ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ঈদের ছুটিতেও পর্যটক নেই হাওরে

ঈদের ছুটিতেও পর্যটক নেই হাওরে
×

ছবি: সমকাল

মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৬ | ১৯:৩০

কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চলের তিন উপজেলা—ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামকে যুক্ত করা ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ অলওয়েদার সড়কে এ বছর পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে পর্যটকের ভিড়ে নেই। পর্যটক না আসায় চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সড়কের ওপর ধানের বর্জ্য ফেলে পরিবেশ নষ্ট করার অভিযোগ, যাকে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার ঈদের পর দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের সংখ্যা একেবারেই নগণ্য। ঈদের দিন বৃহস্পতিবার বিকেলে কেবল স্থানীয় কিছু মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে সড়কটির তিনটি জিরো পয়েন্ট ও সেতুগুলোতে ঘোরাঘুরি করেছেন। শুক্রবার ও শনিবার সকাল থেকে পর্যটকদের উপস্থিতি কিছুটা বাড়লেও তা অন্যান্য বছরের তুলনায় অত্যন্ত কম।

লোকসানের মুখে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা

পর্যটক সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ভাসমান ও স্থায়ী দোকানিরা। অলওয়েদার সড়কের তিনটি বড় সেতুতে চটপটি, ফুচকা ও ঝালমুড়ির প্রায় ৩০টি ভ্রাম্যমাণ দোকান রয়েছে। এখানকার ব্যবসায়ীরা জানান, বিগত বছরগুলোতে ঈদের সময়ে প্রতিটি দোকানে দৈনিক ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা বিক্রি হতো। আর এবার গত দুই দিনে ১ হাজার টাকাও বিক্রি করতে পারেননি তারা। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, আসন্ন বর্ষা মৌসুমেও যদি পর্যটক না আসে, তবে তাদের ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।

একই চিত্র স্থানীয় রেস্তোরাঁগুলোতেও। অষ্টগ্রাম জিরো পয়েন্টের 'ফুড ব্যাংক' ও 'হাওর ফুড'-এর মালিক সাইফ উদ্দিন লিচু এবং 'নিরিবিলি' ও 'জিরো পয়েন্ট' রেস্তোরাঁর মালিকরা জানান, পর্যটকের আশায় প্রতিদিন বিভিন্ন পদের ফাস্টফুড ও খাবার তৈরি করা হলেও ক্রেতা মিলছে না। এই অবস্থা চলতে থাকলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।

পর্যটক কমে যাওয়ার কারণ

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যাচ্ছে, অলওয়েদার সড়কে সম্প্রতি কয়েকটি সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে। তাছাড়া ইটনা থেকে অষ্টগ্রাম পর্যন্ত সড়কের ওপর স্থানীয় কৃষকদের ধানের বর্জ্য ও খড়ের স্তূপ করে রাখার কারণে রাস্তার সৌন্দর্য নষ্ট হয়েছে। ফলে পর্যটকের আগ্রহ হারাচ্ছে হাওর এলাকা।

একসময় দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং চলচ্চিত্র শিল্পীদের আনাগোনায় মুখর থাকত এই অলওয়েদার সড়ক। এখানকার দিল্লির আখড়া, গোধর গোস্বামীর আখড়ার পাশাপাশি সাবেক বিতর্কিত ডিআইজি হারুন-অর-রশিদের 'প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট' ছিল পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। স্থানীয়রা জানান, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রিসোর্টটি পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকলেও বর্তমানে তা লিজের মাধ্যমে পুনরায় চালু করা হয়েছে। তবে আগের সেই জৌলুস ও লোকসমাগম এখন আর নেই।

অষ্টগ্রাম বাজার বণিক সমিতির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন জানান, বৈরি আবহাওয়া, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং রাস্তায় ধানের বর্জ্যের কারণে পর্যটকরা এবার মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। পর্যটন শিল্পকে বাঁচাতে এই বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করা প্রয়োজন।

মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘রাস্তার পরিবেশ নষ্টকারী ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করা এই খড় ও বর্জ্য দ্রুত অপসারণের জন্য ঈদের আগেই মালিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যারা এখনো এটি সরাননি, প্রশাসনের সহযোগিতায় তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লিয়াকত আলী জানান, ‘সড়কের দুপাশের বর্জ্য ও খড়ের স্তূপ দ্রুত অপসারণের জন্য কঠোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পর্যটকদের সুরক্ষায় প্রতিদিন পুলিশের নিয়মিত টহল জোরদার রয়েছে। হাওরে নতুন পানি এলে পর্যটকদের সংখ্যা আবার বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।’

আরও পড়ুন

×