কারাগারে চিকিৎসা সংকট, সরঞ্জাম বাক্সবন্দি
কোলাজ
রাসেল মাহমুদ
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:০১ | আপডেট: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:০৩
গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বিশেষায়িত কারা হাসপাতাল নির্মাণসহ কারা হাসপাতালগুলোতে বন্দিদের আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় ১৪ বছর আগে কেনা হয় এক্স-রে মেশিন, অপারেশন থিয়েটারের যন্ত্রপাতি, এন্ডোস্কোপি, ইসিজি মেশিনসহ অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ না হওয়ায় কাশিমপুর বিশেষায়িত হাসপাতালটি চালু করা যায়নি। এতে এই হাসপাতালসহ কয়েকটি কারা হাসপাতালের জন্য প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা অধিকাংশ চিকিৎসা সরঞ্জাম বছরের পর বছর বাক্সবন্দি হয়ে থেকে কার্যত নষ্ট হয়ে গেছে।
কারা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, টেকনোলজিস্ট ও প্রশিক্ষিত জনবল না থাকায় কাশিমপুর কারা হাসপাতালটি চালু করা যায়নি। অন্য হাসপাতালেও ক্রয় করা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। কারা নিয়োগবিধিতে চিকিৎসক বা হাসপাতালের জন্য যেই জনবল দরকার, সেগুলো নিয়োগ হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে। কিন্তু এসব জনবল না থাকায় যন্ত্রপাতিও ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, দীর্ঘ দিন কারাবন্দিদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা থাকলেও তা কাটাতে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। বন্দির সংখ্যা বাড়লে তা আরও প্রকট হয়। বর্তমানে সারাদেশের কারাগারের ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার। কিন্তু গতকাল রোববার পর্যন্ত কারাগারে দ্বিগুণের বেশি ১ লাখ ৩ হাজার ১০ জন বন্দি রয়েছে। তাদের মধ্যে পুরুষ ৯৯ হাজার ১৫৫ জন এবং নারী ৩ হাজার ৮৫৫ জন। কারাগারে বন্দির সংখ্যা বাড়লেও অসুস্থ বন্দিদের দুর্দশা কাটছে না। গতকাল এক দিনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিন কারাবন্দি মারা গেছেন।
কারা হাসপাতাল-সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি ও কারা অধিদপ্তরের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ‘গাজীপুর জেলার কাশিমপুরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় ২০০৩ সালে কাশিমপুর-২ কেন্দ্রীয় কারাগারে তিন তলাবিশিষ্ট ২০০ শয্যার একটি কারা হাসপাতালের ভবন নির্মাণ শুরু হয়। ২০০৫ সালে হাসপাতালটির কাজ শেষ হয়। ২০১১ সালে প্রথমে অপারেশন থিয়েটারের যন্ত্রপাতি ও এক্স-রে মেশিন, পরে আল্ট্রাসনোগ্রামসহ অন্যান্য মেশিন কেনা হয়। প্রায় সব ধরনের রোগের চিকিৎসা উপযোগী এই কারা হাসপাতালের জন্য উন্নতমানের অপারেশন থিয়েটার ও যন্ত্রপাতি, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, প্যাথলজি ল্যাবসহ সবকিছু কেনা ও স্থাপন করা হয়। এসব যন্ত্রপাতি ক্রয়-সংক্রান্ত সুপারিশ কমিটিতে কারা অধিদপ্তরসহ গণপূর্ত, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধিরা ছিলেন। দুই ধাপে প্রায় ৯ কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা হয়।
হাসপাতালটির জন্য একজন তত্ত্বাবধায়ক, দুইজন সিনিয়র কনসালট্যান্ট, ৯ জন জুনিয়র কনসালট্যান্ট, ২০ জন মেডিকেল অফিসারসহ ১৫০ জনবলের অনুমোদন ছিল। কিন্তু দুই যুগেও এসব জনবল নিয়োগ হয়নি। এতে কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যায়নি। বাক্সবন্দি হয়ে আছে সেসব স্বাস্থ্যসেবার যন্ত্র।
এরপর বিভিন্ন সময়ে চট্টগ্রাম, কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ও খুলনা কারাগারের জন্যও এক্স-রে মেশিন, অপারেশন থিয়েটারের যন্ত্রপাতির সেট, ইসিজি মেশিন, এন্ডোস্কোপি মেশিনসহ প্রায় ৩ কোটি টাকার বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ দেড় দশকেও সেগুলো চালু করা সম্ভব হয়নি। এতে অধিকাংশ যন্ত্রপাতি এখন ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
১৯৯৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট একটি কারা হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়। পরে প্রায় ১ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনা হয়। তিনজন ডাক্তারসহ ১০টি পদ রাখা হয়। কিন্তু এসব জনবল আর নিয়োগ না হওয়ায় যন্ত্রপাতিও অব্যবহৃত।
এ ছাড়া খুলনায় ২০১১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১৭০ শয্যার কারা হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়। হাসপাতালটির জন্য ১ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনা হয়। কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ২০০৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ১৭২ শয্যাবিশিষ্ট কারা হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়। হাসপাতালটিতে প্রায় ৬১ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি কেনা হয়। হাসপাতাল দুটিতে আটজন চিকিৎসকসহ ১৯টি পদে লোক নিয়োগের অনুমোদন থাকলেও নিয়োগ না হওয়ায় এসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যায়নি।
