রডবাহী ট্রাক উল্টে নিহত ১৫
পথে পথে যাত্রী নিলেও থামায়নি পুলিশ
ঈদযাত্রায় সারাদেশে সড়কে নিহত আরও ১৬ জন
টাঙ্গাইলে দুর্ঘটনায় নিহত একজনের স্বজনের আহাজারি। গতকাল সোমবার নওগাঁর রাজেন্দ্রবাটি গ্রামে -সমকাল
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬ | ০৮:০৩ | আপডেট: ২৬ মে ২০২৬ | ১২:৪৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
তারা সবাই ছিলেন শ্রমজীবী। চট্টগ্রাম থেকে বাসে হাজার-বারোশ টাকা ভাড়া দিয়ে নওগাঁ যাবেন– সেই সামর্থ্য ছিল না। তবুও ঈদ বলে কথা, যেতে হবে আপনজনের কাছে। সন্তানদের জন্য খেলনা আর পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য নতুন জামা কিনে ঘরে ফিরতে কম ভাড়ায় চেপেছিলেন রডবোঝাই ট্রাকে। সেই ট্রাক ১৬ ঘণ্টা চলার পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে গেলে রডের নিচে পিষ্ট হয়েছেন ১৫ জন। তাদের ১০ জনই নওগাঁর বাসিন্দা; পেশায় ছিলেন ফেরিওয়ালা। আহত হয়েছেন ১০ জন।
গতকাল সোমবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্তে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সরাতৈল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঈদের তিন দিন আগে থেকে মহাসড়কে পণ্যবাহী যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ট্রাকে যাত্রী পরিবহনও নিষিদ্ধ। তার পরও কীভাবে ঢাকা মেট্রো-ট-১২-৫৪৭১ নম্বরের ট্রাকটি চট্টগ্রাম থেকে পথে পথে ৩০ জন যাত্রী তুলে সাড়ে তিনশ কিলোমিটার দূরের যমুনা সেতু পর্যন্ত গেছে– এ প্রশ্নের জবাব এখনও মেলেনি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ট্রাকের যাত্রীদের ভাষ্যে নিশ্চিত হওয়া যায়নি, কী কারণে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, টানা ১৬ ঘণ্টা ট্রাক চালানোর কারণে চালক ক্লান্ত ছিলেন বা ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। বিআরটিএর তথ্যানুযায়ী, ফিটনেসসহ ট্রাকটির সব কাগজ হালনাগাদ রয়েছে। চালককে না পাওয়ায় ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য পাওয়া যায়নি।
টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার মহাসড়কের দুই পাশে সার্ভিস লেন চার লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। দুর্ঘটনা ঘটেছে যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্তের থানা থেকে এক কিলোমিটার দূরে। চার লেনের নির্মাণকাজ পাঁচ বছরেও সম্পন্ন হয়নি। সার্ভিস লেনে যানবাহন চলছে। সেতুমুখী লেন থেকে ট্রাক সড়কের পাশে পড়ে সোমবার ভোরের প্রাণহানি ঘটে।
মন্ত্রী দায় দিলেন চালককে
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ঘটনার সাত ঘণ্টার মধ্যেই দাবি করেছেন, ট্রাকচালকের ভুল ছিল। তিনি বলেছেন, ১৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় চালকের ভুল ছিল। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য ও প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য অনুযায়ী, চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। তবে সড়ক ব্যবস্থাপনায় কোনো ত্রুটি ছিল না।
হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. দেলোয়ার হোসেন মিঞা সমকালকে বলেন, পণ্যবাহী যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা শুরু হয় রোববার রাত ১২টার পর থেকে। ট্রাকটি চট্টগ্রাম থেকে যাত্রা করেছিল রোববার বিকেল ৩টার দিকে। তাই হাইওয়ে পুলিশ আটকায়নি।
পণ্যবাহী ট্রাকে যাত্রী পরিবহনের নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন– প্রশ্নে হাইওয়ে পুলিশপ্রধান বলেন, ট্রাকের দুই পাশের বেষ্টনী বেশ উঁচু। লোহার অ্যাঙ্গেল ছিল পাটাতনে। অল্প হলেও লোহা হওয়ায় ভারী ছিল। এর ওপরে ছিলেন যাত্রীরা। উঁচু বেষ্টনীর কারণে রাস্তা থেকে বোঝা যায়নি যাত্রী রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী চালকের আট ঘণ্টার বেশি ট্রাক চালানোর কথা নয়। পাঁচ ঘণ্টা পর এক ঘণ্টা বিরতি দেওয়ার কথা। কিন্তু ১৫-১৬ ঘণ্টা ধরে চলছিল।
