ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

প্রাগপুর সীমান্ত

শূন্যরেখায় ‘অনিশ্চিত’ রাত কাটবে নারী-শিশুসহ ১২ জনের

শূন্যরেখায় ‘অনিশ্চিত’ রাত কাটবে নারী-শিশুসহ ১২ জনের
×

ছবি: সংগৃহীত

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬ | ০০:২৫ | আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬ | ০০:২৬

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্তে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের শূন্যরেখায় নারী ও শিশুসহ ১২ জন প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেয় বলে। এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান না হওয়ায় তাদেরকে সীমান্তের শূন্যরেখাতেই রাত কাটাতে হচ্ছে। 

শুক্রবার সারাদিন সরেজমিনে দেখা যায়, প্রাগপুর সীমান্তের ৪৮ নম্বর পিলার সংলগ্ন শূন্যরেখায় নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জন একটি জমিতে অবস্থান করছেন। 

প্রচণ্ড তাপদাহের মধ্যে দিন কাটাতে থাকা এসব মানুষের জন্য স্থানীয় বাংলাদেশিরা মাঝে মাঝে খাবার পানি নিয়ে মাথাভাঙ্গা নদীর ওপরের সাঁকো পার হয়ে সেখানে পৌঁছে যাচ্ছেন। তবে অনিশ্চয়তা আর আতঙ্কে কাটছে তাদের সময়। তাপদাহের মধ্যে সারাদিন খোলা আকাশের নিচে অতিবাহিত করেছেন। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই ১২ জনের মধ্যে ৪ জন নারী, ৪ জন পুরুষ এবং ৪ জন শিশু রয়েছে। শিশুদের মধ্যে একজনের বয়স এক থেকে দেড় বছর। ভোরে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবিকে খবর দেন। পরে বিজিবি ও স্থানীয়দের তৎপরতায় তাদের সীমান্তের শূন্যরেখায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে সমাধানের লক্ষ্যে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে তা শেষ পর্যন্ত হয়নি। শনিবার পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে বলে বিজিবি সূত্রে জানা গেছে।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিজিবি-৪৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, শনিবার পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আপাতত ওই ১২ জনকে সীমান্তের শূন্যরেখায় থাকতে হচ্ছে। 

এদিকে প্রাগপুর সীমান্তের ঘটনার পর, শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে দৌলতপুর সীমান্তের ধর্মদহসহ আরও কয়েকটি এলাকা দিয়ে নতুন করে পুশ-ইনের চেষ্টা করছে বিএসএফ। তবে বিজিবি ও এলাকাবাসীর তীব্র তৎপরতার মুখে তারা সফল হতে পারছে না। বিজিবির ধারণা, রাতের অন্ধকারে বিএসএফ পুশ-ইনের জন্য আরও জোর প্রচেষ্টা চালাতে পারে। এই আশঙ্কা থেকে পুরো সীমান্তজুড়ে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীদের যৌথ নজরদারি এবং সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা বজায় রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×