লাঠি দিয়ে নারীকে পেটালেন আ’লীগ নেতা, ভিডিও ভাইরাল
প্রতীকী ছবি
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৬ | ২১:২৬ | আপডেট: ৩১ মে ২০২৬ | ২২:২৬
লাঠি হাতে এক নারীকে বেধড়ক পেটাচ্ছেন এক ব্যক্তি। এ ঘটনা দেখে আশপাশের উপস্থিত লোকজন শুরু করেন চিৎকার। তবুও থামছে না পিটানো। এমন একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিকমাধ্যমে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা এলাকায় গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. হাবিবুল্লাহ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করতে থানায় হাজির হন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) অধ্যাপক ডা. এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।
আজ রোববার দুপুরের পর এমপি শ্রীপুর থানায় উপস্থিত হয়ে হামলার ঘটনায় জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দেন। এর আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আহত ওই নারীকে দেখতে যান তিনি।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনূর আলম জানান, রোববার সকালে এ ঘটনায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা হয়েছে। এছাড়াও মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, কাউন্সিলর হাবিবুল্লাহর সঙ্গে মামলার বাদী তাজুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলছে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিরোধপূর্ণ জমিতে বিবাদীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও তারা তা অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তাজুল ইসলাম বলেন, শনিবার সকালে ওই জমিতে থাকা গাছ থেকে কাঁঠাল কাটতে গেলে প্রথমে বাধা দেয় অভিযুক্তরা। পরে হাবিবুল্লাহর নেতৃত্বে তার লোকজন লাঠি দিয়ে আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় নারীসহ পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়।
হামলার সময় স্বর্ণালঙ্কার লুট এবং এক নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগও করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই এলাকার সমলা খাতুন, সাইফুল ইসলাম, মাসুদা আক্তার ও বীথী আক্তার নামে ৪ জন আহত হয়েছেন।
এ দিকে হামলার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে একজন নারীকে লাঠি দিয়ে আঘাত এবং গালিগালাজ করতে দেখা যায়। পরে আরেক যুবকও ওই নারীর দিকে তেড়ে যেতে দেখা যায়।
সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগের শাসনামলে সে (মো. হাবিবুল্লাহ) এলাকায় দুর্ধর্ষ হিসেবে পরিচিত ছিল। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে। সে এখনও এলাকায় এসে ত্রাস সৃষ্টি করে, মায়েদের গায়ে হাত তোলে, শিশুদের নির্যাতন করে।'
শ্রীপুর থানার ওসি বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের কয়েকটি টিম কাজ করছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।
- বিষয় :
- গাজীপুর
- আওয়ামী লীগ
- মারধর
