ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কম দামে জমি কিনতে চাপ, রাজি না হওয়ায় মামলা

পিপলস সিটির বিরুদ্ধে ওয়ারিশদের অভিযোগ

কম দামে জমি কিনতে চাপ, রাজি না হওয়ায় মামলা
×

সংগৃহীত

নওগাঁ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬ | ১৮:৫৬

নওগাঁ পৌর এলাকায় কম দামে জমি হাতিয়ে নিতে জমির মালিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে ‘পিপলস সিটি’ নামের একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে শহরের একটি রেস্টুরেন্টের মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ করেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।

সংবাদ সম্মেলনে প্রয়াত রিয়াজ উদ্দিনের ২২ জন ওয়ারিশের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দেওয়ান মিজানুর রহমান। তিনি জানান, তাঁর দাদা রিয়াজ উদ্দিন ১৯৭৩ সালে ফজলুর রহমান দেওয়ানের কাছ থেকে নওগাঁ পৌরসভার কোমাইগাড়ী মৌজার আরএস ১৫৮ নম্বর খতিয়ানের ৪৫৪ নম্বর দাগে ৮২ শতক জমি কেনেন। মৃত্যুর আগে তিনি ওই সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তর করেননি। ফলে বর্তমানে ২২ জন ওয়ারিশ পৈত্রিক সূত্রে সম্পত্তিটির বৈধ মালিক। 

তিনি বলেন, সব আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জমি তাদের নামে নামজারি সম্পন্ন হয়েছে। তারা নিয়মিত খাজনা-কর পরিশোধ করে জমি ভোগদখল করে আসছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, তাদের জমির পাশে ‘পিপলস সিটি’ আবাসন প্রকল্প গড়ে ওঠার পর প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মহিউদ্দিন আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে জমিটি কম দামে কিনে নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। কিন্তু ওয়ারিশরা এতে রাজি না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে নওগাঁ আমলি আদালতে একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ওয়ারিশদের দাবি, পিপলস সিটির চেয়ারম্যান ও নওগাঁ জজকোর্টের আইনজীবী কাজী আতিকুর রহমান মামলার বাদী। মামলা দায়েরের পাশাপাশি কিছু অনলাইন মাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করে তাদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।

দেওয়ান মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। অথচ আমাদের কাছে বৈধ দলিল, নামজারি ও সরকারি নথিপত্র রয়েছে। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন হোক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।’ তিনি ভূমি মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপও চেয়েছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পিপলস সিটির চেয়ারম্যান কাজী আতিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘যে ৪৫৪ নম্বর দাগে তারা জমির মালিকানা দাবি করছেন, সেই দাগে আমি দেওয়ান রেজাউল করিমের কাছ থেকে ৩৩ শতক জমি কিনেছি এবং আরও ৪৮ শতক জমির জন্য বায়নামা করেছি। বিষয়টি যাচাই করতে গিয়ে দলিল ও খারিজ-সংক্রান্ত কিছু অসংগতি দেখতে পাই।’

তিনি দাবি করেন, ওয়ারিশদের মালিকানার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত দলিলটি ১৯৭২ সালে সম্পাদিত হলেও ১৯৭৩ সালে নিবন্ধিত হয়েছে, যা আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। এছাড়া দলিলে সাব-রেজিস্ট্রারের দুটি ভিন্ন ধরনের স্বাক্ষর রয়েছে বলেও তাঁর অভিযোগ।

কাজী আতিকুর রহমান বলেন, ‘এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই আমি আদালতে মামলা করেছি। তদন্তকারী কর্মকর্তা বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করবেন। তদন্তে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে সেটি আদালতেই প্রতীয়মান হবে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মামলাকে মিথ্যা বা হয়রানিমূলক বলা ঠিক হবে না।’

সংবাদ সম্মেলনে প্রয়াত রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে দেওয়ান আব্দুস সালাম, নাতি দেওয়ান মনোয়ার, দেওয়ান শহীদসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন

আরও পড়ুন

×