দেলোয়ার হোসেন বলেন, যারা নিহত হয়েছেন, তারা সবাই খুবই গরিব। বাস ভাড়া দিয়ে যাতায়াতের মতো অবস্থাসম্পন্ন নন। এমন লাখ লাখ শ্রমজীবী মানুষ রয়েছেন, যারা ঈদে কম ভাড়ায় বাড়ি যেতে ট্রাকে চড়েন। মানবিক কারণ এবং বাস সংকটের কারণে পুলিশ আটকাতেও পারে না। ঈদে শ্রমজীবী গরিব যাত্রীদের জন্য সাশ্রয়ী বা ভর্তুকি ভাড়া চালু ছাড়া এ সমস্যার সমাধান দেখা যাচ্ছে না।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আদিবুল ইসলাম বলেন, সার্ভিস লেনটি একমুখী। বিপরীত দিক থেকে গাড়ি আসার আশঙ্কা নেই। ফলে অন্য কোনো গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়নি। চালকের হয়তো ঘুম ঘুম ভাব ছিল অথবা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশেই উল্টে নিচে পড়ে গেছে।
১৫ জন ঘটনাস্থলেই নিহত
টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব থানার ওসি ফুয়াদ রোহানী জানান, চট্টগ্রামের অলংকার মোড় থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী লোহার অ্যাঙ্গেল বারবোঝাই ট্রাক উল্টে ঘটনাস্থলেই ১৫ জন নিহত হন। আহতদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে টাঙ্গাইল পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। প্রথমে ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার শুরু করে। লোহার নিচে চাপা পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে পরে যোগ দেয় হাইওয়ে পুলিশ ও সেতু কর্তৃপক্ষ। রেকার দিয়ে উল্টে যাওয়া ট্রাক এবং লোহার নিচ থেকে বের করা হয় হতাহতদের।
নিহতরা হলেন নওগাঁর মান্দা উপজেলার সাকিম মিয়ার ছেলে মো. সাগর মিয়া (২০), একই এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম (২৫), রাজশাহীর তানোর উপজেলার আলতাফ হোসেনের ছেলে ইসমাইল হোসেন (১৯), চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার নজরুল (৬০), সদর উপজেলার মামুন (৪৫), নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার সাইদুলের ছেলে সারিকুল (২৫), মান্দা উপজেলার আবদুর রশিদের ছেলে মো. বারি (২১) ও আবদুর রহিমের ছেলে বাদশা (৩২), মান্দা উপজেলার পাকুরিয়া গ্রামের রশিদের ছেলে গিয়াস (২০) ও তাঁর ভাই মাইনুল (২৮), রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের একাব্বরের ছেলে ইয়াকুব (২০), সুলতানের ছেলে তারেক (২০), নওগাঁর আলমগীর হোসেন সুজন, নাটোরের লালপুরের আলম মোল্লা ও কুষ্টিয়ার বৈরাগীর চরের হাসান আলী।
আহতরা হলেন নওগাঁর মান্দা উপজেলার মজিবরের ছেলে বাবু (৩৫), আবদুল রহিমের ছেলে আবদুল রহমান (৩৫), নাটোরের মৃত মান্নানের ছেলে নয়ন বিশ্বাস (৩২), দশপাড়া গ্রামের নজরুলের ছেলে তুহিন, নওগাঁর মান্দা উপজেলার সফেদ আলীর ছেলে আলমগীর (৪০), একই উপজেলার ছোরহাব আলীর ছেলে সিদ্দিক আলী (৪০), সাহেব আলীর ছেলে খোরশেদ (২৬), শহিদুলের ছেলে সমেজসহ ১০ জন।
টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা এস এম হুমায়ুন কারনায়েক বলেন, ঘটনাস্থলেই রডের নিচে চাপা পড়ে ১৫ জন নিহত হন।
আহত ও প্রত্যক্ষদর্শীরা যা বলছেন
আহত তরিকুল ইসলাম বলেন, তিনিসহ চারজন চাঁপাইনবাবগঞ্জে যেতে রোববার দুপুর দেড়টার দিকে চট্টগ্রামের অলংকার মোড় থেকে ট্রাকে চড়েন; চারজন দুই হাজার ৩০০ টাকা ভাড়ায়। চট্টগ্রামে তারা দিনমজুরি করেন। ঈদে পরিবার-পরিজনের জন্য কেনাকাটা করে বাড়ি ফিরছিলেন। ট্রাকের পাটাতনে রডের ওপর ত্রিপল বিছানো ছিল।
তরিকুল জানান, ট্রাকটি রোববার বিকেল সাড়ে ৫টায় ফেনীতে আসে। সেখানে ২২ জন যাত্রী ওঠেন। ঢাকা থেকেও চারজন ওঠেন। সবাই গাদাগাদি করে লোহার বারের ওপর বসেন। ঢাকা পার হওয়ার পর ঘুমিয়ে পড়েন তরিকুল। তিনি বলেন, ট্রাকটি কখন উল্টে যায়, বুঝতে পারেননি। পরে নিজেকে হাসপাতালে দেখেন।
