ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

পদ্মার বালু ও গ্রুপিং দ্বন্দ্বে উত্তাল পাকশী

পদ্মার বালু ও গ্রুপিং দ্বন্দ্বে উত্তাল পাকশী
×

 ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ | ০৮:৪০

| প্রিন্ট সংস্করণ

পদ্মা নদীর বালু নিয়ন্ত্রণ এবং বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কেন্দ্র করে পূর্ববিরোধের জেরে পাবনার ঈশ্বরদীর পাকশীতে গুলিবর্ষণ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন পাকশী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক খাঁ। বুধবার রাতে উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের চররূপপুর ফটু মার্কেট এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে ‘বিপি’ ও ‘এনআর-২০২১’ লেখা দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের অংশ। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টুর পক্ষে কাজ করায় আব্দুল খালেক খাঁর সঙ্গে ধানের শীষের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থক শাহানুজ্জামান সেনা ও আলমের বিরোধের সৃষ্টি হয়। নির্বাচন-পরবর্তী সময় থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও দ্বন্দ্ব চলছিল।
অভিযোগ রয়েছে, বুধবার রাতে শাহানুজ্জামান সেনা ও তাঁর সহযোগীরা আগ্নেয়াস্ত্র, পাইপ ও লোহার রড নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের কার্যালয়ে হামলা চালায়। এতে আব্দুল খালেক খাঁ গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। শয্যাশায়ী অবস্থায় খালেক খাঁ সেনা, আলম ও আজিজের নাম উল্লেখ করে তাদের হামলার জন্য দায়ী করেন।
খালেক খাঁ দাবি করেন, গত ২৩ মার্চ বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের একটি ভিডিও ফুটেজে অভিযুক্ত আলমকে কোমর থেকে পিস্তল বের করতে দেখা যায় এবং শাহানুজ্জামান সেনা তাঁর পাশে অবস্থান করছিলেন।

স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিদ্রোহী প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টুর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার কারণে খালেক খাঁর ওপর আগে থেকেই ক্ষুব্ধ ছিলেন প্রতিপক্ষ গ্রুপের নেতাকর্মীরা। বুধবার রাতে সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের দাবি।
ঘটনার পর অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আসাদুজ্জামান সরকারের নেতৃত্বে র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার সরকার, পাবনা র‌্যাবের লেফটেন্যান্ট কমান্ডার ওহেদুজ্জামানসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার সরকার বলেন, উদ্ধার হওয়া গুলির খোসা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ঈশ্বরদী থানার ওসি আশাদুর রহমান আসাদ জানান, মামলা দায়েরের পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
এ বিষয়ে কথা বলতে শাহানুজ্জামান সেনা বা আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া যায়নি। 

আরও পড়ুন

×