প্রাকৃতিক খাবারে বেড়ে ওঠা গরু ওজনে মেপে বিক্রি
ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬ | ০৬:৫৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
ঈদুল আজহা সামনে রেখে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে প্রস্তুত করা হয়েছে ১১০টি দেশি ষাঁড় গরু। উপজেলার বৃহৎ খামারগুলোর অন্যতম ‘মেসার্স আমিন অ্যাগ্রো ফার্ম’-এ এখন জমে উঠেছে কোরবানির পশুর বেচাকেনা। খামারে এসে ক্রেতারা ৫০০ থেকে ৫১০ টাকা কেজি দরে লাইভ ওজনে গরু কিনতে পারছেন। ফলে স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি বাইরের ক্রেতা ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও বাড়ছে এ খামারের চাহিদা।
ফুলবাড়ী পৌরসভার স্বজনপুকুর এলাকার শিল্পপতি রুহুল আমিন প্রায় পাঁচ বছর আগে শখের বশে এই খামার শুরু করেন। বর্তমানে অটো রাইস মিল, ইটভাটা ও অন্যান্য ব্যবসার পাশাপাশি খামারটিকে বড় পরিসরে সম্প্রসারণ করেছেন। ফুলবাড়ী-রংপুর মহাসড়কের পাশে কয়েক একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এই খামার এখন শুধু ব্যবসায়িক উদ্যোগই নয়, স্থানীয়দের কাছে একটি আকর্ষণীয় মডেল ফার্ম হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে। গরুর পাশাপাশি এখানে রয়েছে ছাগল, ভেড়া, হাঁস, মাছ ও মহিষ।
স্থানীয়রা জানান, ছোট ব্যবসা থেকে যাত্রা শুরু করে বর্তমানে কয়েকশ কোটি টাকার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন রুহুল আমিন। তবে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতেও বিনিয়োগ করে তিনি এলাকায় নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন।
খামার সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ফার্মে
৭৫টি দেশি ষাঁড় ও ৩৫টি বকনা গরু রয়েছে। প্রতিটি গরুর ওজন ১৮০ থেকে ৩৫০ কেজির মধ্যে। এ ছাড়া রয়েছে ৫০ থেকে ৬০টি গাভী ও বেশ কিছু বাছুর।
ফার্মের ম্যানেজার ওমর ফারুক বলেন, ‘আমাদের খামারে আড়াই শতাধিক গরুর নিয়মিত দেখভালের জন্য ১০ থেকে ১১ জন কর্মচারী কাজ করছেন। দেশি গরুর পাশাপাশি ফ্রিজিয়ান, শাহিওয়াল ও হরিয়ানা জাতের গরুও রয়েছে। গরুগুলোকে প্রাকৃতিক খাবার যেমন ঘাস, খড়, ভুসি, খৈল এবং নিজেদের মিলের খুদের গুঁড়া খাওয়ানো হয়।’ তিনি জানান, বাজারের তুলনায় এখানে গরুর স্বাস্থ্য ভালো। লাইভ ওজনে বিক্রি হওয়ায় প্রতারণার ভয়ও কম। গত দুই সপ্তাহে ২০ থেকে ২৫টি বড় গরু বিক্রি হয়েছে। একেকটি গরুর দাম ৭৫ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত।
খামারে গরুর খাবারের জন্য আলাদা জমিতে উন্নত জাতের ঘাস চাষ করা হয়েছে। এ ছাড়া নিজেদের জমিতে উৎপাদিত ভুট্টা থেকে প্রস্তুত করা হয় বিশেষ ফিড, যা বাজারের ফিডের তুলনায় অনেক বেশি পুষ্টিকর ও নিরাপদ বলে দাবি খামার কর্তৃপক্ষের।
খামারের উদ্যোক্তা শিল্পপতি রুহুল আমিন বলেন, ‘খামার একটি লাভজনক শিল্প। আমাদের খামারে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবারে গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া লালন-পালন করা হয়। কোরবানির জন্য ১১০টি গরু প্রস্তুত রয়েছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও আমরা যুক্ত হয়েছি। বাইরের অনেক ব্যাপারী যোগাযোগ করছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার এই ফার্ম দেখে অনেকেই খামার করতে আগ্রহী হচ্ছেন। অনেকে পরামর্শ নিতে আসছেন। এটি শুধু ব্যবসা নয়, স্থানীয় অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখছে।’
ফার্মটির ব্যক্তিগত চিকিৎসক মো. মঞ্জুরুল
হক বলেন, ‘খামারের গরুগুলোকে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। প্রাণিসম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে টিকা ও ভ্যাকসিনও নিশ্চিত করা হচ্ছে।’
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সারোয়ার হাসান বলেন, ‘খামারিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আসছে কোরবানির ঈদে উপজেলায় চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে।’ তিনি জানান, উপজেলায় বর্তমানে খামারির সংখ্যা ৪ হাজার ৪১২ জন। মোট পশুর সংখ্যা চাহিদার তুলনায় বেশি হওয়ায় এবার কোরবানির বাজারে কোনো সংকট হবে না।
- বিষয় :
- গরু
