‘আগে যে চামড়া দেড় হাজারে বিক্রি হতো, তা এখন ৩০০ টাকা’
মোস্তফা কামাল, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৬ | ২০:২৪
এখন আর আগের মতো কোরবানি ঈদের দিন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পশুর চামড়া কেনেন না। বাধ্য হয়ে বিনা টাকায় দান করতে হয় মাদ্রাসায়। এতে দরিদ্র মানুষ চামড়ার টাকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আবার এসব ব্যবসায়ীই বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে পানির দামে চামড়া কিনে বেশি লাভবান হচ্ছেন।
শুক্রবার বিকালে কিশোরগঞ্জ শহরের আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসায় গেলে কেয়ারটেকার আসাদ মিয়া ও ইদ্রিছ আলী জানান, মাদ্রাসায় এক হাজার ৩০০টি চামড়া জমা পড়েছিল। সেগুলো শহরতলির বৌলাই এলাকার এক ব্যবসায়ী নিয়ে গেছেন। লবণ মাখিয়ে রেখে দেবেন। ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে বিক্রি করে আলোচনাসাপেক্ষে মাদ্রাসার টাকা বুঝিয়ে দেবেন।
আসাদ মিয়া বলেন, কয়েক বছর আগেও তিনি একটি চামড়া দেড় হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। আর এখন তিন শ টাকায়ও বিক্রি করা যায় না।
তিনি আক্ষেপ নিয়ে বলেন, ওই সময় যে চামড়ার জুতা বিক্রি হয়েছে এক হাজার টাকায়, এখন তা বিক্রি হচ্ছে তিন হাজারে। অথচ তখনকার দেড় হাজার টাকার চামড়া এখন তিন শ টাকায়ও বিক্রি করা যায় না। সরকার দাম বাড়ালেও এর এক-চতুর্থাংশ দামেও ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনতে চান না।
শহরের পৌর মার্কেট এলাকায় জেলার সর্ববৃহৎ চামড়ার হাটে গিয়ে দেখা গেছে, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কম দামে চামড়া কিনে লবণ মেখে স্তুপ করে রেখেছেন।
শহরতলির বগাদিয়া এলাকার সামছুদ্দিন নামের এক ব্যক্তি এক লাখ ৮০ হাজার টাকা দামের একটি গরুর চামড়া এনেছেন বিক্রির জন্য। সদর উপজেলার চৌদ্দশত এলাকার নয়ন রবিদাস নামের এক ব্যবসায়ী দাম বলছেন মাত্র আড়াই শ টাকা। সামছুদ্দিন জানান, তিনি জবাই করার পর গরুটির চামড়া ছাড়িয়ে দিয়েছেন। মালিকের কাছে আবদার করলে চামড়াটি বিনা পয়সায় তাকে দিয়েছেন। এখন বিক্রি করতে এসেছেন, দাম বলছে মাত্র আড়াই শ টাকা। ক্ষোভের সঙ্গে তিনি বলেন, রিকশা ভাড়া দিয়ে চামড়া ফেরত নিয়ে যাবেন, তবু আড়াই শ টাকায় বিক্রি করবেন না।
চামড়া ব্যবসায়ী নয়ন রবিদাস বলেন, ঢাকার ব্যবসায়ীরা চামড়ার ভালো দাম দেন না। যে কারণে তাদের পক্ষেও বেশি দামে কেনা সম্ভব নয়।
শহরের পুরানথানা এলাকার শিক্ষক লায়লা হক বলেন, তিনি এবার এক লাখ সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায় গরু কোরবানি দিয়েছিলেন। কিন্তু চামড়া বিক্রি করতে পারেননি। দান করে দিয়েছেন শহরের আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসায়।
গৌরাঙ্গবাজার এলাকার আইনজীবী ইশতিয়াক আহমেদ ভূঁইয়া জানান, তিনিও এক লাখ ছয় হাজার টাকার গরুর চামড়া বিক্রি করতে না পেরে আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসায় দান করে দিয়েছেন।