নওগাঁর মান্দার আবদুর রহমানসহ ১৮ জন ছিলেন ট্রাকে। সবাই পরস্পরের আত্মীয়। তারা নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে লেইস ফিতা, শিশুদের খেলনা, কানের দুলসহ নানা জিনিসপত্র ফেরি করে বিক্রি করেন। রহমান বলেন, ফেনী থেকে জনপ্রতি ৩৫০ টাকা ভাড়ায় ট্রাকে উঠেছিলেন। ফেনী থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত ট্রাকচালক রাস্তায় তিনবার থামেন। ভোরে টাঙ্গাইল ছাড়ার পর অনেকেই ঘুমিয়ে পড়েন। যারা ঘুমিয়ে ছিলেন, তাদের অনেকেই রডের নিচে পড়ে মারা যান। শুনেছেন, তার ভাইও মারা গেছেন। এ ছাড়া আপন দুই ভাই গিয়াস ও মাইনুল মারা গেছেন।
হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছেন বাবু। বাড়ি নওগাঁর মান্দায়। তাঁর হাত-পায়ের বিভিন্ন স্থানে কেটে গেছে। বুকে প্রচণ্ড চাপ লেগেছে। তিনি বলেন, ‘গাড়ি চলছিল। ভোরের আলো ফোটার আগে ট্রাক উল্টে যায়। ছিটকে পড়লাম। বুকের ওপর রড ও সাত থেকে আটজন পড়ে। আল্লাহই বাঁচিয়েছেন। আমার সামনেই কয়েকজন মারা গেছেন।’
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাদিকুর রহমান বলেন, হাসপাতালে ১৫ জনের মরদেহ আনা হয়েছে। এ ছাড়া মুমূর্ষু অবস্থায় আরও চারজনকে আনা হয়। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, প্রাথমিক ধারণা, চালক নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
জেলা প্রশাসক শরিফা হক বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার ও আহতদের ১৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।
রাজাপুরে নিহত মোটরসাইকেল আরোহী
রাজাপুর (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি জানান, সোমবার বরিশাল-ভাণ্ডারিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কে উপজেলার বলাইবাড়ী গ্রামের খোন্নারবাড়ী এলাকায় এক্সক্যাভেটরের ধাক্কায় সিহাব উদ্দীন নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। তিনি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া শাখার কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট কর্মকর্তা পদে কমর্রত ছিলেন। ঈদের ছুটিতে ভাণ্ডারিয়া থেকে বাড়ির উদ্দেশে যাচ্ছিলেন।
বগুড়ায় মা-মেয়ে ও বাবা-মেয়ে নিহত
বগুড়া ব্যুরো জানায়, ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের শাজাহানপুরে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আনিছুর রহমান (৩৫) ও তাঁর চার বছর বয়সী মেয়ে পুষ্প নিহত হয়েছে। আনিছুর রহমানের স্ত্রী আহত আয়েশা বেগমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বগুড়া ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম জানান, ব্র্যাকে ক্রেডিট অফিসার হিসেবে কর্মরত আনিছুর রহমান তাঁর স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে ঈদে পাবনায় যাচ্ছিলেন।
এদিকে, কাহালুতে চিকিৎসককে দেখিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বাসচাপায় ভ্যানযাত্রী মা-মেয়ে নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ভ্যানচালক। গতকাল বিকেলে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে কাহালু উপজেলার কাজীপাড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন কাহালু উপজেলার কাজীপাড়া গ্রামের বাবুল তালুকদারের স্ত্রী জেমি আক্তার (৩৮) ও মেয়ে তাইফা আয়েশা তনু (১৯)।
আলফাডাঙ্গায় মুদি দোকানি নিহত
আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, আলফাডাঙ্গায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মুদি দোকানি নিহত হয়েছেন। ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল তিনি মারা যান। তাঁর নাম নান্নু মিয়া (৬৫)। এর আগে গত রোববার রাতে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় তিনি আহত হন।
