ফরিদপুরে হামে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ২০
ছবি: সমকাল
ফরিদপুর অফিস
প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬ | ১৬:০৫ | আপডেট: ০২ জুন ২০২৬ | ১৬:০৬
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে জেলায় হামে আক্রান্ত ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ জনে। মঙ্গলবার সকালে ফরিদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
মারা যাওয়া দুই শিশুর মধ্যে একজন মুকসুদপুর উপজেলার চন্ডীপর্দি গ্রামের বরকতের সাত মাস বয়সী ছেলে আয়ান। অপরজন ফরিদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর এলাকার রাফসানের দুই বছর বয়সী মেয়ে আদিবা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু দুজন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে সোমবার মৃত্যু হয়।
চিকিৎসকরা জানান, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো চিকিৎসা ও টিকাদান না হলে শিশুদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, অপুষ্টিসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের শুরু থেকেই ফরিদপুর অঞ্চলে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগই শিশু। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘হামের সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অভিভাবকদের অবশ্যই শিশুদের নিয়মিত টিকাদানের আওতায় আনতে হবে। টিকাই হামের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা।’
তিনি আরও জানান, ‘জেলার প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামে আক্রান্ত রোগীদের জন্য পৃথক ইউনিট চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালেও বিশেষ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। চলমান বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের দ্রুত টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। আমরা আশা করছি, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার কমে আসবে।’
- বিষয় :
- হাম
- হামের উপসর্গ
- শিশু
