শাহজালাল বিমানবন্দরে ট্রলি সংকট, ভোগান্তিতে যাত্রী
ছবি: সংগৃহীত
শহিদুল আলম
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০:০৬
দুবাইয়ের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন আরমান হোসেন। তিন বছর পর দুই মাসের ছুটিতে তিনি সম্প্রতি দেশে ফেরেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে ফ্লাইট। ইমিগ্রেশন আনুষ্ঠানিক শেষে লাগেজ সংগ্রহের জন্য বিমানবন্দরের ৭ নম্বর কনভেয়ার বেল্টের সামনে যান আরমান। প্রায় ১ ঘণ্টা বেল্টের সামনে দাঁড়িয়ে থাকার পর লাগেজ পেলেও তা বহনের জন্য ট্রলি না থাকায় বিপাকে পড়েন। পরে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ট্রলি সংগ্রহ করে লাগেজ নিয়ে বের হন।
বিমানবন্দরের ক্যানোপি কার পার্কিং এলাকায় তিনি সমকালকে বলেন, কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার কারণে বিমানবন্দরে এ ধরনের ভোগান্তির পোহাতে হয়। আমার মতো অন্যান্য ফ্লাইটের যাত্রীরাও এমন পরিস্থির শিকার হচ্ছেন।
শেফালী নামে আরেক যাত্রী বলেন, শাহজালাল বিমানবন্দরের মতো এমন হয়রানি অন্য কোনো বিমানবন্দেরে নেই। কনভেয়ার বেল্ট থেকে লাগেজ পেতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।
যাত্রীদের অভিযোগ, শাহজালাল বিমানবন্দরে ট্রলি সংকট এবং বিভিন্ন অব্যস্থাপনা দিন দিন বাড়ছে। আবার বিমানবন্দর থেকে ট্রলিতে লাগেজ নিয়ে বের হতেও ঘটছে বিপত্তি। কারণ, টার্মিনাল-১ ও ২ এর ‘ক্যানোপি’ গ্রিল দিয়ে আটকানো। ফলে ট্রলিতে মালপত্র নিয়ে টার্মিনালের বাইরে যেতে পারছেন না যাত্রীরা। বাধ্য হয়ে মাথায় লাগেজ নিয়ে বের হচ্ছেন। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন বয়স্ক, নারী-শিশু ও অসুস্থ যাত্রীরা। অথচ বিশ্বের সব বিমানবন্দরেই ট্রলি নিয়ে বিমানবন্দর এরিয়ার যে কোনো প্রান্তে মালপত্র বহন করতে পারেন যাত্রীরা।
বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিদিন প্রায় ৩৪টি যাত্রীবাহী এয়ারলাইন্সের ১৫৯ থেকে ২০০ ফ্লাইট ওঠানামা করে। এসব ফ্লাইটে প্রায় ৩০-৩৫ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। যখন একসঙ্গে কয়েকটি উড়োজাহাজ অবতরণ করে তখন ট্রলি সংকট দেখা দেয়। এতে প্রায়ই ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। তবে তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে এসব সমস্যার সমাধান হবে।
শাহজালাল বিমানবন্দরের সার্বিক বিষয় দেখভাল করে বেসামরিক বিমান চলাচল (বেবিচক) কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটির দাবি, বিমানবন্দরে পর্যাপ্ত ট্রলি আছে। কিন্তু যখন একসঙ্গে চার-পাঁচটি উড়োজাহাজ অবতরণ করে, তখন ট্রলি সরবরাহে কিছুটা চাপ তৈরি হয়। এ চাপ লাঘবেই ক্যানোপির বাইরে ট্রলি নেওয়ার পথ বন্ধ করা হয়েছে।
জানতে চাইলে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ বলেন, বিমানবন্দরে যাত্রী ধারণক্ষমতা বছরে ৮০ লাখ। অথচ গেল বছর এক কোটি ২৭ লাখ যাত্রীকে
সেবা দেওয়া হয়েছে। চলতি বছর এর সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভবনা আছে। বিমানবন্দরে দিন দিন বাড়ছে যাত্রীদের চাপ। যাত্রীদের তুলনায় বাড়েনি বিমানবন্দরের পরিধি। এ ছাড়া লাগেজ সরবরাহে আছে মাত্র আটটি কনভেয়ার বেল্ট। একসঙ্গে ৮-১০টি ফ্লাইট অবতরণ করলে লাগেজ পেতে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় বেল্টে অপেক্ষা করতে হয়। এ ছাড়া ট্রলি পেতেও লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।
রাগিব সামাদ জানান, বর্তমানে তিন হাজার ৯২০টি ট্রলি আছে। এর মধ্যে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ২০০ থেকে ৩০০ ট্রলি আবর্তিত হতে থাকে। ফলে তিন হাজার ৭০০ থেকে তিন হাজার ৮০০ ট্রলি ব্যবহারের উপযোগী থাকে। যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে আরও ৫০০ ট্রলি কেনা হচ্ছে।
বেবিচকের সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড স্টোর ইউনিটের (সেমসু) পরিচালক আব্দুল করিম মোল্লা জানান, বিমানবন্দর যাত্রীদের জন্য ৫০০ ট্রলি কেনার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। গাজীপুর মেশিন টুলস কারখানা থেকে কেনা হচ্ছে এসব ট্রলি। এ মাসেই ২০০ ট্রলি সরবরাহ করা হবে। পরে এ কারখানা থেকে আরও ৩০০ ট্রলি সরবরাহ করবে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে।
- বিষয় :
- শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর