আমুর বাড়ি ভাঙচুরের দায় অস্বীকার
চাপে পড়ে ঝালকাঠির এনসিপি আহ্বায়কের পদত্যাগ
মাইনুল ইসলাম মান্না
বরিশাল ব্যুরো
প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬ | ০১:৩৮ | আপডেট: ০২ জুন ২০২৬ | ০১:৪৩
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঝালকাঠি জেলা আহ্বায়ক মাইনুল ইসলাম মান্না দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার বিষয় তিনি পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন। তবে দলের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, তাঁর বিরুদ্ধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ ছিল। গত ৬ মে আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমুর বাড়ি ভাঙচুরে এনসিপির সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করায় চাপে পড়ে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন।
গত ২৩ মে ঝালকাঠি সার্কিট হাউসে এনসিপির সভায় নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন মান্না। তখনই সিদ্ধান্ত হয় তাঁকে বহিষ্কার করা হবে। ওই রাতেই তিনি হোয়াটসঅ্যাপে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান। তবে ৩১ মে রাতে পদত্যাগপত্রটি ফেসবুকে পোস্ট করলে বিষয়টি জানাজানি হয়।
পদত্যাপত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে কিছু সমস্যার সৃষ্টি হওয়ায় জেলা আহ্বায়কের দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি গ্রহণ করতে ইচ্ছুক।’
এনসিপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ আমলে মান্না জেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক কামাল শরীফের সহযোগী ছিলেন। কামালের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অসংখ্য ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। তিনি পালবাড়ি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজাদ রহমানকে সদর উপজেলা এনসিপির সমন্বয়ক করেন। এসব নিয়ে বিতর্ক হলে আজাদ এনসিপি থেকে সরে যান ও পরে বিএনপিতে যোগ দেন।
গত ৬ মে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন পরিচয়ধারী একদল যুবক ঝালকাঠি শহরে আমুর বাড়ির গেট খুলে নিয়ে যায়। তখন ছাত্রশক্তির কয়েকজন নেতা জানান, স্বৈরাচারের দোসরের বাড়ির চিহ্ন রাখা হবে না। ওই বাড়িতে খেলার মাঠ করা হবে। ঘটনার রাতেই মান্না ফেসবুক পোস্টে লিখেন, ‘এনসিপির পক্ষ থেকে কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়’। এতে এনসিপির নেতাকর্মীরা মান্নার ওপর ক্ষুব্ধ হন।
এনসিপি সূত্র জানায়, গত ২৩ মে ঝালকাঠি সার্কিট হাউসে দলের সংরক্ষিত আসনের এমপি ডা. মাহমুদা মিতু নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তখন একাধিক নেতাকর্মী মান্নার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলেন। তারা উল্লেখ করেন, আমুর বাড়ির গেট ভাঙার পর মান্না ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বিএনপির সঙ্গে লিয়াজোঁ করেছেন। এসব অভিযোগ শুনে বৈঠকেই ডা. মিতু এমপি জেলা আহ্বায়ক কমিটি বাতিলের ঘোষণা দেন।
এ বিষয়ে আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোস্তফা কামাল জানান, মান্নার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠতার তথ্য-প্রমাণ কেন্দ্রীয় কমিটির হাতে। পরিস্থিতি বুঝে তিনি অব্যাহতি দিয়েছেন।
জেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ইয়াসিন ফেরদৌস ইফতি সার্কিট হাউসে অভিযোগ আনার বিষয় নিশ্চিত করে বলেন, অব্যাহতি নেওয়ার বিষয়টি মান্নার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
পদত্যাগ করার কথা স্বীকার করে মান্না সমকালকে বলেন, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ব্যস্ততা থাকায় দল করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তবে দল থেকে এখন পর্যন্ত কিছু জানানো হয়নি।