মিঠামইনে সন্তানসহ স্বামী-স্ত্রী নিহত
মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, অষ্টগ্রাম-মিঠামইন অলওয়েদার সড়কে সোমবার সন্ধ্যায় সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন মনির হোসেন (৩৫), তাঁর স্ত্রী মুন্নি আক্তার (৩০) ও তাদের সন্তান আয়ান (৬)। মনির মিঠামইন উপজেলার মহিষেরকান্দি গ্ৰামের সাফাজ উদ্দিনের ছেলে। মনির মোটরসাইকেলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে অষ্টগ্রাম থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। ভাতশালা সেতুর কাছে পৌঁছালে অষ্টগ্ৰামগামী একটি পিকআপ মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে এতে ঘটনাস্থলে তিনজন মারা যান।
গোপালগঞ্জে বাস, মাইক্রো ও প্রাইভেটকারের ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ১
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গোপালগঞ্জে বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারের ত্রিমুখী সংঘর্ষে মাইক্রোবাসের চালক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৫ জন। তবে নিহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। গতকাল দুপুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সোনাশুর নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সুন্দরগঞ্জে অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ নিহত
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি জানান, সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এম এ আউয়াল সরকার (৫৫) নিহত হয়েছেন। রোববার রাতে আল হেকমা মাদ্রাসাসংলগ্ন বামনডাঙ্গা-গাইবান্ধা সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি গাইবান্ধা থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। আউয়াল সরকার মনিরাম গ্রামের সৈয়দ আলীর ছেলে।
পত্নীতলায় সড়কে ঝরল দুই প্রাণ
নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, পত্নীতলায় রোববার রাতে সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। নজিপুর-ধামইরহাট সড়কের গাহন মোড় থেকে প্রায় ৫০০ গজ উত্তরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, মহাদেবপুর উপজেলার সুজাইল গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে আবু হাসান (৪৬)। তিনি পেশায় অটোভ্যানচালক ছিলেন। অপর নিহত ব্যক্তি ধামইরহাট উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের মৃত অছিউদ্দিনের ছেলে তরিকুল ইসলাম (৪৫)। তিনি পেশায় মাইক্রোবাস চালক ছিলেন।
শাহজাদপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিশু নিহত
শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, শাহজাদপুর উপজেলার বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কের দিলরুবা বাসস্ট্যান্ড ও মশিপুর এলাকায় গতকাল পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন– পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার হলুদঘর গ্রামের সবুজ প্রামাণিকের মেয়ে সারা খাতুন (৮) এবং শাহজাদপুর উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের মশিপুর গুচ্ছগ্রামের আলমগীরের ছেলে আহম্মদ (৭)।
মানিকগঞ্জে নিহত ১
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মানিকগঞ্জ-হেমায়েতপুর আঞ্চলিক সড়কের কিটিংচর এলাকায় মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে এক মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরেক আরোহী গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মো. কাউসার আহম্মেদ (১৮) সিংগাইর উপজেলার আঠালিয়া এলাকার মো. শহিদুল ইসলাম মোমেনের ছেলে।
- বিষয় :
- মৃত্যু
- সড়ক দুর্ঘটনা
- নিহত
