ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

হাটে দাম নেই, গাইবান্ধায় সড়কেই পড়ে রইল চামড়া

হাটে দাম নেই, গাইবান্ধায় সড়কেই পড়ে রইল চামড়া
×

গাইবান্ধায় সড়কেই পড়ে আছে চামড়া। ছবি- সমকাল

গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৬ | ১৬:৫১

কোরবানি শেষে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিম খানায় চামড়া দিয়েছেন অনেকে। কিন্তু দুদিন অপেক্ষা করেও ক্রেতা সংকট ও ন্যায্য দাম না পেয়ে অনেকেই মহাসড়কের পাশে সেই চামড়া রেখে গেছেন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাদ্রাসা শিক্ষক বলেন, ‘প্রতিবছর মাদ্রাসায় অনেকে চামড়া দিয়ে যায়। বিগত বছরগুলোতে মাদ্রাসায় ক্রেতা এলেও এ বছর আসেনি। তাই ভ্যানে করে চামড়াগুলো মহাসড়কে নিয়ে এসেছি। পাইকার যাওয়ার পথে যদি কিনে এই আশায়। কিন্তু সারাদিন অপেক্ষা করেও পাইকার পাইনি। তাই রেখেই চলে যাচ্ছি।’

জানা গেছে, ঈদুল আজহায় জেলায় এক লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ পশুর চাহিদা ছিল। ঈদের দিন দুপুরের পর থেকেই গাইবান্ধার সব চেয়ে বড় চামড়ার হাট পলাশবাড়ীর কালিবাজারে চামড়া আসতে শুরু করে। 

অন্যদিকে, বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদ্রাসা দান করা পশুর চামড়া সংগ্রহ করে। কিন্তু দুদিন পরেও পর্যাপ্ত ক্রেতা না থাকায় চামড়া বিক্রি করতে না পেরে বিপাকে পড়ছেন তারা।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের মাদারপুর গ্রামের মানিক চন্দ্র হরিদাস (৫২) একজন ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ী । প্রতিবছর ঈদুল আজহার দিন সাইকেল নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে চামড়া কেনেন তিনি। পরে পলাশবাড়ী হাটে ঢাকা থেকে আসা পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন। কিন্তু পলাশবাড়ী হাট বসবে আগামী বুধবার (৩ জুন)। এদিকে, ঈদের দিন বড় পাইকাররাও আসেনি। তাই পলাশবাড়ীর স্থানীয় পাইকারদের কাছে চামড়া বিক্রি করতে গিয়েছিলেন মানিক চন্দ্র হরিদাস। পলাশবাড়ী হাটে চামড়া নিয়ে দুদিন অপেক্ষা করলেও কেউ দাম বলেনি।

ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ী মানিক চন্দ্র হরিদাস বলেন, ‘ঈদের দিন ধারদেনা করে প্রায় ৪০ হাজার টাকা দিয়ে গরুর চামড়া কিনেছি। এবারে চামড়ার দাম অনেক কম। স্থানীয় পাইকারি আড়তে চামড়ার প্রচুর আমদানি। কিন্তু পাইকাররা কিনছেন না। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন।’

গোবিন্দগঞ্জ পৌরশহরের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নাজমুল হক বলেন, ‘ঈদের দিন ৫০ হাজার টাকার গরুর চামড়া কিনেছি। বিকালে গোবিন্দগঞ্জ শহরের একটি আড়তে বিক্রি করতে গিয়েছিলাম। কেউ দাম করেনি। পরদিন পলাশবাড়ীর হাটে নিয়ে যাই। সেখানেও কেউ দাম করেনি।’ 

নাজমুল হক বলেন, ‘চামড়া কিনে কী করব? আমরা বিক্রি করব কোথায়?’ বিক্রি করতে না পেরে চামড়া বাড়িতে এনে লবণ দিয়ে রেখেছেন বলে জানালেন এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ী বলেন, ‘দাদন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চড়া সুদে ৪০ হাজার টাকার চামড়া কিনেছি। চামড়া কিনে বিপদে পড়েছি। মহাজনরা ছাগলের চামড়ার দামই বলেননি।’

এ বিষয়ে পলাশবাড়ীর চামড়া ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে চামড়া কিনেছেন। ফলে তাদের কাছ থেকে বেশি দামে চামড়া কিনতে মহাজনরা আগ্রহী হচ্ছেন না। এছাড়া এবছর ল্যাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত পশুর চামড়া পাওয়া যাচ্ছে। ফলে স্থানীয় পাইকাররা চামড়া কিনতে ভয় পাচ্ছেন।’

পলাশবাড়ী চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির নেতা মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘প্রতিবছর হাটের দিন ঢাকা থেকে ট্যানারির মালিকরা চামড়া কিনতে আসেন। আগামী বুধবারও তাদের আসার কথা। তাদের চাহিদার ওপর চামড়ার বাজার অনেকটা নির্ভর করছে।’ 

আরও পড়ুন

×