয় হয়েছে ১৩ লাখ ৩৭ হাজার ৫৩৬ টাকা, বিপরীতে ব্যয় ৫৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। ২০২১ সালে আয় ২৬ লাখ ৩০ হাজার ৯২৮ টাকা, ব্যয় ৫৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ২০২২ সালে আয় দুই লাখ ১২ হাজার এক টাকা, ব্যয় ১২ লাখ ৪০ টাকা। ২০২৩ সালে আয় চার লাখ ৪৮ হাজার ৫০২ টাকা, ব্যয় ১৯ লাখ ৬২ হাজার টাকা। যদিও ২০২৪ সালে ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন চালু ছিল। গত পাঁচ বছরে এসব স্পেশাল ট্রেন থেকে রেলওয়ে আয় করেছে প্রায় ৫০ লাখ টাকা। এর বিপরীতে ব্যয় হয়েছে দুই কোটি টাকার বেশি। সে হিসাবে রেলের লোকসান হয়েছে প্রায় দেড় কোটি টাকা।

জেলা কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুনজের আলম মানিক বলেন, জেলার সর্ববৃহৎ কানসাটসহ বড় আমবাজারগুলো থেকে স্টেশনের দূরত্ব অনেক বেশি। তাছাড়া ট্রেনগুলো যে সময় ছাড়া হতো সেটা কৃষকবান্ধব সময় নয়। কৃষকদের স্বার্থে ট্রেন দেওয়া হলেও তাদের মতামতের ভিত্তিতে সূচি নির্ধারণ না করায় উদ্যোগটি সফল হয়নি।

এদিকে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বাজারজাতকরণ-সংক্রান্ত সভায় এ নিয়ে আলোচনা হলে রেলের পক্ষ থেকে কৃষকদের আশার বাণী শোনানো হয়। রেল কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসককে আশ্বস্ত করেন, এ বছর আমের সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ছেড়ে যাওয়া বনলতা ট্রেনে আম বা সবজি পরিবহনের জন্য একটি মালবাহী ওয়াগন রাখা হবে।

তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার চাহিদা মিটিয়ে ৫৮ হাজার ৮৪৮টি পশু উদ্বৃত্ত থাকলেও পশু পরিবহনের জন্য কোনো আশার বাণী শোনায়নি রেল বিভাগ। গত পাঁচ বছর লোকসান দেওয়ায় এ বছর থাকছে না পশু পরিহনের কোনো সুবিধা।

খামারি আব্দুল বাতেন বলেন, ‘কৃষক ও খামারিদের সঙ্গে আলোচনা করে ট্রেনগুলো দেওয়া হলে লোকসান গুনতে হতো না। এর জন্য রেল কর্তৃপক্ষই দায়ী। অথচ আমাদের ওপর দায় চাপিয়ে পশু পরিবহনের সেবাটি রেল কর্তৃপক্ষ বন্ধ করে দিল।’

পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ফরিদ আহমেদ বলেন, আমচাষি, বাগান মালিক ও খামারিদের অনীহার কারণে ট্রেন পরিচালনার খরচ ওঠেনি। এ কারণে ম্যাঙ্গো ও ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন না চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

×