কারাগারে চিকিৎসার ঘাটতির অভিযোগ
দেশের কারাগারগুলোয় চিকিৎসাসেবার সংকট, অবহেলা এবং জরুরি চিকিৎসার মারাত্মক ঘাটতির অভিযোগ আছে। গত বছরের ১৮ মে ‘মবের’ শিকার হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় গ্রেপ্তার হন ঝালকাঠির নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা ওয়ালিউল্লাহ সুমন। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
কয়েক মাস কারাভোগ করে ২৭ ডিসেম্বর জামিনে মুক্তি পাওয়া সুমন সমকালকে বলেন, আমাকে কারাগারের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু কোনো চিকিৎসাসেবা না পাওয়ায় আরও অসুস্থ হয়ে পড়ি। পরে ধীরে ধীরে কিছুটা সুস্থ হই। কারামুক্তির পর এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, এমআরআইসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় মাথার পেছনে রক্ত জমাট, মেরুদণ্ডে আঘাত এবং চোখে জটিলতা ধরা পড়ে। কারাগারে থাকাকালে কয়েকজন অসুস্থ বন্দির দুর্দশা দেখেছি।
গত ২৩ জুন চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার হন নুরুল আলম। তিনি ওই উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়নের নিষিদ্ধ যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। ওইদিনই তাঁকে আদালতের মাধ্যমে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। পরদিন সকালে কারাগারে হঠাৎ বুকে ব্যথা ও শ্বাস কষ্ট দেখা দিলে দ্রুত তাঁকে কারা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর ইসিজির রিপোর্ট খারাপ আসায় দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক ইকবাল হোসেন গত ৩১ জুলাই সমকালকে বলেন, আমাদের এখানে নিয়মিত চিকিৎসক থাকেন না। মেডিকেল অফিসার ছাড়া কোনো কনসালট্যান্টও নেই। প্রাথমিক কিছু চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর অসুস্থ বন্দিদের চিকিৎসা দেওয়ার সরঞ্জাম নেই।
কারা হাসপাতালটিতে ২০১৫ সালে আধুনিক সরঞ্জাম কেনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার বিষয়টি অনেক আগের, তাই আমার জানা নেই।
সব সরকারের আমলেই কারাগারে ও পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু নিয়ে দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। ২০২৪ সালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী, সাবেক এমপি-মন্ত্রী কারা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনদের পক্ষ থেকে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ করা হয়।
বর্তমানে দেশে ৭৫টি কারাগার চালু রয়েছে। প্রতিটি কারাগারে হাসপাতাল থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি রয়েছে। মাত্র ২৩টিতে অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। ৫৩টি কারাগারে অ্যাম্বুলেন্স নেই। তাই অসুস্থ বন্দিদের অনেক ক্ষেত্রেই বিকল্প ব্যবস্থায় হাসপাতালে নিতে হয়। এ সংকট নিরসনে নতুন করে ৪৪টি অ্যাম্বুলেন্স কেনার উদ্যোগ নিয়েছে কারা অধিদপ্তর। এ জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজকে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। আগামী বছরের জুনের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করা হতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
চিকিৎসক দুজন
কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অধিদপ্তরে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ১৫১টি। অথচ বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন চিকিৎসক। তাদের একজন মানিকগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে এবং অন্যজন রাজশাহী কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছেন। এই দুই প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসকদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা থাকায় সেখানে পদায়ন সম্ভব হয়েছে।
অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল থেকে ৮৭ জন চিকিৎসক নির্ধারিত সময়ে এসে প্রতিদিন প্রায় দুই ঘণ্টা করে বন্দিদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন। ল্যাব টেকনিশিয়ানের অনুমোদিত ১৩টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত মাত্র পাঁচজন। ডিপ্লোমা নার্সের ১০১টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে রয়েছেন ৩১ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ নার্স মাত্র দুজন। ফার্মাসিস্টের ৭৬টি অনুমোদিত পদের মধ্যে এখনও ৯টি শূন্য রয়েছে।
