ঈদের টানা ছুটিতে পর্যটনের খরা ঘুচল লাউয়াছড়ায়
ঈদের টানা ছুটিতে লাউয়াছড়ায় পর্যটকদের ঢল। ছবি-সমকাল
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৬ | ২৩:২৪
ঈদুল আজহার ছুটির শুরুর দিকে পর্যটক শূন্যতার কারণে বিরূপ প্রভাব ছিল শ্রীমঙ্গলসহ মৌলভীবাজারের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায়। তবে ঈদের তৃতীয় দিন সেই খরা কেটেছে কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে পর্যটকদের ঢল নামায়।
জাতীয় উদ্যান ব্যস্ত থাকলেও এখনও সেভাবে জমে ওঠেনি চায়ের রাজধানী-খ্যাত শ্রীমঙ্গলের পর্যটন স্পটগুলো। পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন সময়ের সঙ্গে হোটেল ও রিসোর্টগুলোতে বাড়ছে বুকিং। আশা করা যাচ্ছে, শেষ পর্যন্ত তাদের হতাশ হতে হবে না।
ঈদের তৃতীয় দিন সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ছুটির শুরু থেকেই বন বিভাগ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এদিন তা ছিল আরেকটু কড়াকড়ি।
রোববার দুপুরে সরেজমিন জাতীয় উদ্যান এলাকা ঘুরে দেখা যায়, যান্ত্রিক জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে পরিবার-পরিজন নিয়ে পর্যটকরা ভিড় করছেন লাউয়াছড়ার সবুজ অরণ্যে। বনের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া পাহাড়ি পথ আর উঁচু-নিচু টিলার মাঝে সময় কাটাতে পেরে উচ্ছ্বসিত তারা। বিশেষ করে শিশু ও তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উদ্যানের মূল ফটক থেকে শুরু করে বনের ভেতরের প্রতিটি ট্রেইলে ছিল পর্যটকদের দীর্ঘ সারি।
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান সহ-ব্যবস্থাপনা নির্বাহী কমিটির সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) আমিনা বেগম জানান, ‘ঈদের টানা ছুটিতে পর্যটকের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বনের পরিবেশ রক্ষা এবং পর্যটকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে বনকর্মী ও সিপিজি সদস্যরা সার্বক্ষণিক কাজ করছেন। শুরুর দিনে চা কম থাকলেও তৃতীয় দিনে তা কয়েকগুণ বেড়েছে।
পর্যটকদের এই ব্যাপক উপস্থিতিতে চাঙা হয়ে উঠেছে স্থানীয় পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ব্যবসাগুলো। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের পাশাপাশি কমলগঞ্জসহ পাশের শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলোতেও পর্যটকদের সমাগম বাড়তে শুরু করেছে। নয়নাভিরাম মাধবপুর লেক, বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ, হামহাম, মণিপুরি পল্লি, খাসিয়াপুঞ্জি ও শ্রীমঙ্গলের চা বাগানগুলোতেও পর্যটকদের ঢল নেমেছে।
এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন বিভাগ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বনের নীরবতা বজায় রাখা এবং পরিবেশ রক্ষায় পর্যটকদের প্লাস্টিক বর্জন করার জন্য বন বিভাগ ও সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষ থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়।
ঈদের ছুটিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ঘুরতে আসেন রাহেলা ও তাঁর পরিবার। তারা এ প্রতিনিধিকে বলেন, পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঘুরতে এসেছিলেন। এখানকার প্রকৃতি খুবই সুন্দর, ঘুরতে ভালো লাগছে। শুধু এই জায়গা না চা বাগানসহ মণিপুরি পল্লিও দেখেছেন তারা। দারুণ অভিজ্ঞতার কথা জানান এই পর্যটক পরিবার।
ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা রতন কুমার দে বলেন, এখানে আসায় সময় কাটানোর খুব সুন্দর পরিবেশ পেয়েছেন। এ প্রাকৃতিক পরিবেশ খুবই আনন্দদায়ক ছিল তাদের জন্য। পরিবার নিয়ে ঘুরতে খুবই ভালো লেগেছে।
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের টিকিট কালেক্টর অজানা আহমেদ কামরান বলেন, ঈদের ছুটিতে প্রথম দুদিন পর্যটকের সংখ্যা কম ছিল। শনিবার সকাল থেকে পর্যটকের উপস্থিতি অনেক বেড়েছে। বনের পরিবেশ রক্ষা এবং পর্যটকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে বনকর্মী ও সিপিজি সদস্যরা সার্বক্ষণিক কাজ করছেন।
ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল জোনের উপপরিদর্শক আশরাফুল আলম বলেন, ঈদের টানা ছুটিতে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্রে ট্যুরিস্ট পুলিশ দায়িত্বে আছে। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
