ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

‘আছকার বাজারে গরুর দাম বালা পাইছি, মুই খুব খুশি’

‘আছকার বাজারে গরুর দাম বালা পাইছি, মুই খুব খুশি’
×

ছবি: সমকাল

মিটামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৭ মে ২০২৬ | ২২:৫০

রাত পোহালেই পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদকে সামনে রেখে আজ বুধবার ছিল কিশোরগঞ্জের মিঠামইনের শেষ পশুর হাট। সকাল থেকেই প্রবল ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে কোরবানির পশু কিনতে হাটে ভিড় করেন ক্রেতারা। হাওরাঞ্চলে টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন রাস্তা-ঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও ছিল নাজুক। অনেক এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। নদীপথে ট্রলার চললেও সময় লাগছে বেশি।

গত ১৯ মে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক পশুর হাটে দেশীয় গরু-মহিষের ব্যাপক আমদানি থাকলেও ক্রেতা ছিল তুলনামূলক কম। তখন কম দামে পশু কিনে অনেক ব্যাপারি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কোরবানির হাটে বেশি দামে বিক্রি করেছেন। তবে শেষ মুহূর্তে এসে মঙ্গলবার ও বুধবারের হাটে পশুর দাম বেড়ে যায়।

কম দামের কারণে আগের হাটে গরু বিক্রি না করে বাড়ি ফিরিয়ে নেওয়া অনেক কৃষক এবার ভালো দাম পেয়েছেন। রানীগঞ্জ এলাকার কৃষক আজমল মিয়া বলেন, ‘গত মঙ্গলবারে বেচবার লাগি ৪ টা গরু আনছিলাম, দাম হস্তা দেইখ্যা বেচ্চি না, বাইত লইয়া গেছি গা, আছকার বাজারে বালা দাম পাইছি। আওন যাওনের খরচটা গিয়া বালা টেহা লাভ থাকবো। মুই খুব খুশি।’  

অনেক কৃষক আবার গোখাদ্যের সংকটের কারণে আগের হাটেই কম দামে পশু বিক্রি করে দিয়েছেন। তবে শেষ মুহূর্তে বাজারে পাইকার কম থাকায় দেশীয় পশুর দাম কিছুটা বেড়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

আদমপুর ও শিবপুরের মিরাশ আলী ও নজরুল মিয়া বলেন, ‘কোরবানির লাগি একটি গরু একটি মহিষ কিনছি দাম একটু বেশি নিছে, বৃষ্টির মধ্যে যে যেমনে পারে গরু মহিষ কিনতাছে। ছাগল ভেড়ার দামও বেশি।’

আকবর আলি মিয়া নামে এক ক্রেতা ১৮ কেজি ওজনের একটা খাসি ক্রয় করেন ২৪ হাজার টাকা দিয়ে। তিনি বলেন, ‘সবোর্চ্চ প্রতি কেজি দেড় হাজার টাকা দাম পড়ছে। কালকা ঈদ তাই বেশি দাম দিয়া কিইন্না নিছি। সামনে আর পশুর হাট নাই।’

এদিকে কয়েকজন ক্রেতা অভিযোগ করেছেন, মিঠামইন বাজারে পশুর খাজনা অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে। হবিগঞ্জের মাদনা এলাকার এক ক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, ‘কোন কোন মাইনষের কাছ থেইক্কা গরু পিছে এক হাজার—দুই হাজার টাকা নিতাছে। আমরা বিদেশী লোক আমরার কথা কওয়ার কোন সুযোগ নাই।’

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাটের ইজারাদার শাহেরীল আলম তপন শিকদার। তিনি বলেন, ‘পশুর ধরন অনুযায়ী ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত হাসিল নেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই।’

হাটে এদিন সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকায় একটি গরু বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে। নান্দাইলের গরু ব্যবসায়ী মুসলেহ উদ্দিন বলেন, ‘গত হাটের তুলনায় এবার গরু-মহিষের দাম বেশি। ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি দেশীয় গরুর দিকে।’

কসাই ফুল মিয়া জানান, ‘খামারের গরুর তুলনায় দেশীয় গরুর মাংসের স্বাদ ভালো হওয়ায় ক্রেতারা দেশি গরুকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে অনেক খামারির গরু বিক্রি না হয়ে ফেরত যাচ্ছে।’

চৌদ্দশত এলাকার খামারি রমজান আলী বলেন, ‘৮টা গরু আনতেই প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হইছে। এখন কম দামে বিক্রি করলে পোষাবে না। তাই লোকসান দিয়ে গরু বিক্রি করমু না।’

মিঠামইন প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. হিজায়েল মাহমুদ বলেন, ‘পশুর হাটে আমাদের মেডিকেল টিম রয়েছে। এছাড়াও পশু চিকিৎসকদের ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসার কাজে লাগিয়েছি। পশুর হাটে কোন সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিবে।’

আরও পড়ুন

×