গাইবান্ধায় বিএনপি-জামায়াত সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ
ছবি: সমকাল
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬ | ১৪:১২ | আপডেট: ১১ জুন ২০২৬ | ১৪:২৩
গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে একটি পানহাটির (পানের বাজার) নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার পৌর শহরের ছোটশিমুলতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্টের পর থেকেই পানহাটিকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর আগেও একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সেই বিরোধের জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, পানহাটি সংলগ্ন পলাশবাড়ি-ঘোড়াঘাট আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে দুই পক্ষ ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করছে। এ সময় হাতে দেশীয় অস্ত্র ও বাঁশের লাঠি নিয়ে স্লোগান দিতেও দেখা যায়। ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পথচারী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেককে দৌড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে দেখা যায়। সংঘর্ষের সময় পানহাটির দুটি গাছ ও কয়েকটি পানের দোকানের ছাউনি ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
পলাশবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ মণ্ডল বলেন, ‘পানহাটি নিয়ে স্থানীয় একটি পান চাষী সমিতি ও জামায়াত সমর্থিত মেয়র প্রার্থী চান মিয়ার মধ্যে বিরোধ চলছে। এর সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’
অন্যদিকে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘আমি ঢাকায় আছি। এ বিষয়ে এখনি কিছু বলতে চাচ্ছি না।’
গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফ আল রাজিব বলেন, পানহাটিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েকদিন ধরেই বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার সকালে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়টি এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
উল্লেখ্য, একই পানহাটিকে কেন্দ্র করে গত ২০ মে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় উপজেলা জামায়াতের পৌর শাখার অফিস সম্পাদক সামিউল ইসলাম আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩০ মে তিনি মারা যান। ওই ঘটনার পর উভয় পক্ষই পলাশবাড়ী থানায় পৃথক মামলা দায়ের করে।
