তালিকায় চেয়ারম্যান, কৃষকের বরাদ্দ পেলেন বিধবা
ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬ | ০৮:০৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
ধর্মপাশায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারের বরাদ্দকৃত মানবিক সহায়তার তালিকায় রয়েছে ইউপি চেয়ারম্যনের নাম। স্থানীয়রা বলছেন, সমালোচনার মুখে মান বাঁচাতে কৌশলে এবার দাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন তিনি। তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে বঞ্চিত করা এ ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমসহ স্থানীয় পর্যায়ে সমালোচনার মুখে পড়েন ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক। এমন অবস্থায় তাঁর নামে যে সহায়তা ছিল তা তিনি তুলে দেন অসহায় এক নারীর হাতে। তবে এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের অভিযোগ, কৌশলে মান বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন চেয়ারম্যান। এই বরাদ্দ সুনির্দিষ্টভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ছিল। সেখানে নিজের নাম না সরিয়ে অকৃষক একজন স্বামীহারা নারীর হাতে তুল দেওয়া হলো বরাদ্দের সহায়তা। এ ঘটনায় ওই নারী কৃষক না হওয়ায় সরকারি সহায়তা বণ্টনের নীতিমালা ও স্বচ্ছতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
অতিবৃষ্টিতে হাওরে জলাবদ্ধতার কারণে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পাইকুরাটি ইউনিয়ন থেকে ৮৫৭ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়; যেখানে প্রত্যেক উপকারভোগী মাথাপিছু তিন হাজার টাকা ও ১৫ কেজি করে চাল পাবেন তিন মাস।
গত বুধবার ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রকাশ হলে সেখানে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক ও কিছু অকৃষক ব্যক্তির নাম সামনে আসে। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যম ও স্থানীয়ভাবে কঠোর সমালোচনা শুরু হয়। পরের দিন বৃহস্পতিবার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে সহায়তার টাকা ও চাল বিতরণের কথা ছিল। তবে সকাল থেকেই বঞ্চিত কৃষকরা সেখানে বিক্ষোভ করতে থাকেন এবং তালিকা সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত সহায়তা বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ রাখার দাবি জানান। তাদের ক্ষোভের মুখে সহায়তা বিতরণ বন্ধ রাখতে বাধ্য হন ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক।
এ নিয়ে শুক্রবার দৈনিক সমকালে ‘কৃষক সহায়তার তালিকায় ইউপি চেয়ারম্যান ও নেতাদের নাম’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। এদিকে সোমবার কয়েকটি ওয়ার্ডে সহায়তা বিতরণ করেন চেয়ারম্যান মোজাম্মেল। সেখানে একটি তালিকায় নিজের নামে থাকা বরাদ্দের সহায়তা গ্রহণ না করে রূপসা আক্তার নামে এক নারীর হাতে তুলে দেন। রূপসা আক্তার একই ইউনিয়নের সুনই গ্রামের মৃত নাসিম মিয়ার স্ত্রী। গেল রোববার নাসিম প্রতিপক্ষের মারধরে নিহত হন বলে জানা গেছে।
সহায়তা পাওয়া রূপসা আক্তার বলেন, ‘আমরা কৃষি কাজ করিনি। চার মেয়ে নিয়ে খুব অসহায় অবস্থায় আছি। সহযোগিতা পাওয়ায় খুব উপকার হয়েছে।’ সুনই গ্রামের বাসিন্দা ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, রূপসার পরিবার কৃষক না হলেও খুব অসহায়। তাই চেয়ারম্যান নিজে সহায়তা গ্রহণ না করে তা রূপসার হাতে তুলে দিয়েছেন।
পাইকুরাটি ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক বলেন, একজন কৃষক হিসেবেই তাঁর নাম ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় ছিল। সমালোচনা সৃষ্টি হওয়ায় সহায়তার বরাদ্দ একজন অসহায় নারীর হাতে তুলে দিয়েছেন। মানবিক দিক বিচেনায় সেটি করা হয়েছে। দ্রুত ওই নারীর নাম তাঁর নামের স্থলে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে; যাতে পরের দু’মাস তাঁর সহায়তা পাওয়া নিশ্চিত হয়।
- বিষয় :
- বিধবা