চিকিৎসক ও কারা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চিকিৎসকদের কারাগারে পদায়নে অনাগ্রহের পেছনে রয়েছে কয়েকটি কাঠামোগত সমস্যা। কারা অধিদপ্তরের চিকিৎসক পদ নন-ক্যাডার হলেও চিকিৎসকরা বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের সদস্য। ফলে তারা নন-ক্যাডার পদে যোগ দিতে আগ্রহী নন। অন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো সরকারি যানবাহন ব্যবহারের সুবিধাও পান না তারা। চিকিৎসকদের পদোন্নতি ও উচ্চতর ডিগ্রি নেওয়ারও সুযোগ কম। এসব কারণেই চিকিৎসকরা কারা হাসপাতালে যোগ দিতে নিরুৎসাহিত হন বলে জানান চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কারা চিকিৎসক বলেন, কারাগারে পোস্টিংটা একটা ক্লোজ পোস্টিংয়ের মতো। চিকিৎসকদের পদোন্নতি ও উচ্চতর ডিগ্রি নেওয়ারও সুযোগ তেমন থাকে না। তাই অনেকেই এখানে আসতে চান না।
এদিকে কারারক্ষীদের মধ্য থেকেই বিভিন্ন মেয়াদে প্রশিক্ষণ নিয়ে সাময়িক চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে কারা অধিদপ্তর। কারা সূত্রে জানা যায়, কারারক্ষীদের মধ্যে থেকে যাদের এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগ ছিল এমন সদস্যদের আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ থেকে ৩৬ জনকে প্রশিক্ষণ দিয়ে চিকিৎসাসেবায় যুক্ত করা হয়। এরই মধ্যে ৫৫ জন ডিপ্লোমা নার্স নিয়োগ শেষ পর্যায়ে। এ ছাড়া কারাগারগুলোতে এখনও পূর্ণাঙ্গ ডেন্টাল চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা নেই। তবে সম্প্রতি ডেন্টাল ইউনিট চালু ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কারাগারে একজন মনোরোগ চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও কোনো কারাগারে তা নেই। অথচ কারাবন্দি রোগীদের নিয়মিত কাউন্সেলিং ও বিশেষায়িত চিকিৎসা দরকার।
হাসপাতাল নেওয়ার পথে মৃত্যু ৬৪৬ বন্দির
কারা চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা জানান, বন্দিদের মধ্যে সাধারণত যক্ষ্মা, টাইফয়েড, ডায়াবেটিকস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগে বেশি আক্রান্ত হন। সার্বক্ষণিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকা ও হাসপাতালের দূরত্বের কারণে ঝুঁকিতে পড়েন বন্দিরা। এতে যথাসময়ে চিকিৎসা না পাওয়ায় সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকেন হৃদরোগে আক্রান্ত বন্দিরা। কারাবন্দির মৃত্যুর অধিকাংশই মারা যান হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে। গুরুতর রোগীকে বাইরে নিতে প্রশাসনিক অনুমোদনের কারণে সময়ও লেগে যায়। এতে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে।
কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন কারাগারে মোট এক হাজার ৭৩৬ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫৫ জন নারী এবং এক হাজার ৬৮১ জন পুরুষ। এ সময়ে ৬৪৬ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালে নেওয়ার পথে।
চলতি বছরের ১৮ আগস্ট পর্যন্ত ১২২ জন বন্দি কারা হেফাজতে মারা গেছেন। ২০২৫ সালে কারা মৃত্যু হয় ১৮৭ জনের। তাদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩৬ জন; নারী আটজন। নিহতদের মধ্যে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান ৫১ জন কারাবন্দি।
২০২৪ সালে কারা হেফাজতে মারা গেছেন ৩১৮ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮৯ জন। এদের মধ্যে নারী ১০ জন। অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান ১২৯ জন।
২০২৩ সালে কারা হেফাজতে মারা গেছেন ৩৭৫ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন ২৩২ জন। তাদের মধ্যে পাঁচজন নারী। অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান ১৪৩ জন।
২০২২ সালে কারা হেফাজতে মারা গেছেন ২২৩ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কারাবন্দি নিহত হয়েছেন ১৩৯ জন। এ ছাড়া ওই বছর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান ৮৪ জন।
২০২১ সালে কারা হেফাজতে মারা গেছেন ৩০০ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন ২০৫ জন। অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান ৮৯ জন।
কারা অধিদপ্তরের কারা উপমহাপরিদর্শক (স্বাস্থ্য) লে. কর্নেল মোহাম্মদ আখতার হাসিব দেওয়ান সমকালকে বলেন, কারাগারগুলোতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, জনবল সংকট এবং পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্সের অভাব রয়েছে। নিয়মিত চিকিৎসক না থাকায় কোনো কোনো হাসপাতালে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকার পরও ব্যবহার করা যাচ্ছে না। চিকিৎসক ও জনবল থাকলে দীর্ঘদিন ধরে বিশেষায়িত হাসপাতাল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম চালু করা যাবে এবং বন্দিদের চিকিৎসাসেবায় পরিবর্তন আসতে পারে।
- বিষয় :
- কারাগার