ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে পাঁচ বাংলাদেশি, মিলছে না খোঁজ

পাটগ্রামের ৪ তরুণকে ফেরানোর দাবি স্বজনের

পাটগ্রামের ৪ তরুণকে ফেরানোর দাবি স্বজনের
×

মেহেদী হাসান, নাজমুল হক সৌরভ, আব্দুল্লাহ আল মামুন, আল আমিন

পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬ | ০৮:১২

| প্রিন্ট সংস্করণ

‘আমার ছেলেটাকে ফিরিয়ে দেন, আমরা আর কিছু চাই না।’ এমন আকুতি ছিল একের পর এক মায়ের কণ্ঠে। এছাড়া কারও চোখে অশ্রু, কারও হাতে সন্তানের ছবি। প্রিয়জনদের নিরাপদে দেশে ফেরানোর দাবিতে গতকাল সোমবার পাটগ্রাম উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন চার যুবকের স্বজন ও এলাকাবাসী। ভুক্তভোগী এ পরিবারগুলো সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে তাদের সন্তানদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।

অভিযোগ উঠেছে, উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এই চার যুবককে রাশিয়ায় পাঠানোর পর সেখানে রুশ সেনাবাহিনীর কাছে ‘ভাড়াটে যোদ্ধা’ হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া পরিবারগুলো অভিযোগ করেন– জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি ও সম্প্রতি সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়া উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি ইউনুস আলী এবং পৌর যুব বিভাগের সাধারণ সম্পাদক মাহিন ইসলাম জনপ্রতি সাড়ে ৯ লাখ টাকা নিয়ে তাদের সন্তানদের বিদেশে পাঠিয়েছেন।

ভুক্তভোগী চার যুবক হলেন– পাটগ্রাম সদর ইউনিয়নের টেপুরগাড়ী এলাকার দেলদার রহমানের ছেলে নাজমুল হক সৌরভ (২১), রাবিউল ইসলামের ছেলে মেহেদী হাসান (২১), সর্দারপাড়া এলাকার আফজাল হোসেনের ছেলে আল আমিন (২০) ও আব্দুল মজিদের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন (২২)।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বৈধভাবে গার্মেন্টস বা নির্মাণশ্রমিকের চাকরির আশ্বাসে তাদের রাশিয়ায় পাঠানো হয়। গত ৮ মে মস্কো পৌঁছানোর পর যুবকদের সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগ থাকলেও পরে তাদের রুশ সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। পাসপোর্ট, ভিসা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার পর থেকেই যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

নাজমুল হক সৌরভের বাবা দেলদার হোসেন বলেন, ‘জমিজমা বন্ধক রেখে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলাম। এখন শুনছি তাকে যুদ্ধের ময়দানে পাঠানো হয়েছে। আমরা শুধু ছেলেকে জীবিত ফিরে চাই।’ মেহেদী হাসানের বাবা রাবিউল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন আতঙ্কে থাকি। ছেলে বেঁচে আছে কি না সেটাও জানি না।’

এদিকে গত শনিবার রাতে চার পরিবারের পক্ষ থেকে পাটগ্রাম থানায় পৃথক চারটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পাটগ্রাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) স্বপন পাল বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে ইউনুস আলী দাবি করেন, যুবকেরা বৈধ কাগজপত্র নিয়ে বিদেশ গেছেন এবং সেখানে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে মাহিন ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ ঘটনায় তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
পাটগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমির হাফেজ শোয়াইব আহমেদ বলেন, অভিযোগ ওঠার পরই সংশ্লিষ্ট দুজনকে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের সঙ্গে এ ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই।

আরও পড়ুন

×