শজিমেক হাসপাতাল
রেডিওথেরাপি যন্ত্র বিকল দুর্ভোগে ১৬ জেলার রোগী
বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬ | ০৮:১৫ | আপডেট: ১০ জুন ২০২৬ | ০৮:৩৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
ক্যান্সার আক্রান্ত স্ত্রী মর্জিনা খাতুনকে রেডিওথেরাপি দিতে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে এসেছেন পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার বানিয়াপাড়া গ্রামের আব্দুল হক। প্রায় আড়াইশ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এসে জানতে পারেন, হাসপাতালের রেডিওথেরাপির যন্ত্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল। অগত্যা স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ফিরে যান তিনি।
সোমবার শজিমেক হাসপাতালের ক্যান্সার ইউনিটে আব্দুল হক সমকালকে বলেন, ‘আমাদের এলাকার ক্যান্সার আক্রান্তদের অনেকেই শজিমেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ আছেন।
তাদের মুখে শুনে স্ত্রীকে নিয়ে এখানে আসি। হাসপাতালে এসে জানতে পারি মেশিন নষ্ট। আমরা গরিব মানুষ। প্রাইভেট ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর মতো সামর্থ্য নেই বিধায় সরকারি হাসপাতালে এসেছিলাম। মেশিন নষ্ট থাকায় বাধ্য হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।’
জয়পুরহাটের পাঁচবিবির বাসিন্দা সাইদুজ্জামান বললেন, ‘প্রাইভেট হাসপাতালে ক্যান্সারের রেডিওথেরাপি দিতে প্রতি ডোজে (এক্সপোজার) লাগে ২ হাজার টাকা। এখানে লাগত মাত্র ২০০ টাকা। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে আমার বাবার এখান থেকেই চিকিৎসা করাচ্ছিলাম।’ থেরাপি মেশিন নষ্ট হয়ে পড়ে থাকায় বাবার চিকিৎসা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি।
শজিমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ক্যান্সার রোগীদের রেডিওথেরাপির একমাত্র লিনিয়ার এক্সিলারেটর মেশিনটি ২০২৩ সালের আগস্টে বিকল হয়ে যাওয়ার পর আর মেরামত করা হয়নি। যেদিন এটি বিকল হয়, সেদিনও হাসপাতালে রেডিওথেরাপি দিতে রোগীর সংখ্যা ছিল ৬৯ জন। এভাবে প্রতিদিন অন্ততপক্ষে ৬০-৭০ জন রোগীকে রেডিওথেরাপি দিতে হয়। মেশিনটি নষ্ট হলে ঠিক করার জন্য মন্ত্রণালয় অনুমোদনও দিয়েছিল। মেশিনটি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সিমেন্স কোম্পানি জানিয়ে দেয়, এটি মেরামত করতে প্রায় ৫ কোটি টাকা লাগবে, আর ঠিক করলেও বেশিদিন টিকবে না। এরপর মন্ত্রণালয় এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে আর সামনের দিকে এগোয়নি।
জানা গেছে, শজিমেক হাসপাতালের এই ক্যান্সার ইউনিটে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলা ছাড়াও কুষ্টিয়া এবং যশোর জেলা থেকেও রোগী আসেন। কারণ শজিমেক হাসপাতাল ছাড়া উত্তরাঞ্চলের সরকারি আর কোনো মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেডিওথেরাপি মেশিন নেই।
শজিমেক হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মোবাশ্বের উর রহমান জানান, রেডিয়েশন থেরাপি হলো এক ধরনের ক্যান্সার চিকিৎসা; যা ক্যান্সার কোষগুলো মারতে এবং টিউমার সংকুচিত করতে উচ্চ মাত্রার রেডিয়েশন ব্যবহার করা হয়। ক্যান্সার আক্রান্ত প্রায় ৭০ ভাগ রোগীকে রেডিয়েশন থেরাপি দিতেই হয়। সরকারি হাসপাতালে একেকটি রেডিয়েশন থেরাপির বা রেডিওথেরাপি পুরো কোর্সে যেখানে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সেখানে লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করতে হয়।
শজিমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মঞ্জুর ই মোর্শেদ বলেন, রেডিওথেরাপির নতুন মেশিন কেনার বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানতে পেরেছেন। শিগগিরই মেশিন পাবেন বলে তিনি আশাবাদী।
- বিষয় :
- শজিমেক