চাঁদপুরে অর্ধশতাধিক গ্রামে ঈদুল আজহা উদযাপন
সকাল ৮টায় দরবারের মাদ্রাসা মাঠে প্রথম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: সমকাল
চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ মে ২০২৬ | ১২:১৯ | আপডেট: ২৭ মে ২০২৬ | ১৬:৩৪
সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুরের অর্ধশতাধিক গ্রামে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করা হয়েছে। বুধবার বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও জেলার হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ, মতলব ও কচুয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঈদের উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়। ঈদের নামাজ আদায়ের পর ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে পশু কোরবানি করেন। কোথাও কোথাও বৃষ্টির মধ্যেও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরীফকে কেন্দ্র করে এ আগাম ঈদ উদযাপন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৮টায় দরবারের মাদ্রাসা মাঠে প্রথম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন পীর মাওলানা আরিফ চৌধুরী। পরে সকাল সাড়ে ৮টায় দরবার মাঠে দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ইমামতি করেন পীর জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানি।
ভোর থেকেই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসল্লিরা জামাতে অংশ নিতে সমবেত হন। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পশু কোরবানি দেন মুসল্লিরা।
সাদ্রা দরবারের পীর মাওলানা আরিফ চৌধুরী বলেন, 'সারাবিশ্বে আজ ঈদ উদযাপিত হচ্ছে, আমরাও সেই অনুযায়ী ঈদ পালন করছি। সরকারি ঘোষণার কারণে অনেকেই আমাদের সঙ্গে একসঙ্গে ঈদ করতে পারছেন না। তবে মানুষ এখন ধীরে ধীরে সরকারের ঘোষণার অপেক্ষা না করে আন্তর্জাতিকভাবে মিল রেখে ঈদ উদযাপনের দিকে ঝুঁকছেন।'
জানা গেছে, ১৯২৮ সাল থেকে সাদ্রা দরবার শরীফের মরহুম পীর মাওলানা ইসহাক (রহ.) সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও দুই ঈদ উদযাপনের প্রথা চালু করেন। সেই ধারাবাহিকতায় তাঁর অনুসারীরা চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় একই দিনে রোজা পালন ও ঈদ উদযাপন করে আসছেন।
চাঁদপুরে যে গ্রামগুলোতে ঈদ উদযাপন হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে সাদ্রা, প্রতাপপুর, বাশারা, তেলিশাইর, পনিশাইর, বলাখাল, সমেশপুর, লক্ষ্মীপুর, কামতা, সুরঙ্গ চাউল, উভারামপুর, গল্লাক, ভুলাচোঁ, সোনাচোঁ, উটতলি, কাইতাড়া, বদরপুর, মুন্সিরহাট, শোল্লা, গোবিন্দপুর, মোহনপুর, দশানী ও পাঁচানীসহ আরও কয়েকটি গ্রাম।
