ঝালকাঠির নলছিটি
বিষখালী নদীর ভাঙনে ঝুঁকিতে পড়েছে চার বিদ্যালয়
জোয়ারে প্লাবিত নলছিটির ভবানীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ
নলছিটি (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০:০০
ঝালকাঠির নলছিটিতে বিষখালী নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চারটি বিদ্যালয়। ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে– ভবানীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইসলামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
তীব্র ভাঙনে ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে এসব বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ। জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হচ্ছে শ্রেণিকক্ষ। ভবনের দেয়ালে ফাটল ধরায় বিদ্যালয়ে চরম ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চলছে। এতে আতঙ্কে রয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানের ছয় শতাধিক শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক-অভিভাবকরা। ঝুঁকিতে থাকা বিদ্যালয়গুলো দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
গত শনিবার সরেজমিন দেখা গেছে, নাচনমহল ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের বিষখালী নদীর তীব্র ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ভবানীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং একই আঙিনার ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। গত দুই-তিন মাসে তীব্র ভাঙনে এই বিদ্যালয় দুটির ১০০ গজের মধ্যে নদী চলে এসেছে। ইতোমধ্যে এ দুই প্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠ বিলীন হয়েছে। নদীর পারঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা পুরোনো ভবনটিগুলো ঝুঁকিপূর্ণ। দেয়ালে দেখা দিয়েছে ফাটল, ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা। আতঙ্ক ও শিক্ষার পরিবেশ না থাকায় দিন দিন কমছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা।
একই অবস্থা উপজেলার পার্শ্ববর্তী রানাপাশা ইউনিয়নের হদুয়া গ্রামে ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত ইসলামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। নদীতে জোয়ার এলেই পানিতে তলিয়ে যায় শ্রেণিকক্ষ। এতে ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত পাঠদান। গত কয়েক বছর আগে নদী বিদ্যালয় থেকে বেশ খানিকটা দূরে ছিল। কিন্তু এ বছর গত ছয় মাসের তীব্র ভাঙনে বিদ্যালয় থেকে মাত্র দেড়শ গজ দূরে অবস্থান করছে নদী।
ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মন্মথ রঞ্জন সমাদ্দার বলেন, আমাদের বিদ্যালয়টি দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নতুন ভবন নির্মাণ করা একান্ত প্রয়োজন। ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
ইসলামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান বলেন, আমার বিদ্যালয়টি বছরে ছয় মাস পানিবন্দি থাকে। গত তিন-চার মাসের ভাঙনে বিষখালী নদী আমার বিদ্যালয়ের ১৫০ গজের কাছে চলে এসেছে। ভাঙন ঠেকাতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া অথবা বিদ্যালয়টি দ্রুত স্থানান্তর করা প্রয়োজন।
ভবানীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস জানান, বিষখালী নদীর ভয়াবহ ভাঙন আগের বছরগুলোর চেয়ে কয়েক গুণ বেড়েছে। গত তিন মাসে আমার বিদ্যালয়ের ১০০ গজের মধ্যে চলে এসেছে। এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে দু-এক মাসের মধ্যে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ নদীতে বিলীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মোল্লারহাট ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম বলেন, এই চারটি বিদ্যালয় দুই বছরের মধ্যে ভাঙনের ঝুঁকিতে নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে। দুর্গম এলাকার শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে এই বিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম টিকিয়ে রাখা প্রয়োজন।
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার বদরুল আমিন জানান, এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রক্ষার্থে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং এমপি মহোদয়কে জানানো হয়েছে।
ইউএনও প্রতীক কুমার কুণ্ডু বলেন, ‘বিদ্যালয়গুলো আমি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মহোদয় পরিদর্শন করে এসেছি। জেলা প্রাথমিক অধিদপ্তর এবং মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিদ্যালয়গুলো রক্ষার্থে কাছ করছি।’
- বিষয় :
- ঝালকাঠি