ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

জলাতঙ্কে আক্রান্ত গরুর মাংস বিক্রি, গ্রামে আতঙ্কে

জলাতঙ্কে আক্রান্ত গরুর মাংস বিক্রি, গ্রামে আতঙ্কে
×

সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬ | ০৮:৩৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত গরু জবাই করে মাংস বিক্রির ঘটনা ঘটেছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ওই এলাকায় মাইকিং করে মাংস কাটাকাটিতে জড়িতদের দ্রুত ভ্যাকসিন নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ঘটনায় ক্রেতাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। 

সাটুরিয়ার বরাইদ ইউনিয়নের বড় পয়লা গ্রামের বাসিন্দা রমজান ব্যাপারীর একটি গরুকে পাগলা কুকুরে কামড় দেয়। গরুটি অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করলে তিনি সাটুরিয়া প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. খোকন হোসেনকে বাড়িতে ডেকে নেন। গত রোববার বিকেলে গিয়ে ডা. খোকন হোসেন জানান, গরুটি জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এটি দু-একদিনের মধ্যে মারা যেতে পারে। এটিকে আলাদা করে রাখা ও সংস্পর্শে না যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। এ ছাড়া গরুটির মাংস বিক্রি করা যাবে না বলেও জানান। এরপরও রমজান ব্যাপারী বিষয়টি গোপন রেখে গত সোমবার কম দামে স্থানীয়দের কাছে এটিকে বিক্রি করে দেন। ক্রেতারা ওই রাতেই গরুটিকে জবাই করে মাংস ভাগ করে নেন।
এ ঘটনা জানাজানি হলে সাটুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের কর্মকর্তারা ওই এলাকায় গিয়ে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেন, যারা গরু জবাই করেছেন, মাংস হাত দিয়ে ধরেছেন, বাড়িতে নারীরা মাংস ধুয়েছেন ও গরুর মুখের নালা পরিষ্কার করেছেন তাদের দ্রুত মানিকগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে গিয়ে ভ্যাকসিন নিয়ে আসবেন। ভ্যাকসিন না দিলে ওই গরুর মতো অসুস্থ হয়ে পড়ার কথাও জানানো হয়। এরপর এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

গরুর মালিক রমজান ব্যাপারী বলেন, আমি মনে করেছি আমার গরুকে কুকুরে কামড় দেয়নি ও কোনো রোগ হয়নি। তাই বিক্রি করে দিয়েছি।
মাংসের ভাগ নেওয়া একজন সাদেক আলী বলেন, আমরা ৩১ হাজার টাকায় গরুটি কিনেছিলাম। এটি বিক্রি বা জবাইয়ে নিষেধ ছিল রমজান ব্যাপারী তা আমাদের জানাননি। এখন শুনছি টিকা নিতে হবে। বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।
সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, যারা গরু জবাই থেকে শুরু করে সংস্পর্শে ছিল তাদের সবাইকে প্রতিরোধক ভ্যাকসিন নিতে হবে। অন্যথায় সবাই জলাতঙ্কে আক্রান্ত হবে। এ থেকে সারা গ্রামে রোগ ছড়িয়ে পড়বে বলে তিনি মনে করেন।
সাটুরিয়ার ইউএনও কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম বলেন, বিষয়টি স্পর্শকাতর। আমাকে জানানোর পর গরুটি বিক্রি বা জবাই করতে নিষেধ করা হয়েছিল। এরপরও মালিক গরুটি বিক্রি করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×