ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের দাবিতে ক্ষেতমজুর-কৃষক সংগঠনের বিক্ষোভ

অর্থমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি

কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের দাবিতে ক্ষেতমজুর-কৃষক সংগঠনের বিক্ষোভ
×

সংগৃহীত

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬ | ১৮:২২

কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো এবং কৃষক-শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবিতে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠন।

বুধবার দুপুর ১২টায় জেলা শহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিল শেষে শহরের ১ নম্বর রেলগেট এলাকায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে অর্থমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন সংগঠনের নেতারা।

সমাবেশে জেলা সভাপতি গোলাম ছাদেক লেবুর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বাসদ (মার্কসবাদী) গাইবান্ধা জেলা আহ্বায়ক ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আহসানুল হাবীব সাঈদ, জেলা সংগঠক নিলুফার ইয়াসমিন শিল্পী, ডা. আব্দুল জব্বার, কমরেড আয়নাল হক ও শাহজালাল তোতা প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে যুক্ত হলেও কৃষকরা ন্যায্য মূল্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত। কৃষি ও কৃষকদের রক্ষা না করলে দেশের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো, ১০ টাকায় ওএমএসের চাল বিতরণ, সারা বছর টিসিবির কার্যক্রম চালু রাখা এবং সেনাবাহিনীর সদস্যদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য রেশন ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান।

এ ছাড়া কৃষকের উৎপাদিত ধান, ভুট্টা, আলুসহ সব কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, সরকারি ক্রয়কেন্দ্র চালু, প্রতিটি ইউনিয়নে খাদ্যগুদাম নির্মাণ এবং জেলায় হিমাগার স্থাপনের দাবি তোলেন বক্তারা।

সমাবেশে কৃষি ঋণ মওকুফ, সার্টিফিকেট মামলা প্রত্যাহার, বিনাসুদে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান এবং এনজিও ও মহাজনি ঋণের হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

বক্তারা আরও বলেন, বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধীদের মাসিক ভাতা ৫ হাজার টাকায় উন্নীত করতে হবে। ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এমবিবিএস চিকিৎসক, নার্স নিয়োগ এবং পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ভূমি অফিস, রেজিস্ট্রি অফিস, পৌরসভা, তথ্য অফিস ও থানাসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে ঘুষ, দুর্নীতি ও হয়রানি বন্ধের দাবি জানান তারা।

ক্ষেতমজুরদের সারা বছর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, ১২০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচি চালু রাখা, হাটবাজারে অতিরিক্ত ইজারাদারি বন্ধ, পল্লী বিদ্যুতের লোডশেডিং নিরসন, খাসজমি উদ্ধার করে ভূমিহীনদের মধ্যে বিতরণ এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপনের দাবিও জানানো হয়। সমাবেশ শেষে সংগঠনের নেতারা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে অর্থমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।
 

আরও পড়ুন

×