ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ঈদের ছুটিতে ঋণ আদায়, এনজিও কার্যালয়ে নারী আটক

ঈদের ছুটিতে ঋণ আদায়, এনজিও কার্যালয়ে নারী আটক
×

সংগৃহীত

জয়পুরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬ | ১৯:০৪

জয়পুরহাটের কালাইয়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় এক নারী সদস্যকে বাড়ি থেকে ডেকে এনে এনজিও কার্যালয়ে দীর্ঘ সময় আটকে রেখে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান জেআরডিএমের এরিয়া ব্যবস্থাপক ও মাঠকর্মী। 

রোববার কালাই পৌর শহরের এনজিওপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। রাতে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে এনজিও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আলপনা বেগমকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি ছেলের সঙ্গে বাড়ি ফিরে যান।

ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কালাই পৌর শহরের আওড়া কালিমুহুর মহল্লার দিনমজুর বাবলু সরকারের স্ত্রী আলপনা বেগম পাঁচ বছর ধরে জেআরডিএমের কালাই শাখা থেকে ঋণ নিয়ে নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করে আসছিলেন। সর্বশেষ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি ৮০ হাজার টাকা ঋণ নেন। মাসিক কিস্তি ছিল ৮ হাজার ৫০০ টাকা। প্রথম পাঁচটি কিস্তি পরিশোধ করলেও দুই মাস ধরে তিনি কিস্তি দিতে পারেননি।
পরিবারের দাবি, ঈদের টানা ছুটির মধ্যেই রোববার বিকেলে এনজিওর মাঠকর্মী জাহানারা বেগম কিস্তির টাকা আদায়ের জন্য তাদের বাড়িতে যান। এ সময় আলপনা বেগমের ছেলে আজিজার রহমান কয়েক দিন সময় চাইলেও তা না মেনে কৌশলে আলপনা বেগমকে অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়।

আজিজার রহমান বলেন, ‘আমি নিজেও একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। দুই মাস ধরে বেতন পাইনি। তাই কিস্তি দিতে পারিনি। মাকে নিয়ে যাওয়ার পর অফিস থেকে ফোন করে বলা হয়, টাকা জমা দিয়ে মাকে নিয়ে যেতে। টাকার ব্যবস্থা করতে না পেরে আমি অসহায় হয়ে পড়ি। সাত ঘণ্টা ধরে আমার মাকে আটকে রেখে মানসিক চাপ দেওয়া হয়েছে।’

ভুক্তভোগী আলপনা বেগম বলেন, ‘পাঁচ বছর ধরে কখনও কিস্তি বাকি রাখিনি। ছেলের বেতন বন্ধ থাকায় দুই মাসের কিস্তি দিতে পারিনি। এজন্য আমাকে অফিসে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখা হয়। বারবার ছেলেকে ফোন করে টাকা চাওয়া হয়েছে। বিভিন্নভাবে ভয়ভীতিও দেখানো হয়েছে। অপমানজনক আচরণে আমি ভেঙে পড়েছিলাম।’

অভিযোগের বিষয়ে মাঠকর্মী জাহানারা বেগম বলেন, ‘অফিসের চাপ ছিল। তাই তাঁকে অফিসে নিয়ে এসে কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। টাকা দিলে তাঁকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হতো। মাস শেষে লক্ষ্য পূরণের চাপ থাকায় ছুটির দিনেও কাজ করতে হয়।’

এনজিওটির এরিয়া ব্যবস্থাপক মো. আরমান হোসেন সরকার বলেন, দুই মাস ধরে কিস্তি বকেয়া ছিল। শতবার তাঁর বাসায় গিয়ে তাগাদা দেওয়া হয়েছে। কাজ হয়নি। তাই তাঁকে অফিসে আনা হয়েছে। টাকা দিলে ছেড়ে দেওয়া হতো। হেড অফিস থেকেও আমাদের ওপর চাপ রয়েছে।’ তবে শাখা ব্যবস্থাপক আবু রায়হান ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে বলেন, ‘বন্ধের দিনে সদস্যকে অফিসে আনা ঠিক হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আর বাড়াবাড়ি না করাই ভালো।’

এ বিষয়ে কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কাউকে জোর করে আটকে রাখতে পারে না। ঋণ আদায়ের জন্য আইনগত প্রক্রিয়া রয়েছে। ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
 

আরও পড়ুন

×