ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

মামলা নিতে বিলম্ব লাশ নিয়ে থানা ঘেরাও স্বজনদের

মামলা নিতে বিলম্ব লাশ নিয়ে থানা ঘেরাও স্বজনদের
×

স্বজনরা আফাজ উদ্দিনের লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল শেষে সৈয়দপুর থানার প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় সৈয়দপুর-নীলফামারীগামী শেরে বাংলা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় -সমকাল

নীলফামারী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬ | ০৮:৩২

| প্রিন্ট সংস্করণ

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় প্রতিপক্ষের পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনায় দগ্ধ হওয়া ষাটোর্ধ্ব আফাজ উদ্দিন চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শনিবার মারা গেছেন। এ ঘটনায় মৃত্যুর তিন দিন পরও মামলা গ্রহণ না করায় স্বজন ও এলাকাবাসী লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল, থানা ঘেরাও এবং সড়ক অবরোধ করেছেন।

গতকাল সোমবার দুপুর ১টার দিকে নিহতের স্বজনরা লাশ নিয়ে শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন, পরে সৈয়দপুর থানার প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন। এতে থানা চত্বর ও সৈয়দপুর-নীলফামারীগামী শেরে বাংলা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিক্ষোভকারীরা ওসির অপসারণ দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। প্রায় তিন ঘণ্টা অবরোধের পর মামলা নথিভুক্ত এবং আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে স্বজন ও এলাকাবাসী কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। 

পরে নিহতের বড় ছেলে নুর হোসেন বাদী হয়ে ১১ জনকে আসামি করে সৈয়দপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার ভোরে উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের কাচারীপাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন আফাজ উদ্দিন। এ সময় দুর্বৃত্তরা বাড়িতে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন দেন বলে অভিযোগ উঠে। আগুনে তিনি প্রায় ৬০ শতাংশ দগ্ধ হন। প্রথমে তাঁকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে, পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার বার্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শনিবার বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহতের ছোট ছেলে আবু বকর সিদ্দিক জানান, তিন মাস আগে পাতা কুড়ানোকে কেন্দ্র করে একই ইউনিয়নের মাঝাপাড়া গ্রামের আব্দুস সালাম চঞ্চলের সঙ্গে তাদের বিরোধের সৃষ্টি হয়। ওই বিরোধের জের ধরে গত ৩ জুন রাতে তাঁর বড় ভাই নুর হোসেনকে মারধর করা হয়। পরে গভীর রাতে প্রতিপক্ষ বাড়িতে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন দেয় বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, বাবার মৃত্যুর পরও পুলিশ মামলা নেয়নি। উল্টো স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা লাশ নিয়ে থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা সমকাল প্রতিবেদককে বলেন, ঘটনার পর পরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় শুরুতে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পরে একটি এজাহার দেওয়া হলে এজহারে কিছু ত্রুটি থাকায় সংশোধনের বিষয়টি নিয়ে বিলম্ব হয়েছে। বর্তমানে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

আরও পড়ুন

×